বৃষ্টি আল্লাহ তাআলার বিশেষ নেয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে শুকনো জমিন প্রাণ ফিরে পায়, ফসল উৎপাদিত হয়, মানুষ ও প্রাণিকুলের পানির চাহিদা পূরণ হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টিকে তাঁর রহমত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে মুমিনের উচিত আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া পড়া।
বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার একটি সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ দোয়া রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এই দোয়া পড়তেন এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে উপকারী বৃষ্টি কামনা করতেন।
বৃষ্টি হওয়ার সময় পড়ার দোয়া
| আরবি | বাংলা উচ্চারণ | অনুবাদ |
|---|---|---|
| اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا | আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ। | হে আল্লাহ! উপকারী বৃষ্টি দান করুন। |
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন বৃষ্টি দেখতেন, তখন বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ।’
(সহিহ বুখারি: ১০৩২)
দোয়াটির তাৎপর্য কী?
দোয়াটিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) আল্লাহর কাছে শুধু বৃষ্টি চাননি, চেয়েছেন উপকারী বৃষ্টি। কারণ, সব বৃষ্টি মানুষের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর হয় না। কোনো বৃষ্টি ফসল ফলায়, জমিনকে সজীব করে এবং পানির সংকট দূর করে। আবার অতিবৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতা মানুষের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
তাই ‘সাইয়িবান নাফিআ’ বলে মুমিন আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি কামনা করেন, যা মানুষের জীবন, প্রকৃতি ও জীবিকার জন্য কল্যাণকর হবে।
বৃষ্টি আল্লাহর বিশেষ রহমত
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
‘আর তিনিই তাঁর রহমতের আগে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন। আর আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করি।’
—সুরা আল-ফুরকান: ৪৮
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টির মাধ্যমে মৃত জমিনকে জীবিত করার কথা উল্লেখ করেছেন। সুরা আল-আরাফের ৫৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তিনি বাতাস পাঠান, তা ভারী মেঘ বহন করে। এরপর তিনি তা মৃত জনপদের দিকে পরিচালিত করেন এবং সেখান থেকে পানি বর্ষণ করেন। এর মাধ্যমে নানা ধরনের ফল উৎপন্ন করেন।
এ থেকে বোঝা যায়, বৃষ্টি আল্লাহর কুদরত ও রহমতের অন্যতম নিদর্শন।
বৃষ্টির সময় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা
বৃষ্টি আল্লাহর নেয়ামত। তাই বৃষ্টি হলে তা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ না করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বৃষ্টির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এক হাদিসে এসেছে, বৃষ্টি হওয়ার পর তিনি তাঁর শরীরের কিছু অংশ বৃষ্টির পানিতে ভেজাতেন। সাহাবিরা এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কারণ এটি মাত্রই তার রবের কাছ থেকে এসেছে।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৯৮)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, বৃষ্টিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা রহমত হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।
বৃষ্টির সময় যে বিষয়গুলো মনে রাখা জরুরি
বৃষ্টি হলে কয়েকটি আমলের প্রতি যত্নবান হওয়া যায়:
- বৃষ্টি শুরু হলে ‘আল্লাহুম্মা সাইয়িবান নাফিআ’ দোয়া পড়া।
- বৃষ্টিকে আল্লাহর রহমত মনে করে তাঁর শুকরিয়া আদায় করা।
- বৃষ্টির কারণে ক্ষয়ক্ষতি বা দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করা।
- বৃষ্টিকে গালি দেওয়া বা অভিশাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
- বৃষ্টির সময় নিজের ও অন্যদের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
বৃষ্টি আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি নেয়ামত। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা জমিনকে সজীব করেন, ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করেন এবং অসংখ্য প্রাণীর জীবনধারণের উপকরণ জোগান দেন। তাই বৃষ্টি শুরু হলে অল্প সময়ের এই দোয়াটি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই দোয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে এমন বৃষ্টি চাই, যা আমাদের জীবন, প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।












