
ধরুন, অনেক রাতে রাজ্যের কাজ শেষ করে ঘুমাতে গেলেন। সারা দিনের খাটাখাটনিতে শরীরটা যেন বিছানার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এদিকে চোখের পাতা ভারী হয়ে আসছে কিন্তু মাথার ভেতরে যেন কোনো এক অজানা ইঞ্জিনের ঘূর্ণন থামছেই না! প্রতিদিনের কাজের তালিকা ঠিক ছিল তো? এ চিন্তা যেমন ঘুরছে, তেমনি অযথাই কোনো পুরোনো কথোপকথনের ব্যবচ্ছেদ করে যাচ্ছেন। রাত যত গভীর হয়, স্মৃতির পাতা আর উদ্বেগের তরঙ্গ যেন তত তীব্র হতে থাকে। মনে অকারণেই দানা বাঁধতে থাকে নানান প্রশ্ন, আর চিন্তা। একদিকে শরীর প্রচণ্ড ক্লান্ত, অন্যদিকে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ জেগে আছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় টায়ার্ড বাট ওয়্যারড। কিন্তু শরীর যেখানে বিশ্রামের জন্য ব্যাকুল, মস্তিষ্ক সেখানে কেন জেগে থাকে?
আমাদের এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে আদিমকালের মানুষের বেঁচে থাকার জৈবিক লড়াই। হাজার বছর আগে মানুষের বড় ভয় ছিল হিংস্র প্রাণী বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কোনো বিপৎসংকেত পেলেই মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি সক্রিয় হয়ে উঠত। সঙ্গে সঙ্গেই ফাইট-অর-ফ্লাইট প্রতিক্রিয়া শুরু হতো। ফলে শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়ে মানুষকে সতর্ক ও সজাগ রাখত। আজকের দিনে হিংস্র পশুর আক্রমণ না থাকলেও আমাদের মানসিক চাপ বা ‘স্ট্রেস’ কমেনি। অফিসের জমে থাকা মেইল, আর্থিক চিন্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন কিংবা স্মার্টফোনের নীল আলো—সব মিলিয়ে আমাদের মস্তিষ্ক আধুনিক সামাজিক চাপকেও সেই আদিম যুগের বিপদ হিসেবে ভুল করে বসে। ফলে শরীর ক্লান্ত থাকলেও মস্তিষ্ক মনে করে, পরিবেশটি নিরাপদ নয়। ফলে সে অতিরিক্ত সতর্ক বা হাইপার-অ্যারোসাল অবস্থায় আটকে থাকে।
শারীরিক ক্লান্তি ও মস্তিষ্কের সতর্কতা। এই দুটি বিষয় আলাদা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত হয়। সাধারণত রাতের দিকে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা কমে এসে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন বাড়ে। কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে রাতের বেলায় রক্তে কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকে। এতে একদিকে মাংসপেশি বিশ্রামের জন্য আকুল হয়ে উঠলেও মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়া ও চিন্তা করার কেন্দ্রগুলো সজাগ থাকে। এতে শুরু হয় বুকে ধড়ফড় করা, হাত-পা ছটফট করা বা মাথায় অজস্র চিন্তার ভিড়। অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা বা প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যক্ষমতাও কমে যায়। ফলে রাতের বেলা সাধারণ দুশ্চিন্তাগুলো অনেক বড় সমস্যা বলে মনে হয়।
সাধারণত অনিদ্রা দূর করতে হালকা মেজাজের গান শোনা বা গরম পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব টোটকা অনেক সময় হরমোনের বিশাল তারতম্যের সামনে কাজ করে না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে নিরাপত্তার সংকেত পাঠিয়ে ঘুম পাড়ানোর কিছু বৈজ্ঞানিক কৌশল রয়েছে।

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথার সব চিন্তা বা আগামীকালের কাজের তালিকা কাগজে লিখে ফেলা ভীষণ কার্যকর। ‘জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’তে প্রকাশিত এক গবেষণায় ৫৭ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরীক্ষা চালানো হয়। দেখা যায়, যাঁরা ঘুমানোর আগে আগামীকালের কাজের তালিকা লিখেছেন, তাঁরা সম্পন্ন হওয়া কাজের তালিকা লেখা দলের চেয়ে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়েছেন। মন যখন বোঝে কাজগুলো কাগজে লেখা আছে, তখন মস্তিষ্ক আর সেগুলোকে মনে রাখার বাড়তি চাপ নেয় না।
বিছানায় শুয়ে মনের অজান্তে আসা চিন্তার ধারাকে ভাঙতে নিঃশব্দে ঠোঁট নেড়ে যেকোনো একটি সহজ ও অর্থহীন শব্দ বারবার বলতে পারেন। স্লিপ মেডিসিন চিকিৎসক ড. টম চেম্বার্সের মতে, এটি মস্তিষ্কের ভাষা প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থার পথ রোধ করে দেয়। ফলে উদ্বেগের বিস্তার ঘটে না।
ঘুমের পেছনে না ছুটে বরং উল্টো চোখ খোলা রেখে জেগে থাকার চেষ্টা করা। সত্তরের দশকে অনিদ্রার চিকিৎসার জন্য প্রথম তৈরি হওয়া এই পদ্ধতির কার্যকারিতা পরবর্তী সময়ে ‘জার্নাল অব স্লিপ রিসার্চ’-এ প্রকাশিত হয়। এটি ১০টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে। এতে দেখা যায়, জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা বাদ দিয়ে জেগে থাকার ওপর মনোযোগ দিলে ঘুম না আসার উদ্বেগ কমে যায় এবং মানুষ খুব দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ে।
নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নায়ুবিজ্ঞানী ও ঘুম গবেষক ড. লরা বোজারস্কাইট সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘস্থায়ী অনিদ্রা স্থূলতা, হৃদ্রোগ এবং ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। রাতে ক্লান্ত অবস্থায় জেগে থাকা শারীরিক সমস্যা নয়। এটি প্রমাণ করে, অবিরাম সক্রিয় এই আধুনিক বিশ্বে আপনার আদিম মস্তিষ্কটি অতিরিক্ত মাত্রায় সতর্ক হয়ে আছে। তাই স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা, দিন শেষে চিন্তাগুলো কাগজে লিখে ফেলা আর নিজেকে মানসিকভাবে স্থির রাখার চর্চাই পারে আপনার চোখের পাতায় প্রশান্তির ঘুম ফিরিয়ে আনতে।
সূত্র: ডেইলি মেইল, দ্য কনভারসেশন

বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় প্রাণী হলো বাঘ। শক্তি, ক্ষিপ্রতা, রাজকীয় সৌন্দর্য ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কারণে ১৯৭২ সালে এশিয়াটিক লায়ন বা সিংহকে সরিয়ে বেঙ্গল টাইগারকে ভারতের জাতীয় প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। আজ ২৯ জুলাই, বিশ্ব বাঘ দিবস। বিশ্বজুড়ে বাঘের অস্তিত্ব...
১ ঘণ্টা আগে
বিষণ্নতায় ভুগলে আশপাশের মানুষ চেহারা দেখেই বুঝতে পারেন। কারণ, শুধু চোখের নিচের কালি নয়; দীর্ঘদিন বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে ভুগলে শরীরের ভেতর হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ত্বকে। সহজ কথা, বিষণ্নতা ত্বকের ক্ষতি করে। তাই মন খারাপের দিনগুলোয় যেভাবে ত্বকের যত্ন নিতে হবে, তা জেনে নিন।
৭ ঘণ্টা আগে
বর্ষায় ত্বক নিয়ে নানান অসুবিধায় পড়তে হয়। ঝকঝকে ও উজ্জ্বল ত্বক পেতে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা, হালকা ময়শ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। বর্ষাকালের অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ত্বকে তেল ও ব্যাকটেরিয়ার উপদ্রব বাড়ে।
৯ ঘণ্টা আগে
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বহু পরিচিত উপকরণেই মাইক্রোপ্লাস্টিক লুকিয়ে রয়েছে। মাইক্রোপ্লাস্টিক শুধু নিজেই ক্ষতিকর নয়, বরং এটি তার অতি ক্ষুদ্র আকারের কারণে সিসা, ক্যাডমিয়ামসহ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকেও নিজের শরীরে আটকে রাখে। ফলে যখন এটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করে, তখন সেই বিষাক্ত উপাদানগুলোকেও বহন করে...
১১ ঘণ্টা আগে