
অতিথি এলে ঘরে যেন একটু উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। তবে অতিথিকে স্বাগত জানানোর ধরন সব দেশে এক রকম নয়। কোথাও অতিথির জন্য করা হয় খাবারের বিশাল আয়োজন, কোথাও এক কাপ চা-ই হয়ে ওঠে আন্তরিকতার প্রতীক। আবার কোথাও অতিথিকে সম্মান জানাতে নির্দিষ্ট অভিবাদন বা কিছু শিষ্টাচার মেনে চলার রীতি রয়েছে। সংস্কৃতি, ধর্ম ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে উঠেছে অতিথি আপ্যায়নের নিজস্ব রীতি।

ভারতীয় সংস্কৃতিতে অতিথিকে বিশেষ সম্মান দেওয়ার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। অতিথি দেব ভব; অর্থাৎ অতিথি দেবতার সমান—এই ধারণা ভারতীয় আতিথেয়তার অন্যতম ভিত্তি। বাড়িতে অতিথি এলে খাবার ও পানীয় দিয়ে আপ্যায়ন করা এবং খাবারের ভালো অংশ অতিথির জন্য তুলে রাখা অনেক পরিবারের প্রচলিত রীতি। কারও বাড়িতে গেলে ছোটখাটো উপহার নিয়ে যাওয়াকেও সৌজন্য হিসেবে দেখা হয়। অনেক বাড়িতে ঘরে প্রবেশের আগে জুতা খুলে রাখার রীতি রয়েছে।
জাপানের আতিথেয়তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওমোতেনাশি। এটি অতিথির প্রয়োজন আগে থেকে বুঝে নেওয়া এবং বিনিময়ে কিছু প্রত্যাশা না করে যত্ন নেওয়ার ধারণা। এখানে পরিচয়ের সময় নত হয়ে অভিবাদন জানানো প্রচলিত রীতি। ঘর বা নির্দিষ্ট কিছু রেস্তোরাঁয় প্রবেশের আগে জুতা খুলতে হয়। অতিথিকে উপহার দিলে দুই হাতে দেওয়া এবং গ্রহণ করাও সম্মানের প্রতীক।
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অতিথি আপ্যায়ন ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অতিথিকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পরিবেশন করা হয় আরবি কফি ও খেজুর। বাড়িতে প্রবেশের আগে জুতা খুলে রাখার রীতিও প্রচলিত। কেউ খাবার বা পানীয় দিলে অন্তত অল্প পরিমাণ গ্রহণ করাকে সাধারণত সৌজন্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফরাসি আতিথেয়তায় রয়েছে একধরনের পরিশীলিত ও আনুষ্ঠানিক সৌজন্য। কারও বাড়িতে গেলে সময়মতো পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ, তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই হাজির হওয়া শোভন নয়। অতিথি হিসেবে গেলে ফুল বা উপহার নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে দেশটিতে। সাক্ষাতের সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী বঁজুর বা বঁসোয়া বলে অভিবাদন জানানোও সৌজন্যের অংশ। বাড়িতে ঘুরে দেখার আগ্রহ থাকলেও আয়োজক নিজে প্রস্তাব না দিলে তা চাওয়া সাধারণত ঠিক নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অতিথি আপ্যায়নে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। অতিথিকে প্রায়ই বলা হয় ‘নিজের বাড়ির মতো স্বচ্ছন্দ থাকুন।’ কারও বাড়িতে নিমন্ত্রণ পেলে ওয়াইন, মিষ্টান্ন বা ছোট কোনো উপহার নিয়ে যাওয়াকে সে দেশে সৌজন্য হিসেবে দেখা হয়। হালকা আলাপ, রসিকতা ও স্বাভাবিক পরিবেশ সেখানে আতিথেয়তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেস্তোরাঁ ও হোটেলসেবার ক্ষেত্রে বকশিশ দেওয়ার সংস্কৃতিও প্রচলিত রয়েছে।
দেশ বদলালে বদলে যায় অতিথি আপ্যায়নের ভাষা। কোথাও এক কাপ কফি, কোথাও এক মুঠো খেজুর আবার কোথাও বিশাল খাবারের আয়োজন—সবকিছুর মধ্যেই আসলে প্রকাশ পায় অতিথির প্রতি সম্মান ও আন্তরিকতা।
সূত্র: কেদার্ক

খাবারের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু ক্ষুধা আর তৃপ্তির নয়; এর সঙ্গে মিশে থাকে শৈশবের স্মৃতি, পারিবারিক অভ্যাস, সংস্কৃতি আর নিজের শিকড়ের গল্প। কারও কাছে গরম ভাত হাতে মেখে খাওয়ার অনুভূতি ঘরের স্বাদ, আবার কারও কাছে হাত দিয়ে তুলে খাবার খাওয়াটাই অস্বাভাবিক। একই খাবার, একই ক্ষুধা তবু তাকে গ্রহণ করার রীতি...
২ ঘণ্টা আগে
স্যান্ডেলের জায়গায় যেমন ধীরে ধীরে বুট আসে, টি-শার্টের বদলে আলমারি থেকে বের হয় সোয়েটার, তেমনি ঋতুবদলের সঙ্গে বদলানো উচিত ত্বকের যত্ন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার দিকে যেতে থাকে প্রকৃতি, তখন ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে।
৫ ঘণ্টা আগে
মিষ্টিজাতীয় খাবার বা ডেজার্টের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভাসে চকলেট, ক্রিম, ক্যারামেল এবং নানা ধরনের কেক। কিন্তু ফলের মিষ্টতা, টক-মিষ্টি স্বাদ ও রংও যে একটি ডেজার্টকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, তার উদাহরণ ছড়িয়ে আছে বিশ্বের নানা দেশের রান্নায়। পরিচিত কলা, আম, আনারস, স্ট্রবেরি বা চেরি দিয়েই তৈরি করা যায়...
৯ ঘণ্টা আগে
শীত মানেই একটু উষ্ণতার খোঁজ। রান্না ও খাওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না। গরম স্যুপ, খেজুর গুড়ের পায়েস, পিঠা কিংবা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা শীতের আমেজ তৈরি করে দেয়। ফলে ঋতুবদলের সঙ্গে রান্নাঘরের উপকরণ ও কাজকর্মে আসে বেশ কিছু পরিবর্তন। একটু বেশি সময় ধরে রান্না করা, একসঙ্গে অনেকটা খাবার তৈরি করা কিংবা...
১ দিন আগে