
পরিবারে নতুন একজন সদস্য আসা মানেই শুধু নতুন সম্পর্ক নয়; বরং পুরো পারিবারিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের শুরু। সন্তানের বিয়ে মানে বাবা-মায়ের জীবনে যেমন আনন্দ, তেমনি নতুন কিছু দুশ্চিন্তারও শুরু বটে। নতুন বউকে কীভাবে স্বাগত জানাবেন, কীভাবে কথা বলবেন, কোন আচরণটা ঠিক হবে—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মাথায় ঘুরপাক খায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দিকের আচরণই অনেক সময় ভবিষ্যতের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তাই শুরুতেই সম্মান, সহানুভূতি আর ধৈর্যের জায়গাটা ঠিক রাখা গেলে সম্পর্ক অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর হয়।
পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে নিন
নতুন বউ পরিবারে এলে দৈনন্দিন অনেক কিছুই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। খাওয়ার সময়, বসার ধরন, কথা বলার ভঙ্গি, এমনকি উৎসব বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভ্যাসও আলাদা হতে পারে। কেউ হয়তো ভিন্ন ধরনের খাবারে অভ্যস্ত, কেউ আবার অন্য পরিবেশ বা সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন। ফলে তাঁর আচরণেও পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এসব বিষয় সমস্যা হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে মেনে নিতে পারলে সম্পর্কের শুরুটাই হয় অনেক সহজ।
সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক
বিয়ের আগে সন্তানদের জীবনে বাবা-মায়ের গুরুত্ব বেশি থাকে। কিন্তু বিয়ের পর তাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে জীবনসঙ্গী। এই পরিবর্তন অনেক বাবা-মায়ের জন্য মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করাই সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কের প্রথম ধাপ। প্রতিযোগিতা না করে নতুন সম্পর্ককে সম্মান করলে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও পরিণত হয়।

মন খুলে কথা বলুন
নতুন বউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সহজ উপায় হলো আগ্রহ দেখানো। শুধু হ্যাঁ-না উত্তর পাওয়া যায় তেমন প্রশ্নের বদলে এমন প্রশ্ন করুন, যাতে তাঁরা নিজের কথা বলতে পারেন। যেমন ছোটবেলার স্মৃতি, পছন্দের খাবার, কাজ বা শখ নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। এতে তাঁরা বুঝতে পারবেন যে আপনি সত্যিই তাঁর সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। অনেক সময় আমরা বেশি কথা বলে ফেলি। কিন্তু প্রথম দিকের পরিচয়ে বেশি বলার চেয়ে নতুন সদস্যের কথা শোনা বেশি প্রয়োজন।
বিভিন্ন মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন
প্রথম দিকে নিজের খুব বেশি মতামত প্রকাশ না করাই ভালো। কোনো কিছু অদ্ভুত বা ভিন্ন মনে হলেও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে নতুন সদস্য নিজের মতো করে পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহজ বোধ করেন।
উপদেশ দেওয়ার আগে অনুমতি নিন
বাবা-মায়ের স্বভাবগত অভ্যাসই হলো উপদেশ দেওয়া। কিন্তু নতুন দম্পতির জীবনে সেটা অনেক সময় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই আগে জেনে নেওয়া ভালো, তাঁরা আদৌ পরামর্শ চান কি না। পরামর্শ দিলে সেটাকে আদেশের মতো না করে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প হিসেবে তুলে ধরলে তা বেশি ভালো হবে।
সীমারেখা মেনে চলুন এবং সম্মান করুন
বিয়ের পর সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সীমারেখা তৈরি হয়। কোন বিষয়ে কতটা যুক্ত থাকা উচিত, সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি। হঠাৎ করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই যোগাযোগ রাখুন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না।
নিজের প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকুন
এই পরিবর্তনের সময়ে শুধু নতুন দম্পতিই নয়, বাবা-মায়েরাও মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন। নিজের অস্বস্তি বা ভয়কে স্বাভাবিক হিসেবে নিন। সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে, এমন চাপ নিজের ওপর না দিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো পথ।
সময় দিন, সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হোন
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। নতুন সম্পর্ক, নতুন সমীকরণ, নতুন প্রত্যাশা—সবকিছু এক দিনে ঠিক হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে একে অপরকে বুঝে নেওয়ার মধ্য দিয়েই সম্পর্ক গভীর হয়। পরিবারের সবাইকে সময় দিতে হবে বুঝে নিতে যে কী বদলাচ্ছে, কীভাবে বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়াটা চলমান।
সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

বিজ্ঞান বলছে, পাখির গান বা ‘ডন কোরাস’ কেবল শোনার জন্য মনোরম, তা নয়—এটি আমাদের মস্তিষ্কের জন্য এক অনন্য মহৌষধ। ভোরের পাখির মিষ্টি সুর আমাদের মন থেকে দুশ্চিন্তা, বিষণ্নতা এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে জাদুর মতো কাজ করে। যখন মানুষ পাখির ডাক শোনে বা পাখি দেখে, তখন তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি কয়েক...
৯ ঘণ্টা আগে
একসময় ছিল যখন পাড়ার মোড়ের আড্ডায় কিংবা চায়ের কাপে ঝড় তোলার মূল রসদ ছিল বই। কোনো এক নতুন রহস্য উপন্যাসের রোমাঞ্চ অথবা দস্তয়েভস্কি-রবীন্দ্রনাথের কোনো জটিল দর্শন নিয়ে আলোচনা চলে যেত তুঙ্গে। কে কোন বই পড়ল, কার কোন চরিত্রের প্রতি মায়া জন্মাল সেসব আলোচনা না থাকলে যেন আড্ডাটাই জমত না।
১০ ঘণ্টা আগে
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া ভ্রমণে গিয়ে অনেক পর্যটকই খুঁজছিল শান্ত, নিরিবিলি এক উষ্ণ ঝরনা। অনলাইনে পড়েছিল, বনঘেরা ওয়েল্ডবরো এলাকায় আছে ‘ওয়েল্ডবরো হট স্প্রিংস’, যা নাকি হাইকিংপ্রেমীদের প্রিয় জায়গা। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা জানল, এমন কোনো উষ্ণ ঝরনা আদৌ নেই।
১০ ঘণ্টা আগে
লেনি নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ও মনোরম রামেলটন শহরের ফুটবল ক্লাব ‘সুইলি রোভার্স’ ১৯৬০-এর দশকে বড় দুটি শিরোপা জেতে। তখন বিজয় উদ্যাপনে ট্রফির ভেতর মদ ঢেলে সবাই মিলে পান করার রীতি ছিল। কিন্তু ম্যাকডেইড পরিবারের সদস্যরা চেয়েছিলেন খেলোয়াড়রা যেন মদ না খেয়েও উদ্যাপন করতে পারেন।
১০ ঘণ্টা আগে