
সেহরির সময়টা রোজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু অনেক রোজাদারই অভিযোগ করেন যে, রাতের শুরুতে সহজে ঘুম আসতে চায় না। আবার দেরিতে ঘুমালে সেহরির জন্য খুব ভোরে উঠতে হয়, যা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায়। এই অল্প সময়ের ঘুমটুকু দ্রুত আনার জন্য অনেকেই শেষ রাতে টিভি চালিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি সহায়ক মনে হলেও এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই রয়েছে। সেহরির আগে হাতে সময় খুব কম থাকে। তাই এই অল্প সময়ে গভীর ও আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। টিভি চালিয়ে ঘুমানো যদিও দ্রুত চোখ বুজতে সাহায্য করতে পারে, তবে ঘুমের মান উন্নত করতে প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকাই হবে সবচেয়ে ভালো সমাধান।
নেতিবাচক দিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অপরিহার্য। টিভি চালিয়ে ঘুমানোর ক্ষেত্রে বেশ কিছু নেতিবাচক দিক গবেষণায় উঠে এসেছে।
নীল আলোর প্রভাব ও হরমোন হ্রাস: টিভি থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের ‘মেলাটোনিন’ নামের হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। এই হরমোন মস্তিষ্ককে ঘুমের সংকেত পাঠায়। নীল আলোর কারণে মস্তিষ্ক দিন ও রাতের পার্থক্য বুঝতে পারে না, ফলে গভীর ঘুম আসা কঠিন হয়ে পড়ে।
মস্তিষ্কের উদ্দীপনা: ঘুমানোর সময় আমাদের মস্তিষ্ক শান্ত থাকা প্রয়োজন। কিন্তু টিভির শব্দ, আলোর ঝলকানি বা সংবাদের অ্যালার্ট মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। এমনকি ঘুমের মধ্যেও আমাদের মস্তিষ্ক বাইরের শব্দ গ্রহণ করতে পারে; যা অদ্ভুত বা বিরক্তিকর স্বপ্নের কারণ হতে পারে।
ঘুমের ঋণ: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। টিভির কারণে যদি আপনি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কম ঘুমান, তবে শরীরে ‘স্লিপ ডেট’ বা ঘুমের চাহিদা তৈরি হয়। এর ফলে সারা দিন কাজে মনোযোগ দিতে সমস্যা হয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি: ২০১৯ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, টিভির কৃত্রিম আলোর মধ্যে ঘুমানোর ফলে স্থূলতা বা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়ে যায়। এটি শরীরের বিপাক প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

কখন এটি উপকারী হতে পারে
সবকিছুর নেতিবাচক দিক থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে টিভি চালিয়ে ঘুমানোর কিছু সাময়িক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
হোয়াইট নয়েজ হিসেবে ব্যবহার: টিভির গুনগুন শব্দ অনেকের কাছে ‘হোয়াইট নয়েজ’ হিসেবে কাজ করে; যা বাইরের কোলাহল ভুলে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, হোয়াইট নয়েজ ঘুমের গতি প্রায় ৩৮ শতাংশ বাড়িয়ে দিতে পারে।
মানসিক চাপ হ্রাস: প্রিয় কোনো সিনেমা বা পরিচিত কাল্পনিক জগতের গল্প দেখলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ কমে আসে এবং মন শান্ত হয়। এটি অনিদ্রা দূর করতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যান্য ডিভাইসের চেয়ে ভালো: স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো টিভির চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। সে তুলনায় টিভির আলো চোখের জন্য কিছুটা কম ক্ষতিকর।
সুস্থ ঘুমের জন্য টিপস
যদি আপনার টিভি ছাড়া ঘুম না-ই আসে, তবে নিচের কৌশলগুলো অবলম্বন করতে পারেন।
স্লিপ টাইমার সেট করা: টিভিতে স্লিপ টাইমার ব্যবহার করুন, যেন আপনি ঘুমিয়ে যাওয়ার ৩০ বা ৬০ মিনিট পর টিভি নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে সারা রাত নীল আলোর সংস্পর্শে থাকতে হবে না।
অনুষ্ঠান নির্বাচন: অ্যাকশন মুভি বা সংবাদের বদলে কোনো শান্ত মিউজিক বা পরিচিত কমেডি শো বেছে নিন।
বিছানা আরামদায়ক করা: শোওয়ার ঘর অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখুন। প্রয়োজনে স্লিপ মাস্ক ব্যবহার করুন।
খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: ঘুমানোর ঠিক আগে ক্যাফেইন বা ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন।
সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ ডাইজেস্ট, স্লিপ ডটকম

রমজান মাস কেবল ধর্মীয় ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সময় নয়, এটি আমাদের শরীরের পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দেওয়ার ও ক্ষতিকর টক্সিন দূর করার একটি বিশেষ সুযোগ। তবে সঠিক নিয়ম না মেনে ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করলে এই মহৎ উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। দেখা যায়, রমজানে পেটের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা
২ ঘণ্টা আগে
রমজানে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর হুট করে অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খেলে পাকস্থলীতে অম্ল বা অ্যাসিড তৈরি হয়, যা থেকে গ্যাস, বুক জ্বালা এবং বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি এই অভ্যাস আপনার কিডনি ও লিভারের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
২ ঘণ্টা আগে
রমজান আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। পরিবারের বড়রা যখন রোজা ও ইবাদতে মশগুল থাকেন, তখন ঘরের ছোট সদস্যদের দৈনন্দিন রুটিনে কিছুটা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। শিশুরা রোজা না রাখলেও রমজান মাসের আধ্যাত্মিক পরিবেশ তাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
৩ ঘণ্টা আগে
এই ভালোবাসার মাসে প্রিয়জনের জন্য নিজ হাতে তৈরি করতে পারেন মজাদার ও ব্যতিক্রমী কিছু খাবার। আপনাদের জন্য সুস্বাদু ও মজাদার হার্টশেপ পিৎজার রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা।
৪ ঘণ্টা আগে