
গোসল করতে পানিতে নামতে হয়, এটাই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু গোসল যদি হয় গাছপালা আর বন জঙ্গলের মাঝে, পায়ের নিচে শুকনো পাতার মচমচ শব্দ আর চারপাশে পাখির ডাক শুনতে শুনতে? জাপানে এমনই এক অভ্যাসের নাম শিনরিন-ইয়োকু বা ফরেস্ট বাথিং। এখানে পানি দিয়ে শরীর ধোয়ার কোনো বিষয় নেই; বরং বনের পরিবেশ, বাতাস, গন্ধ, শব্দ ও সবুজের মধ্যে নিজেকে ধীরে ধীরে ডুবিয়ে দেওয়াই এর মূলকথা। জাপানি ভাষায় ‘শিনরিন’ অর্থ বন এবং ‘ইয়োকু’ অর্থ গোসল বা স্নান। আশির দশকে জাপানে এই ধারণা জনপ্রিয় হতে শুরু করে। শহুরে ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময় কাজ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের বাইরে মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়াই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রশ্ন হলো, জাপানের অধিবাসীরা কেন এটি করেন?
ফরেস্ট বাথিংয়ের শিকড় জাপানে। ১৯৮২ সালে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় শিনরিন-ইয়োকু শব্দটির প্রচলন করে। দ্রুত নগরায়ণ, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং বাড়তে থাকা মানসিক চাপ, এমন অবস্থায় মানুষকে বনের পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে উৎসাহিত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। অর্থাৎ এটি শুরু থেকে শুধু বিনোদন বা ব্যায়াম হিসেবে নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের নেতিবাচক দিকগুলোর প্রতিরোধমূলক চর্চা হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। বনের আবহে নিজেকে ধীরে ধীরে নিমজ্জিত করাকেই বলা হয় ফরেস্ট বাথিং। জাপানে শুরু হওয়ার পর কয়েক দশক ধরে এ নিয়ে গবেষণা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ধারণাটি জাপানের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
ফরেস্ট বাথিং কোনো সাধারণ জঙ্গল ভ্রমণ বা দ্রুত হাঁটার নাম নয়। এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো দূরত্ব অতিক্রম করাও জরুরি নয়; বরং ধীরে হাঁটতে হাঁটতে চারপাশের পরিবেশ মন দিয়ে অনুভব করাই গুরুত্বপূর্ণ। গাছের পাতার নড়াচড়া দেখা, পাখির ডাক শোনা, মাটির গন্ধ অনুভব করা কিংবা বাতাসের স্পর্শ টের পাওয়া—প্রকৃতির এসব ছোট ছোট বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া হয় ফরেস্ট বাথিংয়ে।

ফরেস্ট বাথিংয়ের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো দৈনন্দিন ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে থাকা। তাই এই সময়ে মোবাইল ফোনে বারবার চোখ না রেখে চারপাশের প্রকৃতিতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শহুরে জীবনে দিনের বড় একটি অংশ কেটে যায় মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন আর যন্ত্রপাতির সামনে। ফলে প্রকৃতির সঙ্গে সচেতনভাবে কিছুটা সময় কাটানো অনেকের কাছেই একধরনের মানসিক বিরতি হয়ে উঠতে পারে।
ফরেস্ট বাথিং নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর কিছু ইতিবাচক প্রভাবের কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ক্লান্তি কমাতে এবং স্বস্তির অনুভূতি তৈরিতে প্রকৃতির ভূমিকা নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। বনের বাতাসে থাকা বিভিন্ন প্রাকৃতিক রাসায়নিক উপাদান, যেগুলো গাছপালা নিজেদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করে, সেগুলো নিয়েও গবেষণা হয়েছে। ধীরগতিতে হাঁটা এবং শান্ত পরিবেশে থাকার কারণে হৃৎস্পন্দন ও মানসিক উত্তেজনা কমার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। ফরেস্ট বাথিংকে কোনো রোগের চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর একটি সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস।
ফরেস্ট বাথিংয়ের জন্য সব সময় ঘন জঙ্গলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বড় কোনো পার্ক, বাগান কিংবা গাছপালায় ঘেরা শান্ত জায়গাতেও এর মূল ধারণা অনুসরণ করা সম্ভব। গুরুত্বপূর্ণ হলো জায়গাটিকে শুধু হেঁটে অতিক্রম করা নয়, কিছুটা সময় নিয়ে সচেতনভাবে উপভোগ করা। হাঁটার সময় মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, তাড়াহুড়ো না করা এবং চারপাশের পরিবেশের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। কিছুক্ষণ বসে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়া কিংবা গাছের ছায়ায় নীরবে সময় কাটানোও হতে পারে এই অভ্যাসের অংশ।
যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া জাপানের মানুষেরা নিজেদের ফিরে পেতে ফরেস্ট বাথিং করছেন। আপনিও কি নিজেকে ফিরে পেতে চান? তাহলে আপনার মতো করে ফরেস্ট বাথিংয়ের আয়োজন করতে পারেন।
সূত্র: ওয়ান মোর ট্রি, ফরেস্ট থেরাপি হাব

যে অঙ্ককে এড়িয়ে চলতে আমরা এত কসরত করি, সেই অঙ্কের শক্তির ওপর নির্ভর করেই কিন্তু গড়ে উঠেছে আধুনিক সভ্যতার প্রযুক্তিগত রাজত্ব। কেউ গণিতকে বলে বিমূর্ত বা জটিল হিসাবের বিজ্ঞান, আবার কারও কাছে এটি স্রেফ সংখ্যা আর সূত্রের গোলকধাঁধা। তবে এই গোলকধাঁধাকে জয় করা শীর্ষ বিজ্ঞানী ও তরুণ শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক...
৩ ঘণ্টা আগে
অক্টোবর মাসকে বিশ্বব্যাপী স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। এই মাসজুড়ে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ, প্রতিরোধ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছর বিশ্ব স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাসের মূল প্রতিপাদ্য, ‘প্রতিটি গল্পই অনন্য,
৮ ঘণ্টা আগে
দিনের ক্লান্তি ভুলে পরম শান্তিতে ঘুমানোর জায়গা হলো শোয়ার ঘর। শুধু আরামদায়ক বিছানা থাকলেই যে সব সময় গভীর ঘুম হবে, এমনটি নয়। ঘরের সাজসজ্জা, আলো, বাতাস ও ছোটখাটো অনেক উপাদান ঘুমে গভীর প্রভাব ফেলে।
৯ ঘণ্টা আগে
পূজার দিন গোনা শুরু হয়ে গেছে। ঢাকের শব্দ, মণ্ডপে আলোকসজ্জা আর নতুন পোশাকের আনন্দের পাশাপাশি পূজার সাজে পূর্ণতা দিতে গয়নার বিকল্প নেই। এবার ষষ্ঠী থেকে দশমী—প্রতিদিনের সাজে ভিন্নতা আনতে এবং আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলতে গয়নার নির্বাচনে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটাতে পারেন।
৯ ঘণ্টা আগে