
চ্যাটবট থেকে শুরু করে ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট কিংবা শিক্ষামূলক অ্যাপ—সব ক্ষেত্রে এআইয়ের উপস্থিতি বাড়ছে। এই প্রযুক্তি শিশুদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও সঙ্গে নিয়ে আসছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঝুঁকি। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইং জুর মতে, সন্তান খুব ছোট থাকতে এআই নিয়ে আলাপ শুরু করা উচিত। শিশুরা নিজেরা এআই ব্যবহার না করলেও ঘর, স্কুল বা বন্ধুদের মাধ্যমে এর সংস্পর্শে আসতে পারে। অর্থাৎ আপনার সন্তান এখন এআইয়ের আওতার বাইরে নয়। শিশুদের কৌতূহল পুঁজি করে খুব সাধারণ উদাহরণের মাধ্যমে এই আলোচনা শুরু করা যেতে পারে। যেমন স্মার্ট স্পিকার বা রোবট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার কীভাবে নির্দেশ মেনে চলে, কিন্তু মানুষের মতো ‘চিন্তা’ বা ‘অনুভব’ করতে পারে না, এগুলো শিশুদের বুঝিয়ে বলা জরুরি। এআই একটি প্রযুক্তিমাত্র। একটি শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, দৈনন্দিন রুটিন এবং সামাজিক পরিবেশ প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একে গুরুত্ব দিন, তবে একেই সবকিছু ভাববেন না। এত সতর্কতার পরেও প্রশ্ন থেকে যায়, এআই সুযোগ নাকি নতুন বিপদ?
এআই শিশুদের পড়াশোনায় ব্যক্তিগত শিক্ষকের মতো ভূমিকা রাখতে পারে। এটি জটিল বিষয় সহজ করে ব্যাখ্যা করতে এবং কুইজ বা অনুশীলনে সহায়তা করে। তবে এর নেতিবাচক দিকও আছে। অতিরিক্ত এআই-নির্ভরতা শিশুদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি পড়াশোনার দায়বদ্ধতা থেকে তাদের দূরে সরিয়ে নিতে পারে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন কিশোরের মধ্যে একজন তাদের স্কুলের সব কাজ বা অধিকাংশ কাজ এআইয়ের সাহায্য নিয়ে করে।
সম্প্রতি পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং কমনসেন্স মিডিয়ার এক গবেষণায় একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। এ গবেষণার ফলাফলে জানা গেছে, অধিকাংশ অভিভাবকই জানেন না তাঁদের সন্তান অনলাইনে এআই দিয়ে কী করছে। যেখানে ৬৪ শতাংশ কিশোর-কিশোরী চ্যাটবট ব্যবহার করে, সেখানে মাত্র ৫১ শতাংশ অভিভাবক এ বিষয়ে অবগত। এমনকি ১০ জনের মধ্যে ৪ জন অভিভাবক কখনো সন্তানের সঙ্গে এআই নিয়ে কথা বলেননি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এআইয়ের কাছ থেকে আবেগীয় সমর্থন বা ইমোশনাল সাপোর্ট নেওয়া। গবেষণার তথ্য বলছে, ১২ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পরামর্শ বা মানসিক সমর্থনের জন্য এআই ব্যবহার করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এআই সব সময় উৎসাহব্যঞ্জক এবং একমত হওয়ার মতো করে ডিজাইন করা হয়। ফলে শিশুরা যদি মানুষের বদলে এআইয়ের সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তবে তারা বাস্তব সম্পর্কের জটিলতা শিখতে পারবে না। তারা মতভেদ বা আপস করার দক্ষতা শিখতে ব্যর্থ হতে পারে। এমনকি চ্যাটবটের সঙ্গে অতিরিক্ত আসক্তির ফলে আত্মহত্যার মতো চরম ঘটনাও ঘটেছে।
সন্তান এআইয়ের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে কি না, তা বুঝতে অভিভাবকদের কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে হবে—
তাদের এআইকে বেস্ট ফ্রেন্ড বা বিশ্বস্ত সঙ্গী মনে করা।
এআই ব্যবহার করতে না পারলে অস্থির হয়ে পড়া।
স্কুলের ফল খারাপ হওয়া, ঘুম কমে যাওয়া বা বাস্তব বন্ধুদের এড়িয়ে চলা।
কঠিন আলোচনা এড়াতে এআইয়ের সাহায্য নেওয়া।
এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিশু—উভয়ই নতুন কিছু শিখছে। তাই একতরফা বিশেষজ্ঞ না হয়ে সন্তানের সঙ্গে মিলে নতুন প্রযুক্তিটি বোঝার চেষ্টা করুন।
আপনার নাম, স্কুল বা ব্যক্তিগত অনুভূতি কেন এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, এই বিষয় নিয়ে খোলামেলা কথা বলুন।
স্কুলগুলো কীভাবে এআই ব্যবহার করছে বা এর নৈতিক দিকগুলো কীভাবে সামলাচ্ছে, তা নিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপ করুন।
এআই ব্যবহারের সময়সীমা এবং এর ব্যবহারের ধরন নিয়ে পরিবারের সবাই মিলে সীমানা নির্ধারণ করুন।
সূত্র: বিবিসি, ইউনিসেফ

২০২৬ সালে ডিজিটাল বাস্তবতার যুগে আমাদের প্রত্যেকের হাতেই একটি স্মার্টফোন রয়েছে। এই ফোনের সাহায্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে আমরা যুক্ত। সেগুলোয় আমরা যখন কোনো নিখুঁত ছবি বা নিজেদের সাফল্যের গল্প শেয়ার করি, তার পেছনে থাকা ক্লান্তি, বিষণ্নতা বা চোখের নিচের কালি খুব সুন্দর করে মুছে ফেলি।
১ ঘণ্টা আগে
এই আবহাওয়ায় টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের খাবার খেতে দারুণ লাগে। তাই আজ আপনাদের জন্য থাকছে টক-মিষ্টি-ঝাল স্বাদের মেনি মাছের রসার রেসিপি। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। উপকরণ: মেনি মাছ ৬ পিস, বেগুন ২০০ গ্রাম, মিষ্টিআলু ১০০ গ্রাম, কাঁচা আম একটা, আদা ও রসুনবাটা এক চা-চামচ, হলুদ...
৫ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার মাথায় টাকার চেয়েও বেশি উপার্জনের বিপ্লবী সব আইডিয়া ঘুরবে। সকালে মনে হবে আজই আপনি ইলন মাস্কের রেকর্ড ভেঙে দেবেন, কিন্তু দুপুরে একটা ঘুম দিয়ে ওঠার পর মনে হবে—‘থাক, অত বড়লোক হয়ে কী হবে! ডাল-ভাত খেয়ে শান্তিতে থাকাই ভালো।’ স্ত্রীর সঙ্গে (বা গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে) তর্কে একদম যাবেন না।
৬ ঘণ্টা আগে
সন্তান সবজি খেতে চায় না, বলে দুঃখ করা বাবা-মায়ের সংখ্যা পৃথিবীতে সম্ভবত সবচাইতে বেশি। আর উল্টো দিকে সন্তানকে সবজি খাওয়াতে চান, এমন বাবা-মায়ের অভাব নেই পৃথিবীতে। এই যুদ্ধ পৃথিবীর প্রায় সব পরিবারেই হয়। পুষ্টিকর খাবার, বিশেষ করে সবুজ শাকসবজির নাম শুনলে বেশির ভাগ শিশু মুখ ফিরিয়ে নেয়। কিন্তু...
৭ ঘণ্টা আগে