
ইসলামের ইতিহাসে হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) কেবল বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রীই ছিলেন না, বরং তিনি অনাগত যুগের নারীদের জন্য রেখে গেছেন এক কালজয়ী আদর্শ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে একাধিক বিয়ের প্রসঙ্গ এলে অনেকেই অনেক কথা বলেন, তবে সত্য এই যে—নবীজি (সা.)-এর অধিকাংশ বিয়েই ছিল বিধবা অথবা নিরাশ্রয় নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে; নিজের কোনো পার্থিব কামনা চরিতার্থ করার জন্য নয়।
নবীজি (সা.)-এর জীবনে আয়েশা (রা.) যেমন অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন, তেমনি তাঁর হৃদয়ের মণিকোঠায় খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.) ছিলেন অনন্য। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে তিনি ছিলেন এমন এক সহধর্মিণী, যাঁর জীবদ্দশায় নবীজি দ্বিতীয় কোনো বিয়ে করেননি এবং যাঁর শূন্যস্থান কেউ কখনো পূরণ করতে পারেনি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ২৫ বছরের এক টগবগে যুবক, তখন ৪০ বছর বয়সী ধনাঢ্য ব্যবসায়ী খাদিজা (রা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিশ্বস্ততা ও সততার জন্য আল-আমিন উপাধিতে ভূষিত যুবক মুহাম্মদ (সা.) তখন খাদিজা (রা.)-এর ব্যবসায়িক পণ্য নিয়ে বাণিজ্যে যেতেন। ইতিপূর্বে দুই স্বামী—আবু হালাহ আত-তাইমি এবং উতাইক আল-মাকজুমির মৃত্যুর পর খাদিজা (রা.) তখন বিধবা ছিলেন। মুহাম্মদ (সা.)-এর সততা আর অসাধারণ ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রা.) নিজেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। মধ্যস্থতাকারী নাফিসা বিনতে মুনিয়ার মাধ্যমে তাঁদের এই পবিত্র বন্ধন পূর্ণতা পায়।
তাঁদের এই বন্ধনের পথটি নিষ্কণ্টক ছিল না। সেই সময়কার আরব সমাজে নারীরা নিজেরা এ জাতীয় বিয়ের প্রস্তাব দেওয়াকে বাঁকা চোখে দেখা হতো। খাদিজা (রা.)-এর নিজের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনেরা এই সম্পর্কের সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু খাদিজা (রা.) তৎকালীন আরব সমাজের সেসব ভিত্তিহীন সামাজিক বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সত্য ও ন্যায়ের ওপর অটল ছিলেন।
অনুরূপভাবে, নবীজি (সা.)-ও আরবের সেই কুসংস্কার ভেঙে দিয়েছিলেন যে—শাওয়াল মাসে বিয়ে করা অমঙ্গলজনক। তিনি আয়েশা (রা.)-কে শাওয়াল মাসেই বিয়ে করে প্রমাণ করেছিলেন যে ইসলামে এসব অমূলক ধারণার কোনো স্থান নেই।
হেরা গুহায় যখন প্রথম ওহি ‘ইকরা’ নাজিল হলো, তখন ভয়ে প্রকম্পিত নবীজিকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরে অভয় দিয়েছিলেন এই মহীয়সী নারী। নবুওয়াতের সেই কঠিন শুরুর দিনগুলোতে তিনি ছিলেন নবীজির ছায়ার মতো সঙ্গী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি নবীজির নবুওয়াতের ওপর ইমান এনেছিলেন এবং ইসলামের প্রথম নারী হিসেবে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন আল্লাহর পথে।
দাম্পত্য জীবনে খাদিজা (রা.) তাঁর সমস্ত সম্পদ ইসলামের প্রচার ও প্রসারে নবীজির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তাঁদের এই সংসারে মহান আল্লাহ চারজন কন্যাসন্তান দান করেছিলেন—জয়নব, রুকাইয়াহ, উম্মে কুলসুম ও ফাতিমা (রা.)।
খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নবীজি অন্য কোনো নারীর পাণিগ্রহণ করেননি। তাঁর ইন্তেকালের পরই সাহাবায়ে কেরাম নবীজি (সা.)-কে দ্বিতীয় বিবাহের পরামর্শ দেন এবং পরবর্তীকালে তিনি আয়েশা (রা.)-কে বিয়ে করেন।
ইসলামের ইতিহাসে খাদিজা (রা.) কেবল একজন স্ত্রী হিসেবে নয়, বরং একজন ত্যাগী, সাহসী ও পথপ্রদর্শক নারী হিসেবে অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন মুমিনদের হৃদয়ে।
—দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন অবলম্বনে

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ (আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করার পর দরুদ শরিফ পাঠ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, আবার কোনো কোনো ফকিহের মতে তা ওয়াজিব। আমল ও ফজিলতের দিক থেকে নামাজের মধ্যে দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম ও সর্বজনবিদিত। কারণ, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) সাহাবিদের নামাজে পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে এই...
১১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের ইবাদত কবুল হওয়ার প্রাথমিক শর্ত হলো পবিত্রতা। ফরজ গোসলের সঠিক নিয়ম না জানলে আমাদের নামাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত আদায় হবে না। গোসলের সময় যদি এই তিনটি কাজের কোনো একটি বাদ পড়ে, তবে গোসল শুদ্ধ হবে না এবং ব্যক্তি অপবিত্রই থেকে যাবেন: এক. ভালোভাবে মুখ ভরে পানি নিয়ে গড়গড়াসহকারে কুলি করা।
২১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে