Ajker Patrika

স্বপ্নদোষ হলে কি কোনো গুনাহ হয়

ইসলাম ডেস্ক
স্বপ্নদোষ হলে কি কোনো গুনাহ হয়
ঘুমের ঘোরে ঘটে যাওয়া কোনো বিষয়ের জন্য আল্লাহ তাআলা বান্দাকে দায়ী করেন না। ছবি: সংগৃহীত

বয়ঃসন্ধিকাল কিংবা তারুণ্যের চৌকাঠে পা রাখার পর অনেক তরুণ-তরুণীই একটি বিশেষ শারীরিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, যা সমাজ ও পরিবারে সাধারণত আড়ালে রাখা হয়। লোকলজ্জা আর সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে অনেকে গোপনে এক তীব্র অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। বিশেষ করে, রাতে ঘুমের ঘোরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন দেখার পর অনেকের মনেই প্রথম যে প্রশ্নটি জাগে, তা হলো—‘স্বপ্নদোষ হলে কি কোনো গুনাহ বা পাপ হয়?’

ইসলাম ধর্ম মানুষের মানবীয় স্বভাব ও জৈবিক চাহিদাকে অস্বীকার করে না। তাই এই বিষয়ে অবাস্তব কোনো ধারণা পোষণ না করে, হাদিস ও শরিয়তের সঠিক ও বিজ্ঞানসম্মত বিধানটি জানা অত্যন্ত জরুরি।

নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণহীনতায় কোনো পাপ নেই

ইসলামের মৌলিক নীতি হলো, মানুষ যে কাজটি নিজের ইচ্ছায় বা সজ্ঞানে করে না, তার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হয় না। স্বপ্নদোষ হলো মানবদেহের একটি স্বয়ংক্রিয় ও স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়া। যেহেতু ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষের মস্তিষ্ক বা শরীরের ওপর নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তাই ঘুমের ঘোরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো স্বপ্ন দেখা বা বীর্যপাত হওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে মোটেও কোনো গুনাহ, পাপ বা অপরাধ নয়।

যেসব ব্যক্তির কোনো গুনাহ লেখা হয় না

এই মানবিক ও প্রাকৃতিক সীমাবদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিয়ে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘তিন ধরনের লোকের ওপর থেকে (আমলনামা লেখার) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে—নিদ্রিত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়; মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে আরোগ্য লাভ করে এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক, যত দিন না সে বালেগ হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ)

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, ঘুমের ঘোরে ঘটে যাওয়া যেকোনো বিষয়ের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে দায়ী করেন না। সুতরাং, স্বপ্নদোষের কারণে আমলনামায় কোনো দাগ পড়ে না।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত