জামদানি, মসলিন, কাতান, সুতি, হাফসিল্ক মোটামুটি সব ধরনের শাড়ি একজন নারীর সংগ্রহে থাকে। বলা হয়, শাড়িতে নারীর সুখ লুকিয়ে থাকে। নিয়মিত পরার জন্য নারীরা বেছে নেন সুতি ও হাফসিল্ক শাড়ি। এসব শাড়ি সামলাতে বেগ পেতে হয় না। মেলে স্বস্তিও। এ ছাড়া সুতি, হ্যান্ডলুম, হাফসিল্কের শাড়িতে করা যায় মনের মতো রং।
শাড়িতে ফুটিয়ে তোলা যায় শিউলির স্নিগ্ধতা, নীল আকাশে ভেসে যাওয়া মেঘ, দিগন্তজোড়া কাশফুলের সারি, পেখম মেলে থাকা ময়ূর, সোনালি বনে ছোট পাখির ঝাঁক, মাধবীলতা বা মধুমঞ্জরীর বাহার। ফুটিয়ে তোলা যায় কদম, কৃষ্ণচূড়া, শাপলা, প্রজাপতিসহ আরও অনেক কিছু। শুধু কি তা-ই? প্রিয় লেখকের কোনো উক্তি, বইয়ের প্রচ্ছদ, কবিতার চরণ ইত্যাদি সবকিছুই মূর্ত করে তোলা যায় শাড়িতে। বলছি হ্যান্ডপেইন্ট বা হাতে আঁকা শাড়ির কথা।
সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে গেছে অনেকখানি। আড়ষ্টতা ঝেড়ে ফেলে সবাই এখন মনের মতো পোশাক পরার দিকে মনোযোগী হয়ে উঠেছেন। ফ্যাশন আর ঋতুর যুগলবন্দীতে এখন হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ির বেশ রমরমা। একজন শিল্পী বা নকশাকার তাঁর শৈল্পিক সত্তার সবটা ব্যবহার করে শাড়িজুড়ে টুকরো টুকরো গল্প সাজিয়ে তোলেন। মনের প্রেম প্রতীয়মান হয় শাড়ির ভাঁজে ভাঁজে। এ জন্যই হয়তো হাতে আঁকা শাড়ির কদর একটু বেশি।
সামনে আসছে পূজা। পূজা মানেই আনন্দ-উৎসব। এ আনন্দ ধরে রাখতে চাইবেন সবাই পোশাকে। নতুন শাড়িতে নিজেকে রাঙিয়ে নেওয়ার তাই কমতি রাখলে চলবে না। পূজাকে কেন্দ্র করে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো শাড়িতে ঋতু ও পূজাকেন্দ্রিক বিভিন্ন মোটিফ নিয়ে এসেছে। শাড়ির আঁচল ও জমিনে শোভা পাচ্ছে উৎসব। পিছিয়ে নেই অনলাইন উদ্যোক্তারাও।
ফেসবুকনির্ভর উদ্যোক্তারাও উৎসবকে কেন্দ্র করে এনেছেন নতুন মোটিফের শাড়ি।
তবে হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ির নকশা নির্ভর করে শিল্পী ও ক্রেতার চাহিদার ওপর। শিল্পী ঠিক তা-ই আঁকেন, যা ক্রেতা চান। কিছু কিছু শাড়ির জমিনজুড়ে আঁকা হয় হালকা নকশা।
আঁচলে ফুটিয়ে তোলা হয় আকর্ষণীয় ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়। কখনো কখনো কুঁচিতে বিভিন্ন নকশা আঁকা হয়। মাঝে মাঝে জমিন ও পাড়ের রং ও ডিজাইনে দেখা যায় বৈপরীত্য। রঙের বৈপরীত্য আর শেডের দারুণ সমন্বয়ই হ্যান্ডপেইন্ট শাড়িকে অনন্য করে তোলে।
‘পঞ্চরং’-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সাদিকা তাসনিম মৃদু জানান, হ্যান্ডপেইন্টের চাহিদা বেশি ঢাকা ও চট্টগ্রামে। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে এই শাড়িগুলোয় বিভিন্ন বিষয় প্রাণবন্ত করে তোলা হয়। পঞ্চরং-এর শাড়িতে লতা, পাতা, ফুল ইত্যাদি বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। শরৎকে মাথায় রেখে শিউলি ও কাশফুলের আবেশে সাজানো হয়েছে অধিকাংশ শাড়ি বলে জানান সাদিকা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে পঞ্চরং নিয়ে এসেছে বিভিন্ন শাড়ি। পূজার শাড়িগুলোর পুরো জমিনে হালকা ফুলের কাজ করা হয়েছে। আঁচলকে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রতিমার মুখ আঁকা হয়েছে বলে জানান সাদিকা তাসনিম মৃদু।
‘র’ ফ্যাশন হাউসের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জিন্নাতুন জান্নাত বলেন, ‘আমাদের কাছে ফ্লোরাল পেইন্টের শাড়িগুলোর অর্ডার বেশি আসে।’ গোলাপ, জবা ও অন্যান্য ফুলের ডিজাইনে চাহিদা বেশি থাকে। থিমভিত্তিক কাজও করে থাকেন তাঁরা। মসলিন শাড়িতে হ্যান্ডপেইন্ট করা হলে শাড়ির দাম শুরু হয় ৯ হাজার ৮০০ টাকা থেকে। সিল্ক, এন্ডি সিল্কের ফেব্রিকের ওপরও হ্যান্ডপেইন্ট করে র ফ্যাশন হাউস। সেগুলোর দাম শুরু হয় ১৩ হাজার টাকা থেকে।
‘পদ্মপুরাণ’-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার জেবুন নাহার যুঁথী জানান, তাঁদের শাড়িতে ফুল-পাখি এই মোটিফগুলো বেশি থাকে। পূজার জন্য শিউলি, কাশফুল মোটিফের কাজ করেছেন তাঁরা। ডিজাইনের তারতম্য অনুযায়ী একটি শাড়িতে হ্যান্ডপেইন্ট করতে তিন থেকে সাত দিন সময় লাগে। শাড়ির দাম কাপড় ও নকশার ওপর নির্ভর করে। পদ্মপুরাণের করা হাফসিল্ক শাড়ির দাম শুরু হয় ১ হাজার ৮৫০ টাকা থেকে।
যত্ন-আত্তি
প্রাপ্তিস্থান ও দরদাম
হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি কিনতে দেশীয় ফ্যাশন হাউসে ঢুঁ মারতে পারেন। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, গাউছিয়া, মৌচাক মার্কেট ইত্যাদিতে পাওয়া যায় হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি। অনলাইন পেজ ‘র’, কাজলা স্টুডিও, পঞ্চরং, ইচ্ছেরঙিন, সাজলহরী, ইচ্ছেপূরণ, পদ্মপুরাণ, নয়া বায়নায় পাবেন হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি। সুতি ও হ্যান্ডলুমের ওপর হ্যান্ডপেইন্ট করা শাড়িগুলোর দাম সাধারণত ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। মসলিন ও সিল্ক শাড়িতে হ্যান্ডপেইন্ট করা হলে দাম ৯ হাজার থেকে ১৮ হাজার কিংবা ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

নিজের সৌন্দর্য নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকার মতো অবস্থাকে এখন বলা হচ্ছে বিউটি অ্যাংজাইটি। খুঁজলে নিজের বন্ধুদের মধ্য়েও দু-একজনের দেখা পেয়ে যাবেন, যাঁরা প্রায়ই নিজের রূপ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। কী কী করলে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে তাঁদের সারা দিনের যত ভাবনা। নিজের পোশাক, স্টাইল, চুল বাঁধার...
৭ ঘণ্টা আগে
ব্যস্ত সময়সূচি থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিক সৌন্দর্য ও সুস্থতার রুটিন বজায় রাখেন ম্রুণাল ঠাকুর। তিনি পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে নিজের সৌন্দর্যচর্চার রুটিন বজায় রাখেন। শুধু তা-ই নয়, ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে ম্রুণাল চিয়া বীজের পানীয় পান করতে পছন্দ করেন।
৯ ঘণ্টা আগে
বাজারে এখন পাকা আমের ছড়াছড়ি। তাই এই চেনা আম দিয়েই যদি তৈরি করে নেওয়া যায় একদম অন্য রকম, চটপটে আর রিফ্রেশিং কিছু? পাকা আমের মিষ্টি স্বাদ, সঙ্গে লেবুর টক, কমলার রিফ্রেশিং জুস আর হালকা মরিচের ঝাল! সব মিলিয়ে চুমুকেই মন ভালো করে দেওয়ার মতো এক পানীয়ের নাম চিলি লাইম ম্যাঙ্গো। মেক্সিকান এই পানীয়টি বানানো...
১১ ঘণ্টা আগে
ধরুন অফিসে মিটিং চলছে। সেখানে আপনার বসের একটি আইডিয়া বা সহকর্মীর কাজের পরিকল্পনা আপনার একদম পছন্দ হলো না। আপনি এটাও নিশ্চিত যে এই পরিকল্পনা মেনে কাজ করলে প্রজেক্টটি ভালো হবে না। কিন্তু আপনি মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেন না।
১ দিন আগে