
প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় বিচ্ছিন্নভাবে অনেকে হাদিস সংকলনের কাজ শুরু করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর সাহাবি-যুগ ও তাবেয়ি-যুগেও ব্যাপক আকারে হাদিস সংকলনের কাজ শুরু হয়। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিকসহ অনেক বড় বড় ইমামরা এ কাজ করেন। তবে সর্বাগ্রে যিনি নবীজির হাদিসসমূহকে বিশুদ্ধ সূত্রে সংকলন করার বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করেন—তিনি হলেন হাদিস শাস্ত্রের সবচেয়ে বড় ইমাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি (রা.), যাকে সেকালের হাদিস বিশারদগণ সর্বসম্মতভাবে ‘আমিরুল মুমিমিন ফিল হাদিস’ বা (হাদিস শাস্ত্রের রাজা) খেতাবে ভূষিত করেন। তাঁর সংকলিত ‘সহিহ্ আল-বুখারি’ ভূষিত হয় ‘কোরআনের পর পৃথিবীর সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ’ অভিধায়।
ইমাম বুখারির পূর্ণ নাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইবরাহিম ইবনে মুগিরা ইবনে বারদিযবাহ আল জুফি আল বুখারি। ইবনু আদির বর্ণনা থেকে জানা যায়, তার পরদাদা মুগিরা ইবনে বারদিযবাহ ছিলেন অগ্নিপূজারী। তৎকালীন বুখারা শহরের গভর্নর ইয়ামান আল জুফির হাতে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। সেই সূত্রে তাঁর বংশধরদের জুফিও বলা হয়।
১৯৪ হিজরির শাওয়াল মাসে মধ্য এশিয়ার বুখারা শহরে জন্মগ্রহণ করেন ইমাম বুখারি। ঐতিহাসিক যাহাবি বলেন, তিনি এতিম অবস্থায় বেড়ে ওঠেন। অর্থাৎ অতি অল্প বয়সে বাবা হারান। আহমদ বিন ফজল আল-বালখি বলেন, ইমাম বুখারি শৈশবেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। একদিন তার মা হজরত ইবরাহিম (আ.)-কে স্বপ্নে দেখেন। ইবরাহিম (আ.) তাঁকে বললেন, ‘ওহে শোনো, আল্লাহ তাআলা তোমার অতিমাত্রায় কান্নার কারণে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দেখা গেল, বুখারি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন। (সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১২ / ৩৯৩)
ইমাম বুখারি তুখোড় মেধাবী ও বিরল স্মৃতিশক্তির ছিলেন। তিনি নিজেই বলেন, ‘আমি যখন মক্তবে যেতাম, তখন থেকেই আমার মনে হাদিস আত্মস্থ করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।’ কেউ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তখন আপনার বয়স কত ছিল?’ তিনি বললেন, ‘দশ বছর।’ মাত্র এগার বছর বয়সে তার হাদিসের শিক্ষক ইমাম দাখিলির একটি হাদিসের সূত্রে ভুল শনাক্ত করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইমাম ইবনুল মোবারক ও ওয়াকি প্রমুখের সংকলিত হাদিস গ্রন্থ মুখস্থ করে ফেলেন।
হাদিস শিক্ষা করতে তিনি প্রায় ১ হাজার শিক্ষকের দ্বারস্থ হয়েছেন। সফর করেছেন বলখ, রায়, মার্ভ, নিশাপুর, বাগদাদ, কুফা, বসরা, মক্কা, মদিনা, সিরিয়া ও ফিলিস্তিনে। শীর্ণকায় ইমাম বুখারি জ্ঞানান্বেষণে প্রচণ্ড দারিদ্র্যের কষ্ট সহ্য করেন। আমর বিন হাফস আল আশকার বলেন, বসরা শহরে আমি ইমাম বুখারির সঙ্গে পড়তাম। একবার দেখা গেল, তিনি বেশ কয়েক দিন যাবৎ অনুপস্থিত। তাঁকে খুঁজতে খুঁজতে কক্ষে গিয়ে দেখি তাঁর পরিধানের জন্য কোনো জামা নেই। তাঁর কাছে থাকা সব অর্থ ফুরিয়ে গেছে। এ দৃশ্য দেখে আমরা কিছু অর্থ একত্র করে তার জন্য জামার ব্যবস্থা করি। (তারিখুল ইসলাম, যাহাবি: ৬ / ১৪৩)
হাদিসের পঠন-পাঠনই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ। তার হাত ধরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হাদিসের অসংখ্য ইমাম। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম মুসলিম বিন হাজ্জাজ, ইমাম আবু ইসা তিরমিজি, আবু যুরআ, আবু হাতিম ও ইমাম নাসায়ির মতো জগদ্বিখ্যাত ইমামগণ। হিজাজ, সিরিয়া, ইরাক ও খোরাসানে প্রায় সব জায়গায় তিনি হাদিস পাঠদান করেছেন। তাঁর অসামান্য জ্ঞানের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন যুগের সব মনীষীগণ। ইমাম ইবনু খুযাইমা বলেন, ‘আমি পৃথিবীপৃষ্ঠে হাদিস শাস্ত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইলের চেয়ে বড় আলেম কাউকে দেখি না।’
ইমাম বুখারির জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি ‘সহিহ্ আল-বুখারি’। দীর্ঘ ১৬ বছরের পরিশ্রমের মাধ্যমে সহিহ্ আল-বুখারি রচিত হয়। ইমাম বুখারি প্রতিটি হাদিস লেখার আগে ইস্তেখারা করতেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করতেন। রচনা সম্পন্ন হওয়ার পর একাধিকবার সম্পাদনা করতেন। এরপর তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাদিস বিশারদ ইমাম আলী ইবনুল মাদিনি, ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাইন ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-এর কাছে তা উপস্থাপন করেন। তাঁরা গভীরভাবে অধ্যয়নের পর এর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিশুদ্ধতার সাক্ষ্য দেন।
ইমাম ইবনে সালাহ ও ইমাম নববি বলেন, সহিহুল বুখারিতে মোট হাদিস আছে ৭ হাজার ২৭৫ টি। পুনরুক্তিকৃত হাদিস বাদ দিয়ে ধরলে ৪ হাজার। ইবনে হাজার আসকালানি বলেন, তালিকাত, মুতাবিআত, পুনরুক্তি—সব মিলিয়ে হাদিস আছে ৯ হাজার ৮২ টি। পুনরুক্তি ও অন্যান্য অমৌলিক হাদিস না ধরলে এর সংখ্যা ২ হাজার ৬০২।
ক্ষণজন্মা এ মনীষী ২৫৬ হিজরির ১ শাওয়াল মোতাবেক ৩১ আগস্ট ৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে, শুক্রবার দিবাগত রাতে সমরখন্দ শহরের খরতঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন। সেখানেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্ব চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক ইসলামি বইমেলা আজ রোববার (১১ অক্টোবর) শেষ হতে যাচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ৬৬তম আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে আবারও উঁচুতে তুলে ধরেছে কৃতী শিক্ষার্থী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরা। তিনি ঢাকার মিরপুর-১-এ অবস্থিত খ্যাতনামা ইসলামি বিদ্যাপীঠ মারকাযু ফয়জিল কোরআন...
৬ ঘণ্টা আগে
পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে নফল ইবাদতের মধ্যে তাহাজ্জুদ নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। আরবি ‘হুজুদ’ মূল শব্দ থেকে ‘তাহাজ্জুদ’ শব্দের উৎপত্তি, যার আভিধানিক অর্থ হলো ঘুম থেকে জেগে ওঠা।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৬ ঘণ্টা আগে