আমাদের মুখমণ্ডলের অন্যান্য অংশের ত্বকের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি পাতলা হয় চোখের চারপাশের ত্বক। তাই রোজ যে ক্লিনজার স্ক্রাব বা ময়শ্চারাইজার আমরা মুখে ব্যবহার করি, তা চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য সমান কার্যকর নয়। আমরা মুখের ত্বকের যত্ন নিয়ে যত বেশি সচেতন, ঠিক ততটাই অবহেলা করি চোখের চারপাশের ত্বকযত্নের ব্যাপারে। তাই অনেকের চোখের নিচের ত্বকে শুষ্কতা দেখা দেয়, চোখের নিচের অংশে ফোলা ভাব দেখা দেয়, এ ছাড়া কালচে ভাব বেড়ে যায়।
আমাদের শরীরের ছোটখাটো সমস্যা থেকে ত্বকের অযত্ন—সবই চোখের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। তাই দৈনন্দিন রূপচর্চায় চোখকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া চাই। রোজকার রূপ রুটিনে আলাদা করে ১০ মিনিট চোখের জন্য বরাদ্দ রাখুন। পাশাপাশি কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। তাহলে চোখ আলো ছড়াবে আরও অনেকখানি।
চোখের পাতার সুরক্ষায়
রূপবিশেষজ্ঞ ও বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ কেয়ারের স্বত্বাধিকারী শারমিন কচি বলেন, ‘চোখের চারপাশের ত্বকের জন্য ক্লিনজিং, স্ক্রাবিং এবং ময়শ্চারাইজিং—তিনটিই জরুরি। তবে মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। বেছে নিতে হবে জেন্টল স্ক্রাব, যেমন ওটমিল আর দুধের মিশ্রণ বা গোলাপের পাপড়িবাটা।’
অল্প পরিমাণে স্ক্রাব নিয়ে আলতো করে চোখের চারপাশে ঘষে নিন। এভাবে এক মিনিট স্ক্রাব করে ধুয়ে নিন।
মেকআপ তোলার বেলায়ও থাকতে হবে সতর্ক। চোখে আইশ্যাডো, আইলাইনার ও মাশকারা থাকলে বাড়িতে ফিরে প্রথমেই তা তুলে নিতে হবে। এর জন্য কোনো অয়েল বেসড মেকআপ রিমুভার আঙুলে স্প্রে করে নিয়ে চোখের পাতার ওপর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ করতে থাকুন। তবে জোরে জোরে ঘষবেন না। এরপর কটন প্যাড পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে আলতো করে চোখের পাতা মুছে নিন। তারপর মৃদু ক্লিনজার দিয়ে ধুয়ে নিন। সবশেষে আন্ডার-আই ক্রিম লাগান। এতে করে মেকআপ থেকে চোখের পাতার ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চোখের তলায় কালো দাগের সমস্যায় কমবেশি সবাই জীবনের কোনো না কোনো সময় ভোগেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি চোখের কালো দাগের সমস্যা থাকলে জেনে নিন, নেপথ্যে কোনো শারীরিক সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে কি না। শারীরিক কোনো সমস্যার কারণে চোখের নিচে কালি পড়েছে কি না, সে জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পারেন। না থাকলে খেয়াল করুন পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কি না। মানসিক চাপের লেভেল কেমন রয়েছে, সেটাও যাচাই করে নেওয়া চাই। এগুলোর কোনোটাই না থাকলে যত্ন নেওয়ায় মনোযোগ দিন।
চোখের চারপাশের ত্বক অনেক বেশি নরম ও কোমল হয়। তাই এর ময়শ্চারাইজেশনের প্রয়োজনও আলাদা। সকালে ও রাতে পরিষ্কার ত্বকে আন্ডার-আই জেল ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলা সানস্ক্রিনও দিতে পারেন।
শারমিন কচি বলেন, চোখের চারপাশের ত্বক অনেক বেশি নরম ও কোমল হয়। তাই এর ময়শ্চারাইজেশনের প্রয়োজনও আলাদা। সকালে ও রাতে পরিষ্কার ত্বকে আন্ডার-আই জেল ব্যবহার করতে হবে। দিনের বেলা সানস্ক্রিনও দিতে পারেন। এ ছাড়া কড়া রোদে বের হলে সানগ্লাস ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।
চোখের ত্বকের এই অংশে সরাসরি কনসিলার, ফাউন্ডেশন বা পাউডার ভুলেও ব্যবহার করবেন না। আগে আন্ডার-আই ভালোভাবে ময়শ্চারাইজ় করে নিতে হবে, তারপর মেকআপ করুন। মেকআপ তোলার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সাবধানতা নিন। অয়েল বেসড রিমুভার ভালো চোখের নিচের মেকআপ তোলার জন্য। না হলে কটন প্যাড মাইসেলার ওয়াটারে ডুবিয়ে ওপরের দিকে তাকিয়ে চোখের নিচে ধরে রাখুন ১০-১৫ সেকেন্ড। তারপর আলতো করে মুছে নিন।
যাঁরা চোখের ফোলাভাবের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা ঠান্ডা গ্রিন টি ব্যাগ, কিউকাম্বার জেল, শসার চাকতি অথবা অ্যালোভেরা জেল চোখের ওপর লাগিয়ে রাখতে পারেন। এ ধরনের কুলিং জেল আঙুলে করে পুরো চোখের ওপর এবং চারপাশে সার্কুলার মোশনে ম্যাসাজ করুন অন্তত তিন মিনিট। নিয়মিত এভাবে চোখের চারপাশ ম্যাসাজ করলে বলিরেখা বা চোখের কোণে ক্রোজ ফিট থেকেও দীর্ঘ সময় আপনি সুরক্ষিত থাকবেন। চোখের কালো দাগ কমাতে, কফিগুঁড়া অল্প অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। গ্রিন টি এবং অলিভ অয়েল ব্যবহার করলেও উপকার পাবেন। মিনিট পনেরো রেখে ধুয়ে নিন। এরপর আপনার চোখের দীপ্তি ছড়িয়ে পড়বে সবখানে।

স্যান্ডেলের জায়গায় যেমন ধীরে ধীরে বুট আসে, টি-শার্টের বদলে আলমারি থেকে বের হয় সোয়েটার, তেমনি ঋতুবদলের সঙ্গে বদলানো উচিত ত্বকের যত্ন। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া থেকে যখন ধীরে ধীরে ঠান্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়ার দিকে যেতে থাকে প্রকৃতি, তখন ত্বকেও তার প্রভাব পড়ে।
২ ঘণ্টা আগে
অতিথি এলে ঘরে যেন একটু উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। তবে অতিথিকে স্বাগত জানানোর ধরন সব দেশে এক রকম নয়। কোথাও অতিথির জন্য করা হয় খাবারের বিশাল আয়োজন, কোথাও এক কাপ চা-ই হয়ে ওঠে আন্তরিকতার প্রতীক। আবার কোথাও অতিথিকে সম্মান জানাতে নির্দিষ্ট অভিবাদন বা কিছু শিষ্টাচার মেনে চলার রীতি রয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মিষ্টিজাতীয় খাবার বা ডেজার্টের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভাসে চকলেট, ক্রিম, ক্যারামেল এবং নানা ধরনের কেক। কিন্তু ফলের মিষ্টতা, টক-মিষ্টি স্বাদ ও রংও যে একটি ডেজার্টকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, তার উদাহরণ ছড়িয়ে আছে বিশ্বের নানা দেশের রান্নায়। পরিচিত কলা, আম, আনারস, স্ট্রবেরি বা চেরি দিয়েই তৈরি করা যায়...
৬ ঘণ্টা আগে
শীত মানেই একটু উষ্ণতার খোঁজ। রান্না ও খাওয়ার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না। গরম স্যুপ, খেজুর গুড়ের পায়েস, পিঠা কিংবা এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা শীতের আমেজ তৈরি করে দেয়। ফলে ঋতুবদলের সঙ্গে রান্নাঘরের উপকরণ ও কাজকর্মে আসে বেশ কিছু পরিবর্তন। একটু বেশি সময় ধরে রান্না করা, একসঙ্গে অনেকটা খাবার তৈরি করা কিংবা...
২১ ঘণ্টা আগে