Ajker Patrika

স্বপ্নে সালাম ও মুসাফাহা করতে দেখা কিসের ইঙ্গিত

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
স্বপ্নে সালাম ও মুসাফাহা করতে দেখা কিসের ইঙ্গিত
ফাইল ছবি ।

স্বপ্ন মানুষের জীবনের এক রহস্যময় অধ্যায়। কখনো তা আনন্দের, কখনো ভয়ের, আবার কখনো গভীর চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ইসলাম স্বপ্নকে সম্পূর্ণ অস্বীকারও করে না, আবার জীবনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিও বানায় না। তবে কিছু স্বপ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা প্রাচীন মুসলিম মনীষীরা তাঁদের অভিজ্ঞতার আলোকে লিপিবদ্ধ করেছেন। এমনই একটি বিষয় হলো—স্বপ্নে সালাম দেওয়া, সালাম গ্রহণ করা কিংবা মুসাফাহা করা।

কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে তার শত্রুর সঙ্গে মুসাফাহা (করমর্দন) করতে দেখে, তবে তা পারস্পরিক শত্রুতা দূর হয়ে ভালোবাসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করতে পারে।

কেউ যদি স্বপ্নে দেখে তার শত্রু তাকে সালাম দিচ্ছে, তাহলে সেটি উভয়ের মধ্যে সন্ধি বা সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত হতে পারে। আবার যাদের মধ্যে আগে থেকে কোনো শত্রুতা নেই, তাদের কাছ থেকে সালাম পাওয়ার স্বপ্ন নিরাপত্তা, আনন্দ ও কল্যাণের প্রতীক হতে পারে। কারণ ইসলামে ‘সালাম’ শব্দটির মধ্যেই শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের আবেদন নিহিত রয়েছে।

কোনো অচেনা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি যদি স্বপ্নে সালাম দেন, তাহলে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও অনুগ্রহের ইঙ্গিত হতে পারে। আর পরিচিত কোনো বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সালাম কল্যাণ, বরকত বা দুনিয়াবি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতীক হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। একইভাবে কোনো অচেনা যুবকের সালামকে শত্রুর অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকার লক্ষণ বলা হয়েছে।

বিবাহপ্রার্থী কোনো ব্যক্তি যদি স্বপ্নে কাঙ্ক্ষিত পরিবারের সদস্যকে সালাম দিতে দেখে এবং তারা সালামের জবাব দেয়, তাহলে তা বিয়ের সম্ভাবনা ইতিবাচক হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আর জবাব না দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাম ভালোবাসা, নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। তাই বাস্তব জীবনেও বেশি বেশি সালাম দেওয়া, মুসাফাহার মাধ্যমে অভিমানের বরফ গলানো এবং পরস্পরের প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করা গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এতে বহু বিরোধ, ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব দূর হয়।

(ইবনে সিরিন, তাফসিরুল আহলাম: ৫৫, আল-মাকতাবাতুত তাওফিকিইয়াহ, কায়রো)

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত