ফিচার ডেস্ক

জরিপ করলে ঘুমকাতুরে বাঙালির সংখ্যাই হয়তো বেশি পাওয়া যাবে। কেউ ঘুমাতে ভালোবাসেন আয়োজন করে। আবার কেউ একটু ঠেস দিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা পেলেও ঘুমিয়ে নেবেন এক চুমুক। তবে আয়েশ করে ঘুমাতে ভালোবাসেন, এমন কাউকে যদি দীর্ঘ যাত্রা করতে হয় বিমানে, তাহলে তিনি কিছুটা বিপদেই পড়েন বৈকি! কারণ ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের সিটে বসে ঘুমানো মোটেও আরামদায়ক কোনো অভিজ্ঞতা নয়। তাই তাদের জন্য লম্বা জার্নির বিমান যাত্রায় ভালো ঘুমের জন্য কিছু টিপস জেনে রাখা ভালো। কিছু কৌশল জানা থাকলে এ কঠিন কাজটিকেও সহজ করে তোলা সম্ভব। তাহলে দীর্ঘ যাত্রা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে আপনাকে ক্লান্ত বা বিরক্ত করে তুলতে পারবে না।
ঘুমের নিজস্ব রুটিন তৈরি
জেট ল্যাগ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ফ্লাইটে ওঠার আগেই গন্তব্যস্থলের সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। সিডনির চার্লস পারকিন্স সেন্টারের গবেষক ড. ইউ সান বিনের মতে, যাত্রার দু-তিন দিন আগে থেকেই গন্তব্যস্থলের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ঘুমানো বা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ঘড়িটি বদলে নিন। যদি সেখানে তখন রাত হয়, তবেই ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আর যদি দিন হয়, তবে জেগে থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিমানে ঘুমানোর আগে নিজের অভ্যস্ত রুটিনগুলো পালনের চেষ্টা করুন। যেমন দাঁত ব্রাশ করা, কমফোর্টেবল কাপড় পরা বা হালকা একটু ময়শ্চারাইজার মাখা। এটি আপনার মস্তিষ্ককে সংকেত দেবে, এখন ঘুমানোর সময়। যদি আপনি নিয়মিত ঘুমের জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ম্যাগনেশিয়াম স্প্রে ব্যবহার করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা সঙ্গে রাখতে পারেন।
আসন নির্বাচনে কৌশলী হোন
বিমানে ভালো ঘুমের জন্য সঠিক সিট বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জানালার পাশের সিট ঘুমানোর জন্য সবচেয়ে আদর্শ। কারণ এখানে আপনি দেয়ালের সঙ্গে মাথা ঠেস দেওয়ার সুযোগ পাবেন। আবার যাঁরা ঘন ঘন শৌচাগারে যান, তাঁদের জন্য আইল সিট সুবিধাজনক হতে পারে। আইল সিটের হাতল বা আর্মরেস্ট শরীরের বাড়তি ভার বহনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। নিরিবিলি পছন্দ হলে বিমানের একদম পেছনের দিকের সারিগুলো বেছে নিতে পারেন। কারণ সেখানে পাশের সিট খালি থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একটি ‘স্লিপ কিট’ তৈরি করুন
বিমানের ইকোনমি ক্লাসের সিটকেও একটু চেষ্টা করলে বিজনেস ক্লাসের মতো আরামদায়ক করে তোলা যায়। এর জন্য সঙ্গে রাখুন একটি আই মাস্ক এবং নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন বা ইয়ার প্লাগ। এটি বাইরের আলো এবং ইঞ্জিনের শব্দ আটকে দিয়ে আপনার জন্য ব্যক্তিগত একটি পরিবেশ তৈরি করবে। দীর্ঘ যাত্রায় ঘাড়ের ব্যথা এড়াতে ভালো মানের একটি ঘাড়ের বালিশ সঙ্গে রাখুন। এটি আপনার ঘাড়কে সাপোর্ট দেবে সম্পূর্ণ জার্নিতে। ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল ওয়েল কপালে ঘষে নিলে তা মনে প্রশান্তি আনে এবং ঘুম দ্রুত আসতে সাহায্য করে।

খাওয়া-দাওয়া ও পানীয়ের দিকে নজর
বিমানে ওঠার পর চকলেট, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো আপনার ঘুমের মান নষ্ট করে এবং শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। পরিবর্তে ভেষজ চা বা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। গবেষকদের মতে, ট্রিপটোফ্যানসমৃদ্ধ হালকা খাবার যেমন মাছ, মুরগি বা দুধের তৈরি ডেজার্ট ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি গন্তব্যের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বিমানে খাওয়ার অভ্যাস করেন।
শারীরিক আরাম ও পোশাক
বিমানের যাত্রা মানেই ফিটফাট পোশাকের চেয়ে আরামদায়ক পোশাককে প্রাধান্য দেওয়া। বর্তমানে তারকাদের এয়ারপোর্ট লুকগুলো দেখুন। ঢিলেঢালা পোশাকের এই এয়ারপোর্ট লুক বিষয়টি এখন বেশ জনপ্রিয়। তাই আপনিও যাত্রা পথে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং সঙ্গে একটি বড় স্কার্ফ বা পাতলা চাদর রাখুন। এটি প্রয়োজনে কম্বল হিসেবে কাজ করবেন। জুতা খুলে আরামদায়ক মোজা বা ট্রাভেল স্লিপার পরে নিন। ঘুমানোর আগে জুতোর ফিতা আলগা করে নিন। মনে রাখবেন, পা আড়াআড়ি করে বসবেন না। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে।
মনে রাখবেন, বিমানের আবদ্ধ ঘরে ঘুম হয়তো ঘরের বিছানার মতো হবে না, কিন্তু এই ছোট প্রস্তুতিগুলো আপনাকে জেট ল্যাগ কাটিয়ে নতুন গন্তব্যে হাসিমুখে নামতে সাহায্য করবে।
সূত্র: ট্রাভেল+লিজার, কন্দে নেস্ট, দ্য টাইমস

জরিপ করলে ঘুমকাতুরে বাঙালির সংখ্যাই হয়তো বেশি পাওয়া যাবে। কেউ ঘুমাতে ভালোবাসেন আয়োজন করে। আবার কেউ একটু ঠেস দিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা পেলেও ঘুমিয়ে নেবেন এক চুমুক। তবে আয়েশ করে ঘুমাতে ভালোবাসেন, এমন কাউকে যদি দীর্ঘ যাত্রা করতে হয় বিমানে, তাহলে তিনি কিছুটা বিপদেই পড়েন বৈকি! কারণ ৩০ হাজার ফুট উচ্চতায় বিমানের সিটে বসে ঘুমানো মোটেও আরামদায়ক কোনো অভিজ্ঞতা নয়। তাই তাদের জন্য লম্বা জার্নির বিমান যাত্রায় ভালো ঘুমের জন্য কিছু টিপস জেনে রাখা ভালো। কিছু কৌশল জানা থাকলে এ কঠিন কাজটিকেও সহজ করে তোলা সম্ভব। তাহলে দীর্ঘ যাত্রা গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে আপনাকে ক্লান্ত বা বিরক্ত করে তুলতে পারবে না।
ঘুমের নিজস্ব রুটিন তৈরি
জেট ল্যাগ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ফ্লাইটে ওঠার আগেই গন্তব্যস্থলের সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। সিডনির চার্লস পারকিন্স সেন্টারের গবেষক ড. ইউ সান বিনের মতে, যাত্রার দু-তিন দিন আগে থেকেই গন্তব্যস্থলের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে ঘুমানো বা ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা ভালো। বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ঘড়িটি বদলে নিন। যদি সেখানে তখন রাত হয়, তবেই ঘুমানোর চেষ্টা করুন। আর যদি দিন হয়, তবে জেগে থাকার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিমানে ঘুমানোর আগে নিজের অভ্যস্ত রুটিনগুলো পালনের চেষ্টা করুন। যেমন দাঁত ব্রাশ করা, কমফোর্টেবল কাপড় পরা বা হালকা একটু ময়শ্চারাইজার মাখা। এটি আপনার মস্তিষ্ককে সংকেত দেবে, এখন ঘুমানোর সময়। যদি আপনি নিয়মিত ঘুমের জন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট বা ম্যাগনেশিয়াম স্প্রে ব্যবহার করেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা সঙ্গে রাখতে পারেন।
আসন নির্বাচনে কৌশলী হোন
বিমানে ভালো ঘুমের জন্য সঠিক সিট বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জানালার পাশের সিট ঘুমানোর জন্য সবচেয়ে আদর্শ। কারণ এখানে আপনি দেয়ালের সঙ্গে মাথা ঠেস দেওয়ার সুযোগ পাবেন। আবার যাঁরা ঘন ঘন শৌচাগারে যান, তাঁদের জন্য আইল সিট সুবিধাজনক হতে পারে। আইল সিটের হাতল বা আর্মরেস্ট শরীরের বাড়তি ভার বহনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। নিরিবিলি পছন্দ হলে বিমানের একদম পেছনের দিকের সারিগুলো বেছে নিতে পারেন। কারণ সেখানে পাশের সিট খালি থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একটি ‘স্লিপ কিট’ তৈরি করুন
বিমানের ইকোনমি ক্লাসের সিটকেও একটু চেষ্টা করলে বিজনেস ক্লাসের মতো আরামদায়ক করে তোলা যায়। এর জন্য সঙ্গে রাখুন একটি আই মাস্ক এবং নয়েজ ক্যান্সেলিং হেডফোন বা ইয়ার প্লাগ। এটি বাইরের আলো এবং ইঞ্জিনের শব্দ আটকে দিয়ে আপনার জন্য ব্যক্তিগত একটি পরিবেশ তৈরি করবে। দীর্ঘ যাত্রায় ঘাড়ের ব্যথা এড়াতে ভালো মানের একটি ঘাড়ের বালিশ সঙ্গে রাখুন। এটি আপনার ঘাড়কে সাপোর্ট দেবে সম্পূর্ণ জার্নিতে। ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল ওয়েল কপালে ঘষে নিলে তা মনে প্রশান্তি আনে এবং ঘুম দ্রুত আসতে সাহায্য করে।

খাওয়া-দাওয়া ও পানীয়ের দিকে নজর
বিমানে ওঠার পর চকলেট, কফি বা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ভালো। এগুলো আপনার ঘুমের মান নষ্ট করে এবং শরীরকে পানিশূন্য করে তোলে। পরিবর্তে ভেষজ চা বা প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। গবেষকদের মতে, ট্রিপটোফ্যানসমৃদ্ধ হালকা খাবার যেমন মাছ, মুরগি বা দুধের তৈরি ডেজার্ট ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি গন্তব্যের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে বিমানে খাওয়ার অভ্যাস করেন।
শারীরিক আরাম ও পোশাক
বিমানের যাত্রা মানেই ফিটফাট পোশাকের চেয়ে আরামদায়ক পোশাককে প্রাধান্য দেওয়া। বর্তমানে তারকাদের এয়ারপোর্ট লুকগুলো দেখুন। ঢিলেঢালা পোশাকের এই এয়ারপোর্ট লুক বিষয়টি এখন বেশ জনপ্রিয়। তাই আপনিও যাত্রা পথে ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং সঙ্গে একটি বড় স্কার্ফ বা পাতলা চাদর রাখুন। এটি প্রয়োজনে কম্বল হিসেবে কাজ করবেন। জুতা খুলে আরামদায়ক মোজা বা ট্রাভেল স্লিপার পরে নিন। ঘুমানোর আগে জুতোর ফিতা আলগা করে নিন। মনে রাখবেন, পা আড়াআড়ি করে বসবেন না। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে।
মনে রাখবেন, বিমানের আবদ্ধ ঘরে ঘুম হয়তো ঘরের বিছানার মতো হবে না, কিন্তু এই ছোট প্রস্তুতিগুলো আপনাকে জেট ল্যাগ কাটিয়ে নতুন গন্তব্যে হাসিমুখে নামতে সাহায্য করবে।
সূত্র: ট্রাভেল+লিজার, কন্দে নেস্ট, দ্য টাইমস

মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, অভিবাসন আইন মানা নিশ্চিত করতেই এই ভিসা বন্ড চালু করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের বড় একটি অংশের মতে, এই নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে, যা অনেকের জন্য আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে।
৭ ঘণ্টা আগে
একসময় আমেরিকার পারিবারিক উৎসব মানেই ছিল কোলাহল। ছুটির দিনে বাড়িভর্তি থাকত চাচাতো-ফুফাতো ভাই-বোনে। শিশুরা দৌড়াদৌড়ি করত, বড়রা গল্পে মেতে উঠত। কিন্তু সময় বদলেছে। আজ অনেক আমেরিকানের জীবনে সেই চেনা দৃশ্য আর নেই।
১২ ঘণ্টা আগে
ভ্রমণ মানেই শুধু ছবি তোলা আর জায়গা দেখা নয়, ভ্রমণ মানে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। কখনো পাহাড়ের নীরবতায়, কখনো সমুদ্রের ঢেউয়ে, আবার কখনো শতাব্দীপ্রাচীন কোনো শহরের অলিগলিতে হারিয়ে গিয়ে।
১৩ ঘণ্টা আগে
অনেকে মনে করেন, রাইস কুকার মানেই হলো চাল আর জল দিয়ে সুইচ টিপে দেওয়া। ব্যস, কাজ শেষ! কিন্তু নিখুঁত ঝরঝরে ভাত পাওয়া কিংবা এই যন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কিছু ছোট ছোট ভুলের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। আমাদের অজান্তেই করা কিছু ভুল রাইস কুকার ও খাবার—উভয়েরই ক্ষতি করতে পারে।
১৪ ঘণ্টা আগে