
জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ‘জুমুআহ’ শব্দের অর্থ একত্র হওয়া বা কাতারবদ্ধ হওয়া। সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন শুক্রবারে প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানরা একত্র হয়ে জামাতের সঙ্গে জোহরের নামাজের পরিবর্তে এই নামাজ আদায় করেন, তাই একে জুমার নামাজ বলা হয়। পবিত্র কোরআনে এই নামাজের নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা রয়েছে।
জুমার নামাজ দুই রাকাত ফরজ। এর আগে চার রাকাত কাবলাল জুমা এবং পরে চার রাকাত বাদাল জুমা (সুন্নত) আদায় করতে হয়। এটি জামাতের সঙ্গে আদায় করা আবশ্যিক এবং একা পড়া যায় না। অসুস্থ ব্যক্তি বা মুসাফিরদের জন্য যোহরের নামাজ আদায় করা জায়েজ।
জুমার দুই রাকাত ফরজ নামাজ ও ইমামের খুতবা জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজের স্থলাভিষিক্ত। জুমার খুতবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ইমাম সমসাময়িক বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। দুটি খুতবা দেওয়া হয় এবং খতিব (যিনি খুতবা দেন) কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন।
আল্লাহ তাআলা এই দিনে জগৎ সৃষ্টির পূর্ণতা দান করেছেন। হজরত আদম (আ.) ও হাওয়া (আ.)-কে এই দিনে জান্নাতে একত্র করা হয়েছিল। মুসলিম উম্মাহ সাপ্তাহিক ঈদ ও ইবাদত উপলক্ষে এই দিনে মসজিদে একত্র হয়। প্রথম হিজরিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় পৌঁছে বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন।
জুমার নামাজ জোহরের ওয়াক্তেই আদায় করা হয় এবং এটি জোহরের স্থলাভিষিক্ত। তবে নিয়ম ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে জোহর ও জুমার নামাজের মধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। নিচে সেগুলো সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
জুমার ফরজ নামাজ ২ রাকাত, যা ইমামের পেছনে জামাতে আদায় করা আবশ্যক। অন্যদিকে সাধারণ দিনে জোহরের ফরজ নামাজ ৪ রাকাত, যা জামাতে বা একাকী—দুভাবেই আদায় করা যায়।
জুমার নামাজের ক্ষেত্রে ফরজের আগে ৪ রাকাত কাবলাল জুমা এবং পরে ৪ রাকাত বাদাল জুমা (সুন্নতে মুয়াক্কাদা) আদায় করতে হয়। অন্যদিকে জোহরের নামাজের ক্ষেত্রে ফরজের আগে ৪ রাকাত এবং ফরজের পরে ২ রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা পড়ার বিধান রয়েছে।
জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো খুতবা। নামাজ শুরু করার আগে ইমাম সাহেব দুটি খুতবা প্রদান করেন, যা শোনা উপস্থিত সকল মুসল্লির জন্য ওয়াজিব বা আবশ্যক। জোহরের নামাজের জন্য এ ধরনের কোনো খুতবা নেই।
ইসলামে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। জুমার নামাজের আগে-পরে সুরা কাহাফ তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, তওবা-ইস্তিগফার এবং বিশেষ দোয়ার আমল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফজিলত জোহরের সাধারণ ওয়াক্তের চেয়ে অনেক বেশি। তবে এসব নফল আমল জুমার নামাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বা বাধ্যতামূলক নয়, বরং এগুলো ঐচ্ছিক ও সওয়াব বৃদ্ধির মাধ্যম।
জুমার নামাজ একাকী আদায় করা যায় না; এটি আদায়ের জন্য সর্বনিম্ন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক মুসল্লির জামাত এবং এলাকাটি শহর বা শহরতলি হওয়া আবশ্যক। কিন্তু জোহরের নামাজ জামাত ছাড়াও এককভাবে যেকোনো স্থানে আদায় করা সম্ভব।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি পরপর তিনটি জুমা বিনা ওজরে ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। এটি কবিরা গুনাহ। তবে ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য জুমা ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ।

যেকোনো কঠিন বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আন্তরিকভাবে দোয়া করা নবী-রাসুলদের অন্যতম সুন্নত। আর এমনই এক মহিমান্বিত ও বরকতময় আমল হলো ‘দোয়া ইউনুস’। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৭ ঘণ্টা আগে
যারা আগেভাগে মসজিদে আসে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে—তাদের জন্য রয়েছে অতুলনীয় সওয়াবের প্রতিশ্রুতি। এমনকি কারও নামের পাশে লেখা হতে পারে উট সদকার সওয়াবও! হাদিস ও কোরআনের আলোকে আমরা জেনে নিতে পারি—এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কীভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়।
১ দিন আগে
তৎকালীন আরব সমাজ যখন ঘোর অমানিশায় আচ্ছন্ন ছিল, মজলুমের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছিল আকাশ-বাতাস, আর মানবসভ্যতা বঞ্চনার হিমালয়ের নিচে ডুকরে কাঁদছিল—ঠিক তখনই ন্যায়বিচারের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা হয়ে আগমন করেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।
১ দিন আগে