Ajker Patrika

পরিবারে নতুন বউকে স্বাগত জানানোর ৮ পরামর্শ

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
আপডেট : ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ৩৫
পরিবারে নতুন বউকে স্বাগত জানানোর ৮ পরামর্শ
প্রথম দিকের আচরণই অনেক সময় ভবিষ্যতের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। প্রতীকী ছবি: ফ্রিপিক

পরিবারে নতুন একজন সদস্য আসা মানেই শুধু নতুন সম্পর্ক নয়; বরং পুরো পারিবারিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের শুরু। সন্তানের বিয়ে মানে বাবা-মায়ের জীবনে যেমন আনন্দ, তেমনি নতুন কিছু দুশ্চিন্তারও শুরু বটে। নতুন বউকে কীভাবে স্বাগত জানাবেন, কীভাবে কথা বলবেন, কোন আচরণটা ঠিক হবে—এই প্রশ্নগুলো অনেকের মাথায় ঘুরপাক খায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দিকের আচরণই অনেক সময় ভবিষ্যতের সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। তাই শুরুতেই সম্মান, সহানুভূতি আর ধৈর্যের জায়গাটা ঠিক রাখা গেলে সম্পর্ক অনেক বেশি সহজ ও সুন্দর হয়।

পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে নিন

নতুন বউ পরিবারে এলে দৈনন্দিন অনেক কিছুই ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করে। খাওয়ার সময়, বসার ধরন, কথা বলার ভঙ্গি, এমনকি উৎসব বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভ্যাসও আলাদা হতে পারে। কেউ হয়তো ভিন্ন ধরনের খাবারে অভ্যস্ত, কেউ আবার অন্য পরিবেশ বা সংস্কৃতিতে বড় হয়েছেন। ফলে তাঁর আচরণেও পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এসব বিষয় সমস্যা হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক পরিবর্তন হিসেবে মেনে নিতে পারলে সম্পর্কের শুরুটাই হয় অনেক সহজ।

সন্তানের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নিজের দাম্পত্য সম্পর্ক

বিয়ের আগে সন্তানদের জীবনে বাবা-মায়ের গুরুত্ব বেশি থাকে। কিন্তু বিয়ের পর তাদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে জীবনসঙ্গী। এই পরিবর্তন অনেক বাবা-মায়ের জন্য মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়। এই বাস্তবতাকে স্বীকার করাই সুস্থ পারিবারিক সম্পর্কের প্রথম ধাপ। প্রতিযোগিতা না করে নতুন সম্পর্ককে সম্মান করলে সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও পরিণত হয়।

বিয়ের পর সন্তানদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে জীবনসঙ্গী। ছবি: পেক্সেলস
বিয়ের পর সন্তানদের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে জীবনসঙ্গী। ছবি: পেক্সেলস

মন খুলে কথা বলুন

নতুন বউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার সহজ উপায় হলো আগ্রহ দেখানো। শুধু হ্যাঁ-না উত্তর পাওয়া যায় তেমন প্রশ্নের বদলে এমন প্রশ্ন করুন, যাতে তাঁরা নিজের কথা বলতে পারেন। যেমন ছোটবেলার স্মৃতি, পছন্দের খাবার, কাজ বা শখ নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। এতে তাঁরা বুঝতে পারবেন যে আপনি সত্যিই তাঁর সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। অনেক সময় আমরা বেশি কথা বলে ফেলি। কিন্তু প্রথম দিকের পরিচয়ে বেশি বলার চেয়ে নতুন সদস্যের কথা শোনা বেশি প্রয়োজন।

বিভিন্ন মন্তব্য থেকে বিরত থাকুন

প্রথম দিকে নিজের খুব বেশি মতামত প্রকাশ না করাই ভালো। কোনো কিছু অদ্ভুত বা ভিন্ন মনে হলেও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে পরিস্থিতি বুঝতে পারা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে নতুন সদস্য নিজের মতো করে পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সহজ বোধ করেন।

উপদেশ দেওয়ার আগে অনুমতি নিন

বাবা-মায়ের স্বভাবগত অভ্যাসই হলো উপদেশ দেওয়া। কিন্তু নতুন দম্পতির জীবনে সেটা অনেক সময় চাপ তৈরি করতে পারে। তাই আগে জেনে নেওয়া ভালো, তাঁরা আদৌ পরামর্শ চান কি না। পরামর্শ দিলে সেটাকে আদেশের মতো না করে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প হিসেবে তুলে ধরলে তা বেশি ভালো হবে।

সীমারেখা মেনে চলুন এবং সম্মান করুন

বিয়ের পর সন্তানের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সীমারেখা তৈরি হয়। কোন বিষয়ে কতটা যুক্ত থাকা উচিত, সেটা বুঝে নেওয়া জরুরি। হঠাৎ করে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করলে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে পারে। তাই যোগাযোগ রাখুন, কিন্তু নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করবেন না।

নিজের প্রতিও সহানুভূতিশীল থাকুন

এই পরিবর্তনের সময়ে শুধু নতুন দম্পতিই নয়, বাবা-মায়েরাও মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন। নিজের অস্বস্তি বা ভয়কে স্বাভাবিক হিসেবে নিন। সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে হবে, এমন চাপ নিজের ওপর না দিয়ে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো পথ।

সময় দিন, সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়ক হোন

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। নতুন সম্পর্ক, নতুন সমীকরণ, নতুন প্রত্যাশা—সবকিছু এক দিনে ঠিক হয়ে যায় না। ধীরে ধীরে একে অপরকে বুঝে নেওয়ার মধ্য দিয়েই সম্পর্ক গভীর হয়। পরিবারের সবাইকে সময় দিতে হবে বুঝে নিতে যে কী বদলাচ্ছে, কীভাবে বদলাচ্ছে এবং সেই পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। এই প্রক্রিয়াটা চলমান।

সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত