সুমন্ত গুপ্ত

কয়েক সপ্তাহ ধরে শুধু পরিকল্পনাই করে যাচ্ছি, পাখির সন্ধানে বের হব বলে। কিন্তু কোনোভাবেই ব্যাটে-বলে মিলছিল না। এক ফটোসাংবাদিক বন্ধু জানিয়েছিল, সিলেটের ঘাসিটুলা নামক স্থানে এ বছর অতিথি পাখি এসেছে। জানালাম, একদিন নিশ্চয়ই বের হব অতিথি পাখির সন্ধানে। কিন্তু যাব যাব করে আর সময় করতে পারলাম কোথায়! গত শুক্রবার সকাল থেকেই আমাদের পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য সপ্তক বায়না ধরেছে সে ঘুরতে যাবে আমার সঙ্গে। বায়না রাখতেই আমি ড্রাইভারকে ফোন করে বললাম দুপুরেই হাজির হয়ে যেতে। এদিকে আমরা তৈরি হয়ে নিলাম ঝটপট। নির্ধারিত সময়ে আমাদের গাড়ি চলে এল। আমরা বের হলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
যদিও শুক্রবার, তবু রাস্তায় বেশ যানজট ছিল।

দুপুরের আলো-ঝলমলে রোদে অবশ্য অতটাও খারাপ লাগছিল না। ধীরগতিতে আমরা এগোতে লাগলাম ঘাসিটুলার পথে। যেহেতু প্রথমবার যাচ্ছি, তাই যাওয়ার পথে নানাজনকে জিজ্ঞেস করে করে এগোতে হচ্ছিল। এভাবে যেতে যেতে এক পান দোকানের সামনে গাড়ি থামালাম। জানতে চাইলাম, অতিথি পাখির দেখা পাব কোথায়? প্রত্যুত্তরে জানা গেল, আরেকটু সামনে গিয়ে হাতের ডান দিকে যেতে হবে। সেখানে গেলে একটি ঝিলের মতো আছে, সেখানেই মিলবে অতিথি পাখির দেখা। তাঁদের দেখিয়ে দেওয়া পথে এগোতে এগোতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য়ে পৌঁছালাম। দেখা পেলাম অতিথি পাখির। অতিথি পাখিদের দেখা পেয়ে মনটা ভরে গেল। সপ্তক তো খুবই খুশি!
পাখিদের কলরবে মুখরিত চারপাশ। মূল সড়ক থেকেই দেখা যাচ্ছিল পাখিদের। আমরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম পাখিদের কর্ম তৎপরতা। বেশ ভালোই লাগছিল। পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনমতো ছবি তোলা হলো না। ড্রাইভার বললেন, আরেকটু সামনে গেলে হয়তো আরও পাখির দেখা পাওয়া যাবে, আলোতে ভালো ছবিও তোলা যাবে। তাঁর কথামতো আবার গাড়িতে চেপে বসলাম। যেতে যেতে আরও কয়েকজনের কাছে তথ্য নিলাম, অতিথি পাখি খুব ভালোভাবে কোথায় গেলে দেখা যাবে সে সম্পর্কে। জানা গেল, সামনের বড় রাস্তা থেকেই এই পাখিগুলো ভালোভাবে দেখা যায়। আমি বললাম বড় রাস্তা থেকে পরিষ্কারভাবে অতিথি পাখিদের দেখতে পাওয়া যায় না, তাই এই দিকে আসা। এদের মধ্য়ে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন আমাদের সাহায্য় করার জন্য এগিয়ে এলেন। তাঁর কথামতো আমরা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তাঁর সঙ্গে এগোতে লাগলাম।
বিভিন্ন বাড়ির মধ্য় দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়া সরু পথ দিয়ে এগিয়ে গেলাম। এবার বেশ কাছ থেকেই দেখতে পেলাম শীতের অতিথি পাখিদের। আমাদের চোখমুখে আনন্দ দেখে ভদ্রলোক আবার বললেন, ‘আমার সঙ্গে আসুন, আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাই। সেখান থেকে আরও পরিষ্কার দেখতে পাবেন।’ আমরা তাঁকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলাম। তিনি আমাদের একটি বাসার দোতলায় নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে আরও পরিষ্কারভাবে অতিথি পাখিদের বিচরণ দেখতে পেলাম। অসাধারণ লাগছিল পাখিদের দুরন্তপনা। এর মাঝে একঝাঁক পাখি উড়ে গেল মুক্ত আকাশে । শীতের এক শেষ বিকেলে এক অন্য রকম সময় পার করলাম আমরা। মুগ্ধতায় আমাদের চোখ ভরে উঠল!
ঢাকা থেকে এই অতিথি পাখি দেখতে যেভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রিনলাইন, শ্যামলী, এনা, হানিফ ও বিআরটিসি বাস অথবা ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালে আন্তনগর পারাবত, দুপুরে জয়ন্তিকা ও কালনী এবং রাতে উপবন সিলেটের পথে ছোটে। ভাড়া ৩৬০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। সেখান থেকে ঘাসিটুলা যেতে ভাড়া নেবে ৪০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সেখানেই দেখা মিলবে এই অতিথি পাখির। পাখি দেখার জন্য সকাল খুব ভালো সময়।
ছবি: লেখক

কয়েক সপ্তাহ ধরে শুধু পরিকল্পনাই করে যাচ্ছি, পাখির সন্ধানে বের হব বলে। কিন্তু কোনোভাবেই ব্যাটে-বলে মিলছিল না। এক ফটোসাংবাদিক বন্ধু জানিয়েছিল, সিলেটের ঘাসিটুলা নামক স্থানে এ বছর অতিথি পাখি এসেছে। জানালাম, একদিন নিশ্চয়ই বের হব অতিথি পাখির সন্ধানে। কিন্তু যাব যাব করে আর সময় করতে পারলাম কোথায়! গত শুক্রবার সকাল থেকেই আমাদের পরিবারের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সদস্য সপ্তক বায়না ধরেছে সে ঘুরতে যাবে আমার সঙ্গে। বায়না রাখতেই আমি ড্রাইভারকে ফোন করে বললাম দুপুরেই হাজির হয়ে যেতে। এদিকে আমরা তৈরি হয়ে নিলাম ঝটপট। নির্ধারিত সময়ে আমাদের গাড়ি চলে এল। আমরা বের হলাম গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
যদিও শুক্রবার, তবু রাস্তায় বেশ যানজট ছিল।

দুপুরের আলো-ঝলমলে রোদে অবশ্য অতটাও খারাপ লাগছিল না। ধীরগতিতে আমরা এগোতে লাগলাম ঘাসিটুলার পথে। যেহেতু প্রথমবার যাচ্ছি, তাই যাওয়ার পথে নানাজনকে জিজ্ঞেস করে করে এগোতে হচ্ছিল। এভাবে যেতে যেতে এক পান দোকানের সামনে গাড়ি থামালাম। জানতে চাইলাম, অতিথি পাখির দেখা পাব কোথায়? প্রত্যুত্তরে জানা গেল, আরেকটু সামনে গিয়ে হাতের ডান দিকে যেতে হবে। সেখানে গেলে একটি ঝিলের মতো আছে, সেখানেই মিলবে অতিথি পাখির দেখা। তাঁদের দেখিয়ে দেওয়া পথে এগোতে এগোতে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য়ে পৌঁছালাম। দেখা পেলাম অতিথি পাখির। অতিথি পাখিদের দেখা পেয়ে মনটা ভরে গেল। সপ্তক তো খুবই খুশি!
পাখিদের কলরবে মুখরিত চারপাশ। মূল সড়ক থেকেই দেখা যাচ্ছিল পাখিদের। আমরা গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলাম পাখিদের কর্ম তৎপরতা। বেশ ভালোই লাগছিল। পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ছবি তোলার চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনমতো ছবি তোলা হলো না। ড্রাইভার বললেন, আরেকটু সামনে গেলে হয়তো আরও পাখির দেখা পাওয়া যাবে, আলোতে ভালো ছবিও তোলা যাবে। তাঁর কথামতো আবার গাড়িতে চেপে বসলাম। যেতে যেতে আরও কয়েকজনের কাছে তথ্য নিলাম, অতিথি পাখি খুব ভালোভাবে কোথায় গেলে দেখা যাবে সে সম্পর্কে। জানা গেল, সামনের বড় রাস্তা থেকেই এই পাখিগুলো ভালোভাবে দেখা যায়। আমি বললাম বড় রাস্তা থেকে পরিষ্কারভাবে অতিথি পাখিদের দেখতে পাওয়া যায় না, তাই এই দিকে আসা। এদের মধ্য়ে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন আমাদের সাহায্য় করার জন্য এগিয়ে এলেন। তাঁর কথামতো আমরা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে তাঁর সঙ্গে এগোতে লাগলাম।
বিভিন্ন বাড়ির মধ্য় দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়া সরু পথ দিয়ে এগিয়ে গেলাম। এবার বেশ কাছ থেকেই দেখতে পেলাম শীতের অতিথি পাখিদের। আমাদের চোখমুখে আনন্দ দেখে ভদ্রলোক আবার বললেন, ‘আমার সঙ্গে আসুন, আরেকটি জায়গায় নিয়ে যাই। সেখান থেকে আরও পরিষ্কার দেখতে পাবেন।’ আমরা তাঁকে অনুসরণ করে এগিয়ে গেলাম। তিনি আমাদের একটি বাসার দোতলায় নিয়ে গেলেন। সেখান থেকে আরও পরিষ্কারভাবে অতিথি পাখিদের বিচরণ দেখতে পেলাম। অসাধারণ লাগছিল পাখিদের দুরন্তপনা। এর মাঝে একঝাঁক পাখি উড়ে গেল মুক্ত আকাশে । শীতের এক শেষ বিকেলে এক অন্য রকম সময় পার করলাম আমরা। মুগ্ধতায় আমাদের চোখ ভরে উঠল!
ঢাকা থেকে এই অতিথি পাখি দেখতে যেভাবে যাবেন
ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, রাজারবাগ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রিনলাইন, শ্যামলী, এনা, হানিফ ও বিআরটিসি বাস অথবা ট্রেনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সকালে আন্তনগর পারাবত, দুপুরে জয়ন্তিকা ও কালনী এবং রাতে উপবন সিলেটের পথে ছোটে। ভাড়া ৩৬০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে। সেখান থেকে ঘাসিটুলা যেতে ভাড়া নেবে ৪০ টাকা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সেখানেই দেখা মিলবে এই অতিথি পাখির। পাখি দেখার জন্য সকাল খুব ভালো সময়।
ছবি: লেখক

ভ্রমণ জগতে কত রকমের যে গন্তব্য বা ডেস্টিনেশনের তালিকা হয় বছর ভর, তার হিসাব রাখা সত্যি অসম্ভব। পৃথিবীর সেরা ১০ গন্তব্য কিংবা পৃথিবীর সেরা নিরাপদ শহর বা দেশ অথবা পৃথিবীর সেরা পরিচ্ছন্ন দেশ ইত্যাদির তালিকা হালনাগাদ হতে থাকে বছরভর। বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং পত্রপত্রিকা কিংবা ম্যাগাজিন এসব তালিকা করে থাকে...
৩৫ মিনিট আগে
বারো মাসই উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। তবে শীতে উত্তরবঙ্গ ভ্রমণে আলাদা অভিজ্ঞতা নেওয়া যায়। যাঁরা শীত উপভোগ করতে চান, তাঁরা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যেতে পারেন। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় পুরো রংপুর বিভাগ অর্থাৎ উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ বেশি থাকে।...
৩ ঘণ্টা আগে
পৃথিবী এখন আর দুই বছর আগের মতো নেই। বিভিন্ন দেশে নানা মেরুকরণ চলছে। সেই সঙ্গে একদিকে চলছে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক উত্তেজনা; অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে চলছে ভ্রমণ থেকে রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিপুল আয়োজন। সে জন্য নতুন করে ভিসা শিথিলসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া চালু করেছে তারা। ফলে নতুন বছরে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক...
৭ ঘণ্টা আগে
জম্পেশ খাওয়াদাওয়া ছাড়া নববর্ষ জমে না। কবজি ডুবিয়ে বিরিয়ানি খেতে মন চাইলে বাড়িতেই রেঁধে ফেলুন মাটন দম বিরিয়ানি। আপনাদের জন্য মাটন দম বিরিয়ানির রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী মরিয়ম হোসেন নূপুর।...
৯ ঘণ্টা আগে