Ajker Patrika

অক্টোবর থেকে বদলে যায় মেজাজ, জেনে নিন, কেন এত ক্লান্ত লাগে এ মাসে

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
অক্টোবর থেকে বদলে যায় মেজাজ, জেনে নিন, কেন এত ক্লান্ত লাগে এ মাসে
অক্টোবর মাসে আবহাওয়াগত কারণে ক্লান্তি, অলসতা আর মেজাজ পরিবর্তন ঘটতে থাকে; তাকে বিশেষজ্ঞরা বলেন ফল ফ্যাটিগ বা শরৎকালীন অবসাদ। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

ইংরেজি ক্যালেন্ডারের পাতায় যখন অক্টোবর, তখন বাংলা মাসের ঘরে আশ্বিন বসে আছে গা এলিয়ে। আশ্বিন মানে শরতের শেষ ভাগ। এ সময় আকাশজুড়ে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশবন আমাদের মনে কিছুটা দোলা দিলেও ক্যালেন্ডারের পাতা যখনই ১ অক্টোবরে পৌঁছায়, অনেকের শরীর ও মনে এক অদ্ভুত পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সকালবেলা অ্যালার্ম বাজার পরও বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না, কর্মক্ষেত্রে সারা দিন একধরনের ঝিমুনি ভাব কাজ করে, আর কারণে-অকারণে মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে। হঠাৎ করে সবার মধ্যে এই যে ক্লান্তি, অলসতা আর মেজাজ পরিবর্তন ঘটতে থাকে; তাকে বিশেষজ্ঞরা বলেন ফল ফ্যাটিগ বা শরৎকালীন অবসাদ। কিন্তু কেন অক্টোবরের শুরু থেকে আমাদের শরীর ও মন এভাবে বদলে যেতে শুরু করে? এর পেছনে রয়েছে কিছু অবধারিত জৈবিক ও প্রাকৃতিক কারণ।

দিনের আলো কমে যাওয়া এবং ঘুমের হরমোনের তারতম্য

অক্টোবর থেকে দিন ছোট হতে শুরু করে এবং রাত বড় হয়। ফলে গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালের চেয়ে সূর্যের আলোর পরিমাণ অনেক কমে যায়। কিন্তু প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মস্তিষ্ক সূর্যালোকের ওপর ভিত্তি করে শরীর সজাগ রাখে। আলো যখন কমে যায়, তখন মস্তিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই মেলাটোনিন হলো মূলত ঘুমের হরমোন। সারা দিন শরীরে এর আধিক্য থাকার কারণে শরীর অলস লাগে এবং সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব থাকে।

অক্টোবর থেকে দিন ছোট হতে শুরু করে বলে সূর্যের আলোর পরিমাণ অনেক কমে যায়। এ কারণে শরীরে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে শরীর অলস লাগে এবং সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব থাকে। ছবি: পেক্সেলস
অক্টোবর থেকে দিন ছোট হতে শুরু করে বলে সূর্যের আলোর পরিমাণ অনেক কমে যায়। এ কারণে শরীরে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিনের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে শরীর অলস লাগে এবং সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব থাকে। ছবি: পেক্সেলস

ফিল গুড হরমোনের ঘাটতি

সূর্যের আলো আমাদের শরীরে সেরোটোনিন নামক একটি নিউরোট্রান্সমিটার বা হরমোন তৈরিতে সাহায্য করে, যা আমাদের মন ভালো রাখতে এবং শক্তি জোগাতে কাজ করে। অক্টোবরের শুরুতে রোদ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে সেরোটোনিন কমে যায় এবং একই সঙ্গে কমে যায় ভিটামিন ডি এর উৎপাদন। এই দুইয়ের অভাবে কোনো কারণ ছাড়াই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, অবসাদ ভর করে এবং মানসিক উদাসীনতা দেখা দেয়।

দেহঘড়ির সময় এলোমেলো হয়ে যাওয়া

আমাদের শরীরের ভেতর একটি অদৃশ্য ঘড়ি আছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। এটি আমাদের কখন জাগতে হবে আর কখন ঘুমাতে হবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রকৃতির আলো-আঁধারির হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের এই অভ্যন্তরীণ ঘড়িটি সহজে তাল মেলাতে পারে না। হঠাৎ সকালে অন্ধকার থাকা বা বিকেলে দ্রুত রাত হয়ে যাওয়ার কারণে ঘুমের চক্র বিঘ্নিত হয়, যা দিনভর ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ।

রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ

অক্টোবরের শুরু থেকে আবহাওয়া বদলাতে শুরু করে। গরমের তীব্রতা কমে বাতাসে হালকা হিমেল ভাব আসে। এই ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে বাতাসে নানা ধরনের ভাইরাস ও অ্যালার্জেন বেড়ে যায়। অনেক সময় আমরা পুরোপুরি অসুস্থ না হলেও আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেতরে-ভেতরে এই জীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে থাকে। এই অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে শরীর প্রচুর শক্তি হারিয়ে ফেলে, ফলে আমরা প্রচণ্ড ক্লান্তিবোধ করি।

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও অবসন্ন ভাব কমানোর উপায়

  • ঘুম থেকে উঠে ঘরের জানালাগুলো খুলে দিন।
  • সকালের অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট রোদে কাটানোর চেষ্টা করুন, এতে মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমবে এবং শরীর সজাগ হবে।
  • অলসতা লাগলেও জোর করে হলেও প্রতিদিন হালকা একটু হাঁটাহাঁটি বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন। এটি শরীরে এন্ডোরফিন বা হ্যাপি হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে।
  • ডায়েটে ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার, যেমন ডিম, মাছ, বাদাম রাখুন।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস ধরে রাখুন, যাতে সার্কাডিয়ান রিদম দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে।

সূত্র: নেচারপেডিক ও অন্যান্য

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত