
ঈদ মানে উৎসব আর আনন্দ, বেশি বেশি দাওয়াত আর খাওয়াদাওয়া। খেয়েও কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবেন, তা নিয়ে ভাবনার শেষ নেই অনেকের। তাই ভেবেচিন্তে খাবারের মেনু ঠিক করে রাখুন আগেভাবেই; যাতে ইদের মজাদার খাবারগুলো মিস হওয়ার সুযোগ না থাকে, আবার আপনি সুস্থও থাকেন।
আপনার খাবারের মেনুতে সঠিক উপাদান স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উপস্থিত থাকলে শরীর থাকবে সুস্থ ও স্বাভাবিক। খাবারের মেনু এমন হতে হবে যেন খাবারে ৩০ শতাংশ আমিষ, ৩০ শতাংশ শর্করা, ৩০ শতাংশ সবজি আর ১০ শতাংশ চর্বি থাকে। তবে আমরা বাঙালিরা মূলত শর্করাজাতীয় খাবার বেশি খেয়ে থাকি। মাংস অবশ্যই খাবেন, তবে পরিমিত পরিমাণে। যাতে আপনার পাতে যে পরিমাণ চর্বি থাকা আদর্শ, সেই পরিমাণ চর্বিই থাকে। ঈদে অবশ্যই প্রচুর দাওয়াত থাকবে এবং তা এড়ানো সম্ভব নয়। দাওয়াতে কম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করবেন। কোল্ড ড্রিংকস খাবেন না, চর্বি বাদ দিয়ে মাংস খাবেন। সঙ্গে অবশ্যই সবজি অথবা সালাদ খাওয়ার চেষ্টা করবেন।

গরুর মাংস প্রোটিনের চমৎকার উৎস। এতে আরও আছে জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং বিপুল পরিমাণ আয়রন। গরুর মাংসের প্রোটিন থেকে যে অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়, তা হাড় ও মাংসপেশি গঠন এবং রক্তশূন্যতা পূরণে কাজ করে। এই ঈদে মাংস খেতে না পারলে অনেকের মন খারাপ হয়ে যায়। তাই ঈদে মন খারাপ না করে বরং পরিমিত মাংস খান। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে—
প্রয়োজনের বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে তা চর্বি আকারে আপনার পেটে জমা হবে। তাই অতিরিক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। সাধারণত তেল-চর্বিজাতীয় খাবার এবং শর্করাজাতীয় খাবারের ক্যালরি ভ্যালু বেশি থাকে। সেগুলো কম খেতে হবে বা এড়িয়ে চলতে হবে। সফট ড্রিংকসের ক্যালরি ভ্যালু বেশি। রাতের খাবার যথাসম্ভব আগে খেতে হবে এবং ভারী খাবার না খাওয়া যাবে না। খাবারের পরপরই শুয়ে না পড়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ঘরের মধ্যে হাঁটাহাঁটি করুন। এরপর ঘুমাতে যান। ঈদে সেমাই একটু খেয়েই থাকেন সবাই। এই জাতীয় খাবার গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের উৎস। এমন খাবার সরাসরি রক্তে মিশে যায় এবং ওজন বাড়ায়। তাই চিনির পরিবর্তে সেমাইতে আর্টিফিশিয়াল চিনি ব্যবহার করতে পারেন।
আপনি যা অতিরিক্ত খাবেন, তা চাইলেই ব্যায়ামের মাধ্যমে কমিয়ে ফেলতে পারেন। তাহলে বেশি খেয়েও আপনার ওজন বাড়বে না। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করা বা হাঁটার সুযোগ না হলে ঘরের মধ্যে প্রতিদিন খাবারের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। অনেকে বলেন, খাবার নিয়ন্ত্রণ করেও ওজন কমাতে পারছেন না। তাঁদের জন্য হরমোন বিশেষজ্ঞরা ওজন কমানোর কিছু ইনজেকশন ব্যবহার করেন। অতিরিক্ত ওজন যে আপনাকে শুধু সামাজিকভাবে হেয় করে, এমন নয়। এখান থেকে ডায়াবেটিস, ফ্যাটিলিভার, পিসিওএস, ইনফার্টিলিটি, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁটুব্যথা বা কোমরে ব্যথার মতো রোগ হতে পারে।
ঈদ মানে আনন্দ। এই আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন থাকার কোনো বিকল্প নেই। একবারে অনেক না খেয়ে সেই খাবার একাধিকবার খেতে পারেন। এতে খাওয়াও হবে, আবার অতিরিক্ত ক্যালরিও গ্রহণ করা হবে না। এতে সুস্থ থাকা যাবে খুব সহজে।
লেখক: এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল, কাকরাইল, ঢাকা

রাতে মাত্র একটি তরকারিই রান্না করা কথা ভাবছেন? যা দিয়ে অনায়াসে এক প্লেট ভাত খেয়ে নেওয়া যাবে! আপনাদের জন্য এমনই একটি রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৬ ঘণ্টা আগে
ইতিহাস, স্থাপত্য আর আধুনিক গ্রাফিকসের অনন্য মিশেলে এবারের বিশ্বকাপের জার্সিগুলোতে ঘটেছে টাইপোগ্রাফি বিপ্লব। জার্সির নম্বর ও নামের ফন্টগুলোতে এবারও নিখুঁত ইতিহাস আর জ্যামিতিক কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ফিফার কঠিন সব নিয়ম মেনেও জার্সির নম্বরের মাধ্যমে একেকটি দেশের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে...
৮ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের সময় কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়া অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং উদ্বেগজনক। আবহাওয়া বা বিমানবন্দরজটের মতো কিছু বিষয় যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও কিছু পূর্বপ্রস্তুতি এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। একজন অবসরপ্রাপ্ত ইউনাইটেড ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট কানেকটিং ফ্লাইট মিস হওয়ার প্রধান পাঁচটি ভুল...
৯ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণের কথা মাথায় এলে আমরা অনেকেই এমনভাবে পরিকল্পনা করি, যাতে পকেটও বাঁচবে, মনও ভরবে। এ ক্ষেত্রে ভ্রমণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বেছে নিতে পারেন। সে দেশগুলোতে ভ্রমণের রোমাঞ্চ পাবেন অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে একেবারে আলাদা। তবে এই ভ্রমণ নিখুঁত ও নিরাপদ করতে ৯টি বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি।
৯ ঘণ্টা আগে