গরমের সঙ্গে ঘামের একটা সম্পর্ক আছে। ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি থেকে ঘাম তৈরি হয়। ত্বকে বাস করে একধরনের ব্যাকটেরিয়া। এ দুটো মিলে তৈরি হয় ঘামের দুর্গন্ধ। সাধারণত প্রতিটি মানুষের ঘামের ধরন ও ব্যাকটেরিয়ার ঘনত্ব সম্পূর্ণ আলাদা। তাই মানুষের শরীরের গন্ধও আলাদা আলাদা। কারও কারও শরীরে এমনিতেই গন্ধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। এই সমস্যা অনেকেরই ব্যক্তিগতভাবে বেশ অস্বস্তিকর এবং সামাজিকভাবেও অনেক বিড়ম্বনার কারণ হয়ে থাকে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকে চেষ্টা করেন।
মুক্তির জন্য যা করবেন
- ঘামের দুর্গন্ধ কমানোর জন্য ভালো করে গোসল করুন। এতে ঘর্মগ্রন্থিগুলোর ওপর বাসা বেঁধে থাকা ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমে যাবে আর গায়ের দুর্গন্ধও অনেকটা কমে যাবে।
- গোসলের সময় ভালো মানের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। সাবান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে যেকোনো একটি অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করতে পারেন।
- ভালো করে গোসল করার মতোই দরকার ভালো করে গা মোছা। গায়ে পানি জমে থাকলে সেগুলোও পরে গায়ের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে সাহায্য করে।
- শুধু ডিওডোরেন্ট নয়, দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টিপার্সপিরেন্ট ব্যবহার করুন। ডিওডোরেন্টের কাজ হচ্ছে গায়ের দুর্গন্ধ ঢেকে রাখা। কিন্তু অ্যান্টিপার্সপিরেন্টের কাজ হচ্ছে ঘামের পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে আসা। এটি গায়ের দুর্গন্ধ এড়াতে ভালো কাজ দেয়।
- পরিষ্কার জামাকাপড় পরুন। তাতে ঘামের দুর্গন্ধ কম হবে।
যা মনে রাখবেন
- পেঁয়াজ বা রসুনের মতো খাবার খেলে ঘামের দুর্গন্ধ কিছুটা বাড়ে। খুব গরম পড়লে যদি কোনোভাবেই গায়ের দুর্গন্ধ কমাতে না পারেন, তাহলে এ দুটি জিনিস খাওয়া কমান।
- মদ্যপান করলে ঘামের পরিমাণ বেড়ে গায়ে দুর্গন্ধও বাড়ে।
- যদি এসব পালন করার পরও ঘামের দুর্গন্ধ আপনাকে অতিষ্ঠ করে ফেলে, তাহলে অভিজ্ঞ চর্মরোগ চিকিৎসকের সহায়তা নিন।
লেখক: চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ, জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট










