Ajker Patrika

এআইয়ের যুগে সন্তান, সুযোগ নাকি বিপদ?

ফিচার ডেস্ক
এআইয়ের যুগে সন্তান, সুযোগ নাকি বিপদ?
অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি পড়াশোনার দায়বদ্ধতা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে। ছবি: পেক্সেলস

চ্যাটবট থেকে শুরু করে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা শিক্ষামূলক অ্যাপ—সব ক্ষেত্রে এআইয়ের উপস্থিতি বাড়ছে। এই প্রযুক্তি শিশুদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও সঙ্গে নিয়ে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঝুঁকি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইং জুর মতে, সন্তান খুব ছোট থাকতে এআই নিয়ে আলাপ শুরু করা উচিত। শিশুরা নিজেরা এআই ব্যবহার না করলেও ঘর, স্কুল বা বন্ধুদের মাধ্যমে এর সংস্পর্শে আসতে পারে। অর্থাৎ আপনার সন্তান এখন এআইয়ের আওতার বাইরে নয়। শিশুদের কৌতূহল পুঁজি করে খুব সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে এই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। যেমন স্মার্ট স্পিকার বা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কীভাবে নির্দেশ মেনে চলে, কিন্তু মানুষের মতো ‘চিন্তা’ বা ‘অনুভব’ করতে পারে না, এগুলো শিশুদের বুঝিয়ে বলা জরুরি। এআই একটি প্রযুক্তিমাত্র। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, দৈনন্দিন রুটিন এবং সামাজিক পরিবেশ প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একে গুরুত্ব দিন, তবে একেই সবকিছু ভাববেন না। এত সতর্কতার পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, এআই সুযোগ নাকি নতুন বিপদ?

পড়ায় এআই সহায়তা, নাকি আলস্য

এআই শিশুদের পড়াশোনায় ব্যক্তিগত শিক্ষকের মতো ভূমিকা রাখতে পারে। এটি জটিল বিষয় সহজ করে ব্যাখ্যা করতে এবং কুইজ বা অনুশীলনে সহায়তা করে। তবে এর নেতিবাচক দিকও আছে। অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি পড়াশোনার দায়বদ্ধতা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন কিশোরের মধ্যে একজন তাদের স্কুলের সব কাজ বা অধিকাংশ কাজ এআইয়ের সাহায্য নিয়ে করে।

সুযোগ, নাকি নতুন বিপদ

সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং কমনসেন্স মিডিয়ার এক গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। এ গবেষণার ফলাফলে জানা গেছে, অধিকাংশ অভিভাবকই জানেন না তাঁদের সন্তান অনলাইনে এআই দিয়ে কী করছে। যেখানে ৬৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী চ্যাটবট ব্যবহার করে, সেখানে মাত্র ৫১ শতাংশ অভিভাবক এ বিষয়ে অবগত। এমনকি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন অভিভাবক কখনো সন্তানের সঙ্গে এআই নিয়ে কথা বলেননি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এআইয়ের কাছ থেকে আবেগীয় সমর্থন বা ইমোশনাল সাপোর্ট নেওয়া। গবেষণার তথ্য বলছে, ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পরামর্শ বা মানসিক সমর্থনের জন্য এআই ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই সব সময় উৎসাহব্যঞ্জক এবং একমত হওয়ার মতো করে ডিজাইন করা হয়। ফলে শিশুরা যদি মানুষের বদলে এআইয়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তবে তারা বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা শিখতে পারবে না। তারা মতভেদ বা আপস করার দক্ষতা শিখতে ব্যর্থ হতে পারে। এমনকি চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত আসক্তির ফলে আত্মহত্যার মতো চরম ঘটনাও ঘটেছে।

সন্তানের আসক্তি যেভাবে বুঝবেন

সন্তান এআইয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে কি না, তা বুঝতে অভিভাবকদের কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে হবে—

তাদের এআইকে বেস্ট ফ্রেন্ড বা বিশ্বস্ত সঙ্গী মনে করা।

এআই ব্যবহার করতে না পারলে অস্থির হয়ে পড়া।

স্কুলের ফল খারাপ হওয়া, ঘুম কমে যাওয়া বা বাস্তব বন্ধুদের এড়িয়ে চলা।

কঠিন আলোচনা এড়াতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া।

মা-বাবাদের করণীয়

এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিশু—উভয়ই নতুন কিছু শিখছে। তাই একতরফা বিশেষজ্ঞ না হয়ে সন্তানের সঙ্গে মিলে নতুন প্রযুক্তিটি বোঝার চেষ্টা করুন।

আপনার নাম, স্কুল বা ব্যক্তিগত অনুভূতি কেন এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন।

স্কুলগুলো কীভাবে এআই ব্যবহার করছে বা এর নৈতিক দিকগুলো কীভাবে সামলাচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করুন।

এআই ব্যবহারের সময়সীমা এবং এর ব্যবহারের ধরন নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে সীমানা নির্ধারণ করুন।

সূত্র: বিবিসি, ইউনিসেফ

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

কৃষক দলের সভাপতি তুহিনকে বিএমডিএ চেয়ারম্যান নিয়োগ

সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সমর্থন চাইলেন বিজয়

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে বিজয়কে সহায়তা করবে কংগ্রেস, পেতে পারে ২ মন্ত্রিত্ব

জুলাই থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কার্যালয় আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে

চট্টগ্রামে পুলিশ সদস্যের ব্যাগে মিলল ৫০ হাজার ইয়াবা

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত