Ajker Patrika

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যে সৌভাগ্যবানেরা

ইসলাম ডেস্ক 
বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যে সৌভাগ্যবানেরা
ছবি: সংগৃহীত

পরকালে সফল হতে পৃথিবীর জীবনে গুনাহ বা পাপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি উত্তম আমল করা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি। মহান আল্লাহর অনন্য নিয়ামতগুলোর একটি হলো বান্দাকে বিনা হিসাবে জান্নাত দান করা। কোন সৌভাগ্যবান ব্যক্তিরা কোনো প্রকার হিসাব ও আজাব ছাড়াই সরাসরি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেন এবং তাঁদের বিশেষ আমলগুলো কী হবে—সে সম্পর্কে হাদিস শরিফে বর্ণনা এসেছে।

বিনা হিসাবে জান্নাতে যাওয়ার তিনটি বিশেষ আমল

সহিহ বুখারির ৬৫৪১ নম্বর বর্ণনায় হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সৌভাগ্যবান মানুষদের পরিচয় এবং তাদের তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

১. যারা আল্লাহর ওপর এতটাই ভরসা রাখে যে রোগবালাই বা বিপদে কোনো ধরনের শিরক বা অবৈধ ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেয় না।

২. ইসলামে কোনো দিন, ক্ষণ, পাখি বা বস্তুকে অশুভ মনে করা সম্পূর্ণ নিষেধ। বিনা হিসাবে জান্নাতিরা এই কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে।

৩. যেকোনো পরিস্থিতিতে যাদের একমাত্র ভরসার স্থল হয় আল্লাহ তাআলা।

জান্নাতে তাদের রূপ ও প্রথম দলের বৈশিষ্ট্য কেমন হবে?

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, বিনা হিসাবে যারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের বৈশিষ্ট্য হবে চমৎকার:

ক. চাঁদের মতো উজ্জ্বল চেহারা: ওই জান্নাতিদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো আলোকোজ্জ্বল।

খ. পবিত্র ও রোগমুক্ত দেহ: জান্নাতে তাদের থুতু ফেলার প্রয়োজন হবে না। প্রস্রাব-পায়খানার বেগও হবে না। তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধময়।

গ. সোনা ও রুপার জিনিসপত্র: জান্নাতে তাদের পানাহারের পাত্রগুলো হবে সোনার তৈরি এবং চিরুনি হবে সোনা ও রুপার।

ঘ. এক প্রাণ ও হিংসামুক্ত অন্তর: তাদের সবার আকৃতি হবে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর মতো। তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ, হিংসা বা মতভেদ থাকবে না; তারা হবে দুই দেহ, এক প্রাণ। সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। (সহিহ বুখারি: ৩২৪৫)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত