Ajker Patrika

বয়সের ছাপ রুখতে কী খাবেন, কী খাবেন না

ফিচার ডেস্ক
বয়সের ছাপ রুখতে কী খাবেন, কী খাবেন না
প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং সুস্থ চর্বিসমৃদ্ধ খাবারগুলো আমাদের শরীরের কোলাজেন ধরে রাখতে এবং কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

বয়স বৃদ্ধি জীবনের এক চরম সত্য। কিন্তু এই বেড়ে চলা বয়সকে অনেকে মেনে নিতে পারেন না। আগের শক্তি কিংবা কাজের গতি ধীরে ধীরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমতে থাকে। তেমনই আমাদের ত্বকে তার প্রভাব পড়তে শুরু করে। অনেকে বয়সের এই ছাপ লুকাতে দামি ক্রিম, লোশন বা সেরামের ওপর ভরসা করেন।

কিন্তু সত্যি বলতে, ভেতর থেকে পুষ্টি না পেলে শুধু বাইরের যত্ন ত্বক দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর রাখতে পারে না। প্রতিদিন কী খাচ্ছি, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকের নমনীয়তা, কোলাজেন উৎপাদন এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর। বিজ্ঞানীদের মতে, শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা কোষের ক্ষয় এবং ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ হলো দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। কিছু খাবার এই ক্ষয় রোধ করে তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়ক, আবার কিছু খাবার বার্ধক্যের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত করে। এগুলো জেনে নিয়ে গড়ে তুলতে পারেন আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস।

বয়সের ছাপ রুখতে কী খাবেন

প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং সুস্থ চর্বিসমৃদ্ধ খাবারগুলো আমাদের শরীরের কোলাজেন ধরে রাখতে এবং কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

ব্রকলি: একে পুষ্টির পাওয়ার হাউস বলা হয়। এই ক্রুসিফেরাস সবজি ভিটামিন সি এবং কে-তে ভরপুর। ভিটামিন সি ত্বকের প্রধান প্রোটিন কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে, যা ত্বক টানটান রাখে। এ ছাড়া এর ক্যালসিয়াম হাড় ভালো রাখে এবং লুটেন নামক উপাদান মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।

লাল ক্যাপসিকাম: এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের খনি। এতে রয়েছে প্রচুর ক্যারোটিন, যা সবজির উজ্জ্বল লাল রং তৈরি করে। এই ক্যারোটিনয়েডের প্রদাহবিরোধী গুণ সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা করে।

পালংশাক: ত্বকের আর্দ্রতার উৎস এই শাক। এটি সুপার ফুড, যা শরীর হাইড্রেটেড বা সজল রাখে। ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং আয়রনসমৃদ্ধ পালংশাক কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এর ভিটামিন ‘এ’ চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে।

মিষ্টিআলু: মিষ্টিআলুর চমৎকার কমলা রঙের উৎস হলো বিটাক্যারোটিন। আমাদের শরীর এটিকে ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তর করে, যা ত্বকের ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা ফিরিয়ে আনে এবং মরা কোষ দূর করে নতুন কোষ গজাতে সাহায্য করে।

অ্যাভোকাডো: শরীরে সুস্থ চর্বির জাদুকরি প্রভাব ফেলতে পারে অ্যাভোকাডো। এতে রয়েছে প্রচুর ফ্যাটি অ্যাসিড, যা শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমায়; বিশেষ করে নারীদের নিয়মিত অ্যাভোকাডো খাওয়ার ফলে ত্বকের স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা দ্রুত বাড়ে।

পেঁপে: হজম ও রোগ প্রতিরোধে অনন্য এটি। পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন নামের এনজাইমটি হজমশক্তি বাড়ায়। এর গাঁজন করা নির্যাস আলঝেইমার বা ডিমেনশিয়ার মতো বয়সজনিত রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাদাম: বাদামের ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে; বিশেষ করে কাঠবাদাম ও আখরোট। আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের কোষের ঝিল্লি বা মেমব্রেন মজবুত করে। তবে বাদাম সব সময় খোসাসহ খাওয়া উচিত। কারণ, খোসা ফেলে দিলে এর অর্ধেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নষ্ট হয়ে যায়।

ডালিমের দানা: কোষের শক্তিবর্ধক হিসেবে ডালিম ভালো ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা পুনিক্যালাজিন এবং ইউরোলিথিন এ নামক যৌগ শরীরের মাইটোকন্ড্রিয়ার স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির ক্ষয় রোধ করতে জাদুর মতো কাজ করে।

বয়স বাড়িয়ে দেয় যে খাবারগুলো

খাবারে থাকা অতিরিক্ত চিনি যখন প্রোটিন বা চর্বির সঙ্গে মিশে যায়, তখন গ্লাইকেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হয়। এটি কোলাজেন ও ইলাস্টিন ধ্বংস করে আমাদের দ্রুত বুড়িয়ে দেয়।

ক্ষতিকর প্রক্রিয়াজাত ফুড বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে প্লেটে যত বেশি রঙিন সবজি আর ফলমূলের জায়গা দেবেন, আপনার ত্বক ও শরীর তত দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও চিরসবুজ থাকবে। ছবি: পেক্সেলস
ক্ষতিকর প্রক্রিয়াজাত ফুড বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে প্লেটে যত বেশি রঙিন সবজি আর ফলমূলের জায়গা দেবেন, আপনার ত্বক ও শরীর তত দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও চিরসবুজ থাকবে। ছবি: পেক্সেলস

যে খাবারগুলো বাদ দেবেন—

ঝাল খাবার রক্তনালির প্রসার ঘটায়, ফলে মুখে লালচে বা বেগুনি দাগ পড়তে পারে; বিশেষ করে মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে।

উচ্চ তাপমাত্রায় ভাজা খাবার শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে, যা ডিএনএর ক্ষতি করে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি কমিয়ে দ্রুত বলিরেখা বা কুঁচকানো ভাব তৈরি করে।

কোলাজেন ও ইলাস্টিন তৈরির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে চিনি। ফলে ত্বক ঝুলে পড়ে এবং ব্রণের সমস্যা বাড়ে।

ডালডায় থাকা ট্রান্সফ্যাট শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং ইনফ্লামেশন তৈরি করে। এটি সূর্যের আলোর প্রতি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে শরীরে।

প্রক্রিয়াজাত মাংসে প্রচুর সোডিয়াম ও সালফাইট থাকে, যা ত্বক ডিহাইড্রেটেড বা পানিশূন্য করে দেয় এবং কোলাজেন দুর্বল করে ফেলে।

সবার ক্ষেত্রে না হলেও অনেকের শরীরে অতিরিক্ত দুধ বা দুধজাত খাবার অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহ তৈরি করে, যা বলিরেখার ঝুঁকি বাড়ায়।

কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকস অতিরিক্ত চিনিযুক্ত। এই পানীয়গুলো শরীরের কোষের বয়স দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট করে।

ক্যাফেইন শরীর পানিশূন্য এবং ত্বক শুষ্ক করে। অন্যদিকে অ্যালকোহল শরীরের ভিটামিন ‘এ’ এবং পুষ্টি উপাদান ধ্বংস করে, যা নতুন কোষ গঠনে বাধা দেয়।

উচ্চ তাপমাত্রায় কয়লায় পোড়ানো বা গ্রিল করা মাংস ধমনি শক্ত করে ফেলে এবং শরীরে এমন কিছু উপাদান তৈরি করে, যা মানসিক অবসাদ ও আলঝেইমারের ঝুঁকি বাড়ায়।

কর্ন অয়েল বা সানফ্লাওয়ার অয়েলের মতো পলি-আনস্যাচুরেটেড তেল উচ্চ তাপমাত্রায় ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি করে। এর চেয়ে অলিভ অয়েলের মতো মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ত্বকের আর্দ্রতার জন্য অনেক নিরাপদ।

তারুণ্য ধরে রাখার মানে এই নয় যে আপনি পছন্দের সব খাবার চিরতরে বন্ধ করে দেবেন। আসল চাবিকাঠি হলো সুষম ও বৈজ্ঞানিক ডায়েট চার্ট তৈরি করা। ক্ষতিকর প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ভাজাপোড়া এড়িয়ে প্লেটে যত বেশি রঙিন সবজি আর ফলমূলের জায়গা দেবেন, আপনার ত্বক ও শরীর তত দীর্ঘ সময় ধরে সতেজ ও চিরসবুজ থাকবে।

সূত্র: হেলথ লাইন, গুড ফুড

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত