
পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের মধ্যে ফজরের নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। দিনের শুরুতে জামাতের সঙ্গে ফজর নামাজ আদায় করা একজন মুমিনের জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। প্রিয় নবীজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর নিরাপত্তা লাভ করল।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৩৮০)। শুধু তা-ই নয়, যাঁরা ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করেন, ফেরেশতারা আল্লাহর দরবারে তাঁদের পক্ষে সাক্ষ্য দেন।
ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়টি বিশেষ বরকত ও সওয়াবের সময়। এই সময়টুকু ইবাদত-বন্দেগি, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতে কাটাতে পারলে দিনটি যেমন ভালো কাটে, তেমনি রিজিকেও বরকত হয়। পাঠকদের সুবিধার্থে ফজরের পর আমলযোগ্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও জিকির নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো অন্তরায় থাকবে না।’ (শুআবুল ইমান: ২৩৯৫)। প্রতিদিন মাত্র এক মিনিট সময় ব্যয় করে আমলটি করলে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের মহা পুরস্কার লাভ করা সম্ভব। এ ছাড়া সকালে এটি পাঠ করলে বিকেল পর্যন্ত এবং বিকেলে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত জিন ও শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয়ে থাকা যায়।
জান্নাতি হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হলো সাইয়িদুল ইস্তিগফার। হাদিসে এসেছে, কেউ যদি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে সকালে এটি পড়ে এবং ওই দিন মারা যায় অথবা রাতে পড়ে এবং ওই রাতে মারা যায়, তবে সে জান্নাতি হবে। (সহিহ্ বুখারি: ৬৩০৬)।
জাহান্নাম থেকে মুক্তি: ফজর ও মাগরিবের পর সাতবার—‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার’ (হে আল্লাহ, আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন) পাঠ করলে ওই দিন বা রাতে মৃত্যু হলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। (সুনানে আবু দাউদ: ৫০৭৯)
আল্লাহর সন্তুষ্টি: যে ব্যক্তি সকালে তিনবার ‘রাদিতু বিল্লাহি রাব্বাওঁ ওয়াবিল ইসলামি দিনাওঁ ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিইয়া’ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করবেন। (জামে তিরমিজি: ৩৩৮৯)
নবীজি (সা.) সব ধরনের দুরারোগ্য ব্যাধি যেমন—শ্বেত, উন্মাদনা ও কুষ্ঠ থেকে বাঁচতে এই দোয়া পড়তেন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সাইয়িইল আসকাম।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১৫৫৪)।
সকালে সুরা ইয়াসিন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এ ছাড়া ফজরের পর নিচের জিকিরগুলো করার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে:
দিনের শুরুতে উপকারী জ্ঞান ও হালাল রিজিকের জন্য এই দোয়া পড়া যেতে পারে: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইল্মান নাফিয়া, ওয়া রিজকান তাইয়িবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’ এ ছাড়া সাতবার ‘হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম’ পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতের সব চিন্তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট হন।
ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময় আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার সুবর্ণ সুযোগ। কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে এই সময় অতিবাহিত করলে দিনটি বরকতময় হয় এবং পারলৌকিক মুক্তি নিশ্চিত হয়।

১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ খোঁজা হবে। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, ওই দিন আরব ও ইসলামি বিশ্বের কোথাও খালি চোখে বা টেলিস্কোপে চাঁদ দেখা যাওয়া বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব।
৮ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত খুলনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার রমজানের সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি জানুন।
৯ ঘণ্টা আগে
সুরা ফাতিহা পবিত্র কোরআনের প্রথম পারার প্রথম পৃষ্ঠায় অবস্থিত। এতে মোট সাতটি আয়াত এবং একটি রুকু রয়েছে। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হওয়ায় এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত। এর অন্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে উম্মুল কিতাব, সুরাতুশ শিফা এবং সাবআ মাসানি।
১০ ঘণ্টা আগে
২০২৬ সালের রমজান মাসের সেহরি ও ইফতারের ক্যালেন্ডার। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রকাশিত চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার রমজানের সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলি জানুন।
১০ ঘণ্টা আগে