Ajker Patrika

দুবাইয়ে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল ‘সিয়েল টাওয়ার’

ফিচার ডেস্ক
দুবাইয়ে চালু হলো বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল ‘সিয়েল টাওয়ার’
ছবি: সংগৃহীত

দুবাই এমন এক শহর, যেখানে রেকর্ড গড়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। সবচেয়ে উঁচু ভবন, সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেল, সবচেয়ে বড় শপিং মল—সবকিছুর সেরা হতে চায় এই শহর। কিন্তু এবার যে রেকর্ড যুক্ত হলো, তা একটু ভিন্ন। কারণ, এর জন্য কোনো পূর্বপরিকল্পনাই ছিল না।

দুবাই মারিনার আকাশে ৩৭৭ মিটার উঁচু হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সিয়েল টাওয়ার এখন বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল। অথচ এর নির্মাতারা শুরুতে এমন কোনো রেকর্ড গড়ার কথা ভাবেননি। নকশা বদলেছে, সুবিধা যোগ হয়েছে, আর সেই সঙ্গে ভবনটিও ধীরে ধীরে আকাশের দিকে বাড়তে থেকেছে। এভাবেই অনিচ্ছাকৃতভাবে জন্ম নিয়েছে একটি বিশ্ব রেকর্ড।

প্রকল্প উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান দ্য ফার্স্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রব বার্নস অকপটে বলেন, ‘আমরা জানতাম, ব্যতিক্রমী কিছু বানাতে চাই। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু হোটেল বানানোর পরিকল্পনা আমাদের ছিল না।’

সিয়েল টাওয়ারের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর ভিত্তি। পুরো ভবন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র ৩ হাজার ৬০০ বর্গমিটার জায়গার ওপর। দুবাইয়ের মতো শহরে জায়গার অভাব নেই, সেখানে এত ছোট জমিতে ৮২ তলার হোটেল গড়ে তোলাটা ছিল প্রকৃত অর্থেই চ্যালেঞ্জ।

সিয়েল টাওয়ারে ঢুকলে দুবাইয়ের চেনা জাঁকজমক চোখে পড়ে না। নেই বিশাল লবি, ঝরনা বা সুবিশাল ফাঁকা জায়গা। বরং প্রবেশপথে রয়েছে হালকা আলো এবং পরিমিত নকশা। যেন ভবনটি শুরু থেকে জানিয়ে দেয় এখানে আড়ম্বর নয়, জায়গার সঠিক ব্যবহারই মুখ্য।

এই হোটেলে রয়েছে ১ হাজার ৪টি কক্ষ। দুবাইয়ের বিশাল রিসোর্ট স্যুটের তুলনায় কক্ষগুলো আকারে কিছুটা ছোট। তবে সেই ঘাটতি পূরণ করে দেয় মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত কাচের জানালা, যেখান থেকে দেখা যায় দুবাই মারিনা, পাম জুমেইরা। এ ছাড়া আরব উপসাগরের বিস্তৃত নীল জলরাশি তো রয়েছেই।

দুবাইয়ের প্রতিযোগিতামূলক হোটেল বাজারে টিকে থাকা সহজ নয়। বিষয়টি স্বীকার করেই বার্নস বলেন, ‘এটা অবশ্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা আতিথেয়তা নিয়ে খুবই আশাবাদী।’ তাঁর মতে, ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর অনন্য অবস্থানই সিয়েলকে আলাদা করবে।

এত উঁচু ভবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা বাতাস। এই সমস্যা সমাধানে সিয়েল টাওয়ারের মাঝখানে রাখা হয়েছে একটি বিশাল ফাঁকা অংশ, যাকে ইয়াহিয়া জান বলেন, ‘আই অব দ্য নিডল’ বা ‘চোখের সুচ’। এই ফাঁক দিয়ে বাতাস ভবনের ভেতর দিয়ে চলে যেতে পারে, ফলে চাপ কমে যায়।

সিয়েল টাওয়ারের সবচেয়ে আলোচিত অংশ নিঃসন্দেহে ৭৬ তলার ইনফিনিটি স্কাইপুল। আকারে বড় নয়, কিন্তু এমনভাবে নকশা করা হয়েছে, যেন পানির প্রান্ত আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে। এটি স্থাপিত হয়েছে ভবনের সেই ফাঁকা অংশেই, যেখান দিয়ে বাতাস চলাচল করে।

ওপরের তলাগুলোতে ছড়িয়ে রয়েছে আটটি রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টাট্টু ব্র্যান্ডের রেস্তোরাঁগুলো ভবনের সবচেয়ে উঁচু অংশে, যেখানে সাজসজ্জার চেয়ে দৃশ্যই প্রধান আকর্ষণ।

সূত্র: সিএনএন

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত