Ajker Patrika

এআইয়ের ফাঁদে পর্যটক, অস্ট্রেলিয়ায় এক অস্তিত্বহীন ঝরনা খুঁজে হয়রান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এআইয়ের ফাঁদে পর্যটক, অস্ট্রেলিয়ায় এক অস্তিত্বহীন ঝরনা খুঁজে হয়রান
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া দ্বীপ তার মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের জন্য পরিচিত। ছবিটি ক্র্যাডল মাউন্টেন ন্যাশনাল পার্কের। ছবি: এএফপি

অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া ভ্রমণে গিয়ে অনেক পর্যটকই খুঁজছিল শান্ত, নিরিবিলি এক উষ্ণ ঝরনা। অনলাইনে পড়েছিল, বনঘেরা ওয়েল্ডবরো এলাকায় আছে ‘ওয়েল্ডবরো হট স্প্রিংস’, যা নাকি হাইকিংপ্রেমীদের প্রিয় জায়গা। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা জানল, এমন কোনো উষ্ণ ঝরনা আদৌ নেই।

একটি ভ্রমণ কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এআই দিয়ে তৈরি ব্লগ থেকেই এই বিভ্রান্তির শুরু। পরে সেটি মুছে ফেলা হলেও তত দিনে অনেক পর্যটক রওনা হয়ে গেছে তাসমানিয়ার উত্তর-পূর্বের ছোট গ্রামীণ শহর ওয়েল্ডবরোর পথে।

অবশ্য অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরস অ্যান্ড ক্রুজেসের মালিক স্কট হেনেসি স্বীকার করেছেন ভুলের কথা। তিনি অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে বলেন, ‘এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও আমাদের পুরোপুরি গড়বড় করে ফেলেছে।’ তিনি জানান, মার্কেটিং কনটেন্ট তৃতীয় পক্ষকে দিয়ে করানো হয়েছিল এবং তিনি বিদেশে থাকায় পোস্টটি যাচাই করতে পারেননি।

হেনেসি বলেন, ‘আমরা প্রতারক নই। আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে মানুষকে ভালো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি...আমরা আসল ব্যবসা করি, বাস্তব মানুষ নিয়েই কাজ করি।’

কোম্পানিটি সিএনএনকে জানায়, এই ঘটনার পর অনলাইনে সমালোচনা ও আক্রমণে তাদের ব্যবসার সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিষয়টি তাদের জন্য ভীষণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মতো।

ওয়েল্ডবরো হোটেলের মালিক ক্রিস্টি প্রোবার্ট প্রথমে ভেবেছিলেন, কেউ হয়তো মজা করছে। সেপ্টেম্বর থেকে একের পর এক ফোন আসতে থাকে উষ্ণ ঝরনার খোঁজে। তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে দু-একটা ফোন ছিল, তারপর হঠাৎ লোকজন দল বেঁধে আসা শুরু করল। দিনে পাঁচটা ফোন আর অন্তত দুই-তিনজন মানুষ হোটেলে চলে আসছিল।’

অবশেষে তিনি মজা করে সবাইকে বলতে শুরু করেন, ‘আপনি যদি এই হট স্প্রিংস খুঁজে পান, তাহলে বিয়ার আমার তরফ থেকে।’

বাস্তবে ওয়েল্ড নদীর পানি বরফশীতল। প্রোবার্টের কথায়, ‘এখানে সাধারণত নীলা আর টিন খুঁজতে আসা লোকজন নামে, তারাও ওয়েটস্যুট পরে নামে।’

ভ্রমণে এআইয়ের ঝুঁকি

অস্ট্রেলিয়ার সাউদার্ন ক্রস বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন বিভাগের অধ্যাপক অ্যান হার্ডি বলেন, এখন ভ্রমণ পরিকল্পনায় এআই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, পর্যটকেরা রিভিউ সাইটের চেয়েও এআইকে বেশি বিশ্বাস করছে। তবে এই প্রযুক্তির বড় সমস্যা হলো তথাকথিত ‘হ্যালুসিনেশন’ বা বানানো তথ্য তৈরি করা।

হার্ডি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, এআই তৈরি প্রায় ৯০ শতাংশ ভ্রমণ সূচিতে কোনো না কোনো ভুল থাকে।

তাসমানিয়ার মতো দুর্গম এলাকায় এ ধরনের ভুল বিপজ্জনকও হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘আমি অনেক ক্ষেত্রে দেখেছি এআই এমন দিনের ট্রেকের পরামর্শ দেয়, যার দূরত্ব, বৈরী পথ বা আবহাওয়ার তথ্য সম্পূর্ণ ভুল।’

তাই তিনি পরামর্শ দেন, শুধু এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে বিশ্বস্ত গাইডবুক, ট্রাভেল এজেন্ট ও স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাই করা উচিত।

ওয়েল্ডবরো হোটেলের মালিক প্রোবার্ট অবশ্য কোম্পানির মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি বলেন, ‘ছোট ব্যবসার জন্য সবকিছু আপডেট রাখা কঠিন। তারা ভদ্র মানুষ বলেই মনে হয়েছে, আমরা সবাই জীবনে ভুল করি। এটাকে আমি বরং একটু মজার ভুলই বলব।’ তবে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘ওয়েল্ডবরোতে অনেক কিছু আছে, শুধু কোনো হট স্প্রিংস নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত