ঈদের ছুটিতে বেশির ভাগ মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরেন কিংবা সপরিবার দূরে কোথাও ঘুরতে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে বাস, ট্রেন বা বিমানে ভ্রমণ করা অনেকের জন্য, বিশেষ করে বয়স্ক এবং যাঁরা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক হতে পারে। অষ্টিওআর্থ্রাইটিসের কারণে জয়েন্টের কার্টিলেজ বা হাড়ের সুরক্ষাকারী স্তর ক্ষয় হয়ে গেলে এবং দীর্ঘক্ষণ নিষ্ক্রিয় থাকলে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথা বাড়ে। হাড়ের মূল উপাদান আমিষ কোজেন ও ক্যালসিয়াম। প্রাকৃতিক নিয়মেই ৩০ বছরের পর থেকে হাড়ের ঘনত্ব ও পরিমাণ কমার কারণে হাঁটু দুর্বল ও ভঙ্গুর হতে থাকে।
বাত-ব্যথা, আর্থ্রাইটিস, প্যারালাইসিস ও ব্যাক পেইন ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ডা. তাসমিন আরা বলেন, ‘৫০ থেকে ৬০ বছরের দিকে হাড় অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। এ জন্য হাড় মজবুত রাখতে হলে আমিষ কোলাজেন ও ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবার খেতে হবে।’
ভ্রমণ আনন্দের হওয়া উচিত, যন্ত্রণার নয়। দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে না থেকে সচল থাকা এবং নিয়ম মেনে চলাই হলো হাঁটুব্যথা এড়ানোর প্রধান মন্ত্র। সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এই সমস্যা অনেকটা কমিয়ে আনতে পারেন।
ভ্রমণকালে হাঁটুব্যথা নিয়ন্ত্রণের উপায়
মাঝেমধ্যে হাঁটাচলা করা: একটানা বসে না থেকে বাস বা ট্রেনের গলিপথে মাঝেমধ্যে একটু হেঁটে নিন। বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সিট থেকে উঠে একটু নড়াচড়া করলে জয়েন্টের জড়তা ও মাংসপেশির ক্র্যাম্প কমে যায়।
নিয়মিত স্ট্রেচিং কিংবা পা প্রসারণ: বসা বা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রতি ১৫-২০ মিনিট পর আপনার পা দুটি সোজা করে স্ট্রেচিং করুন। এটি শুধু আপনার হাঁটুই নয়, বরং হিপ এবং পিঠব্যথার ক্ষেত্রেও বেশ কার্যকর। হাঁটু ভাঁজ করে বেশিক্ষণ বসে না থাকার পরামর্শ দেন ডা. তাসনিম আরা।
সঠিক আসন নির্বাচন: বাস বা ট্রেনে জানালার পাশের সিটের চেয়ে করিডর বা আইল সিট বেছে নেওয়া ভালো। এতে অন্য যাত্রীদের বিরক্ত না করেই আপনি যেকোনো সময় উঠে দাঁড়াতে বা নড়াচড়া করতে পারবেন। বিমানে দীর্ঘ যাত্রা হলে সরাসরি ফ্লাইটের বদলে কানেক্টিং ফ্লাইট বেছে নিলে মাঝখানের বিরতিতে হাঁটাচলার সুযোগ পাওয়া যায়।
ভ্রমণের প্রস্তুতি ও সতর্কবার্তা
পোশাক ও জুতা: ভ্রমণের সময় ঢিলেঢালা বা স্ট্রেচিং করা যায় এমন পোশাক এবং আরামদায়ক ফ্ল্যাট জুতা পরুন। এতে চলাফেরা ও সিঁড়ি ভাঙতে সুবিধা হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ: ভ্রমণের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ব্যথানাশক বা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সঙ্গে রাখুন। প্রয়োজনে হাঁটু শক্তিশালী করার কিছু হালকা ব্যায়াম আগে থেকে শিখে নিতে পারেন।
খাদ্যাভ্যাস: যাত্রাপথে ব্যথানাশক খাবার; যেমন আপেল, কমলার মতো তাজা ফল কিংবা বাদাম এবং বীজজাতীয় স্ন্যাকস সঙ্গে রাখুন। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
সুরক্ষামূলক কিট: রিইউজেবল হট অ্যান্ড কোল্ড প্যাক বা হাঁটু রাখার জন্য ছোট আরামদায়ক বালিশ সঙ্গে নিতে পারেন।
কার ট্রিপ এবং ক্রুজ কন্ট্রোল: কাছাকাছি কোথাও যাওয়ার জন্য নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করা আরামদায়ক হতে পারে। কারণ, আপনি আপনার প্রয়োজনমতো সিট অ্যাডজাস্ট করতে এবং বিরতি নিতে পারবেন। আপনি যদি নিজে গাড়ি চালান, তবে ক্রুজ কন্ট্রোল ফিচারটি ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এতে বারবার হাঁটু বাঁকিয়ে এক্সিলারেটর চাপতে হয় না, ফলে হাঁটু বিশ্রাম পায়।
সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম বা ব্রেস: দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত জয়েন্টের জন্য হাঁটুতে নি-ব্রেস বা সাপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন। এটি হাঁটুর হাড় স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অস্বস্তি কমায়। এ ছাড়া প্রয়োজনে কমপ্রেশন মোজা পরতে পারেন, যা রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক।
সব সময় থাকা হাঁটুর ব্যথা প্রতিরোধের ৭ উপায়
শুধু টানা ভ্রমণ নয়, হাঁটুর ব্যথায় সব সময় ভোগেন এমন মানুষও আছেন। তাঁদের জন্য ডা. তাসনিম আরার কিছু পরামর্শ—
হাঁটু ভাঁজ করে বেশিক্ষণ বসে কাজ করবেন না।
অতিরিক্ত ওজন পরিহার করুন এবং স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখুন।
এক জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবেন না।
ভারী বস্তা বহন করবেন না।
হাই কমোড ব্যবহার করুন।
চেয়ারে বসে খাওয়াদাওয়া ও কাজ করুন।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করার সময় সিঁড়ির রেলিং ধরুন।
সূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য অর্থোপেডিক হেলথ কেয়ার

এখানে সাতজন অদম্য নারীর গল্প বলা হয়েছে, যাঁরা বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যাডভেঞ্চারের সীমানা নতুন করে নির্ধারণ করছেন। এই সাতজন নারী প্রমাণ করেছেন, অ্যাডভেঞ্চার কেবল পতাকা ওড়ানো নয়। বরং এর পেছনে থাকা দর্শন এবং পরিবেশের ওপর ইতিবাচক প্রভাব হলো আসল উদ্দেশ্য। তাঁদের এই যাত্রা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাজার হাজার...
১৭ ঘণ্টা আগে
সঠিক সাজসজ্জা আগত অতিথিদের মনেও এক উষ্ণ আতিথেয়তার অনুভূতি তৈরি করে। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, অনেক কিছু না কিনে যা আছে, তা দিয়েই বাড়িটি পরিপাটি করে সাজিয়ে তোলা। কারণ, ঈদের সাজসজ্জা শুধু ঘর সুন্দর করার জন্য নয়; এটি আমাদের ভালোবাসা ও যত্নেরই বহিঃপ্রকাশ। স্নিগ্ধ আলো, কুশনের কোমলতা কিংবা ঘরের মিষ্টি...
১ দিন আগে
সকাল থেকেই আপনার মেজাজ থাকবে তুঙ্গে। মনে হবে যেন আপনিই পাড়ার ডন! তবে সাবধান, অতিথিরা আপনার পকেটে হানা দিতে পারে। অফিসে বসের সামনে বেশি জ্ঞান দিতে যাবেন না, হিতে বিপরীত হতে পারে। সঙ্গীর সঙ্গে আজ অকারণ তর্কে জড়াতে পারেন।
১ দিন আগে
চৈত্র মাস শুরু হয়ে গেছে। এই তপ্ত দিনে রোজা রাখার পর এক গ্লাস ঠান্ডা ও সতেজ পানীয়ের কোনো বিকল্প নেই। সৌদি আরব ও মিসরে ইফতারের টেবিলের অবিচ্ছেদ্য পানীয় সোবিয়া। সাধারণ কিছু ঘরোয়া উপকরণ দিয়ে তৈরি এই পানীয় শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এর সঙ্গে মিশে আছে কয়েক শ বছরের ইতিহাস। সৌদি আরবের রাস্তায় রমজান মাসে...
১ দিন আগে