Ajker Patrika

পরামর্শ

সফল হতে চাইলে আগে সঠিকভাবে চিন্তা করা শিখুন

মো. আশিকুর রহমান
সফল হতে চাইলে আগে সঠিকভাবে চিন্তা করা শিখুন

আমরা প্রতিদিন অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিই। এই সিদ্ধান্ত থেকে শুরু করে ক্যারিয়ারের বড় মোড় নির্ধারণ, সবকিছুই নির্ভর করে আমাদের চিন্তা ও বিচারবোধের ওপর। কিন্তু আমরা কি নিশ্চিত, প্রতিটি সিদ্ধান্তই পুরোপুরি যুক্তিনির্ভর?

মজার বিষয় হলো, মানুষের মস্তিষ্ক অনেকটা কম্পিউটারের মতো কাজ করে। আর কম্পিউটারের মতো এতে কখনো কখনো ‘বাগ’ বা ত্রুটি দেখা দেয়। এই ত্রুটিগুলো মূলত লজিক্যাল ফ্যালাসি ও কগনিটিভ বায়াস। নিজের চিন্তার জগৎকে পরিশীলিত করা, অর্থাৎ ‘ব্রেইন অপারেটিং সিস্টেম’ আপডেট করার নামই হলো ক্রিটিক্যাল থিংকিং।

ক্রিটিক্যাল থিংকিং কেন জরুরি: ক্রিটিক্যাল থিংকিং বা বস্তুনিষ্ঠ চিন্তা মানে কোনো তথ্য অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে সেটিকে যুক্তি, প্রমাণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে যাচাই করা। এটি শুধু প্রশ্ন করার ক্ষমতা নয়, বরং সঠিক প্রশ্ন করার দক্ষতা। আজকের তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যা আলাদা করতে না পারলে পিছিয়ে পড়া অনিবার্য। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গুজব, অপপ্রচার কিংবা আবেগনির্ভর সিদ্ধান্ত—সবকিছুর ভিড়ে টিকে থাকতে হলে দরকার পরিষ্কার চিন্তা ও বিশ্লেষণী মন।

কগনিটিভ বায়াস: আমাদের অজান্তেই মস্তিষ্ক অনেক সময় শর্টকাটে সিদ্ধান্ত নেয়। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘কগনিটিভ বায়াস’।

কনফারমেশন বায়াস: আমরা সাধারণত সেই তথ্যগুলো গ্রহণ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি, যা আমাদের আগের ধারণার সঙ্গে মিলে যায়। বিপরীত মতামত শুনতে চাই না।

অ্যাঙ্করিং বায়াস: কোনো বিষয়ে প্রথম যে তথ্যটি আমরা পাই, সেটিকেই অনেক সময় চূড়ান্ত সত্য ধরে নিই। পরবর্তী তথ্যগুলোকে সেই প্রথম ধারণার ভিত্তিতে বিচার করি।

এই বায়াসগুলো আমাদের বিচারশক্তিকে অস্পষ্ট করে দেয়। তাই নিজের বিশ্বাসের বিপরীত যুক্তিও মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

লজিক্যাল ফ্যালাসি: অনেক সময় আমরা তর্কে জিতে যাই, কিন্তু যুক্তিতে হেরে বসি। কারণ, সেখানে থাকে ‘লজিক্যাল ফ্যালাসি’ অর্থাৎ যুক্তির ভুল।

অ্যাড হোমিনেম: যখন কোনো যুক্তির উত্তর না দিয়ে সরাসরি ব্যক্তির চরিত্র, ব্যক্তিজীবন বা ব্যক্তিত্বকে আক্রমণ করা হয়।

স্ট্র ম্যান: অন্যের বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সেটিকে আক্রমণ করা। এ ধরনের ভুল যুক্তি আমাদের আলোচনা ও সিদ্ধান্ত—দুটোকেই দুর্বল করে দেয়।

কীভাবে চিন্তার শক্তি বাড়াবেন: প্রশ্ন করুন। কোনো খবর বা তথ্য দেখে তা বিশ্বাস করবেন না। নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, তথ্যের উৎস কী? এর পেছনে কোনো স্বার্থ আছে কি? বিপরীত দিকটাও ভাবুন। আপনি যা বিশ্বাস করেন, তার ঠিক উল্টোটা কেন সত্য হতে পারে—এ নিয়ে কিছু সময় ভাবুন। এতে চিন্তার গভীরতা বাড়বে। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন।

রাগ, হতাশা বা অতিরিক্ত উত্তেজনার মুহূর্তে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। আবেগ প্রায়ই যুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অজানাকে স্বীকার করুন। ‘আমি জানি না’ বলতে পারা দুর্বলতা নয়; বরং এটি পরিণত চিন্তার লক্ষণ।

পৃথিবী শুধু তাদের নয়, যারা অনেক কিছু জানে; পৃথিবী তাদেরও, যারা সঠিকভাবে চিন্তা করতে জানে। এই প্রতিযোগিতামূলক সময়ে টিকে থাকতে হলে জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োজন যুক্তিবোধ, আত্মসমালোচনা ও বিশ্লেষণী মানসিকতা। ভুল ধারণা, অন্ধবিশ্বাস ও আবেগনির্ভর সিদ্ধান্তের দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসুক স্বাধীন চিন্তা। মনে রাখতে হবে, সঠিক চিন্তাই সফল জীবনের ভিত্তি।

আজই শুরু হোক নিজের চিন্তার জগতের সংস্কার।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

আইন অনুযায়ী নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভর্সিটিতে যুক্ত করা হবে

মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল অস্ত্র বিক্রির তোড়জোড় ট্রাম্পের, অন্যদিকে অবরোধ ভেঙে ইরান-ইরাক-সিরিয়া অক্ষের উত্থান

টিকা বন্ধ করে দিয়েছিল ইউনূস সরকার, এরপরই দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব

বুড়ো বয়সে আমাকে দেখার আশায় সন্তানকে বড় করিনি: অঞ্জন দত্ত

সিলেটে ট্রাক-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ শ্রমিক নিহত

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত