Ajker Patrika

গুলি করে টাকা ছিনতাই

২৮ ঘণ্টা পেরুলেও হয়নি মামলা, আহতদের পথ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৪১
২৮ ঘণ্টা পেরুলেও হয়নি মামলা, আহতদের পথ পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন
গুলিতে আহত বিকাশের প্রতিনিধি। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরের শ্রীপুরে মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনার এক দিন (২৮ ঘণ্টা) পেরিয়ে গেলেও কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। এর মধ্যে টাকা পরিবহনের নির্ধারিত পথ বাদ দিয়ে অন্য সড়ক ব্যবহার করার বিষয়টি সামনে এসেছে। কেন ওই পথে যাওয়া হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শ্রীপুর-গোসিঙ্গা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রথমে প্রায় ৩ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া গেলেও ডিস্ট্রিবিউটর কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ছিনতাইকারীরা দুটি বস্তায় থাকা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে।

বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটর ‘ভালুকা চ্যানেল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড শ্রীপুর’-এর ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় এবং তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়ার চাপ থাকায় তাঁদের নগদ টাকার সংকট তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে বুথে টাকা জমা দেওয়ার জন্য বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী, নরসিংদী সদরের ডিস্ট্রিবিউটর হযরত আলী মুন্সীকে বিকাশের ব্যালেন্স দিয়ে নগদ টাকা সংগ্রহ করা হয়। পরে প্রাইভেট কারে করে ওই টাকা মাওনা চৌরাস্তার কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছিল।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গাড়িটি কর্ণপুর এলাকায় পৌঁছালে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা পথরোধ করে। এ সময় তারা পিস্তল বের করে অ্যাকাউন্টস ম্যানেজারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি প্লাস্টিকের বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য, প্রথমে প্রায় চার কোটি টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। পরে গাড়িতে রেখে যাওয়া বস্তার টাকা গুনে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা পাওয়া যায়। সে হিসাবে দুটি বস্তায় থাকা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা খোয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি। তবে আজ শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি।

গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিয়াকৈর সার্কেল) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিস্ট্রিবিউটর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা খোয়া গেছে। এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। ডিস্ট্রিবিউটরের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। গাড়িচালক ও ডিস্ট্রিবিউটরের দুই প্রতিনিধি পুলিশকে সহায়তা করছেন।

এদিকে আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এ সময় তিনি তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, এ ঘটনায় আহত ব্যক্তির খোঁজখবর রাখছি। যতটা জেনেছি ওনি শুরু থেকে এ বিষয়টা নিয়ে টাকা পরিবহন, সংগ্রহ, গাড়ি সংগ্রহ করাসহ এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলছি।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘আমরা বিকাশের ডিস্ট্রিবিউটরের মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি, ওনাদেরও কিছু বিষয় জানার আছে, কিছু ধাঁধা আছে, এটা না হয়ে ওইটা হতে পারত। তারা এই রাস্তায় আসার কথা ছিল না, সদরের রাস্তায় যাওয়ার কথা ছিল। কাপাসিয়া থেকে একটা ফরোয়ার্ড রাস্তা আছে, সেদিক দিয়ে যেতে পারত। ওনি এটাও বলেছেন, “আমি জানি তারা ওই রাস্তা দিয়েই যাবে, এখান দিয়ে কেন আসল?” আমরা এই প্রশ্নগুলোর সমাধান করার চেষ্টা করছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত