ঋণ মানবজীবনের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা। প্রয়োজন, বিপদাপদ কিংবা অনিচ্ছাকৃত পরিস্থিতির কারণে মানুষ ঋণে জড়িয়ে পড়ে। এই ঋণ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন তা মানসিক অশান্তি ও দুশ্চিন্তার কারণ হয়। কখনো তা আত্মসম্মানবোধেও আঘাত হানে। ঋণ থেকে মুক্তির জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের কিছু দোয়া শিখিয়েছেন। আন্তরিক বিশ্বাসের সঙ্গে কেউ দোয়াগুলো পড়লে আশা করা যায় আল্লাহ তাআলা তার ঋণের বোঝা হালকা করে দেবেন।
এক ব্যক্তি হজরত আলী (রা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আমার মুকাতাবা (দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য চুক্তিবদ্ধ অর্থ) পরিশোধে আমাকে সাহায্য করুন।’ তখন হজরত আলী (রা.) তাকে বললেন, ‘আমি কি তোমাকে এমন একটি দোয়া শিখিয়ে দেব, যা আমাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) শিখিয়েছেন? তুমি যদি পাহাড়সম ঋণে জর্জরিত থাক, তাহলেও আল্লাহ তাআলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেবেন। তুমি এই দোয়া পড়বে—আল্লাহুম্মাক ফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাজলিকা আম্মান সিওয়াকা।’ (সহিহুল জামে: ২৬২৫)
ঋণ থেকে মুক্তি পেতে নবীজি (সা.) আরও একটি দোয়া শিখিয়েছেন—‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি, ওয়াল হুজনি, ওয়াল আজজি, ওয়াল কাসালি, ওয়াল জুবনি, ওয়াল বুখলি, ওয়া জালাইদ দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজাল।’ (সহিহ্ বুখারি: ৬৩৬৯)। কোনো আলেমের শরণাপন্ন হয়ে দোয়াগুলোর বিশুদ্ধ পাঠ আয়ত্ত করে নিতে হবে।
এ ছাড়া জীবন-জীবিকার বরকতের জন্য মাগরিবের নামাজের পর সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াতের কথাও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিরাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, দারিদ্র্য কখনো তাকে স্পর্শ করবে না।’ (শুআবুল ইমান: ২৫০০)
তাই ঋণের বোঝা বহন করতে গিয়ে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ও তাওয়াক্কুলের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করা উচিত। পাশাপাশি হালাল উপার্জনের চেষ্টা, অপচয় পরিহার এবং আল্লাহর প্রতি দৃঢ়বিশ্বাস রাখলে ইনশাআল্লাহ ঋণমুক্তির পথ সহজ হবে। জীবনে ফিরে আসবে স্বস্তি ও প্রশান্তি।

নবী-রাসুলগণ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাঁরা সবাই শারীরিক শ্রমের কাজ করেছেন। নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে যত নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন, তাঁরা সবাই বকরি চরানোর কাজ করেছেন।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আপনিও কি বকরি চরিয়েছেন?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি কয়েক...
১২ ঘণ্টা আগে
আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন একজন সৎ ও সফল ব্যবসায়ী। ইসলাম গ্রহণের আগেই মক্কার সম্মানিত বণিকদের একজন ছিলেন এবং কাপড়ের ব্যবসা করতেন। ইসলাম গ্রহণের পরও ব্যবসা চালিয়ে যান এবং নিজের উপার্জন থেকেই জীবিকা নির্বাহ করেন। খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরও প্রথম দিকে বাজারে গিয়ে তিনি ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন।
১২ ঘণ্টা আগে
ইসলামি সংস্কৃতিতে একে অপরের সঙ্গে দেখা হলে সালাম দেওয়া সুন্নত। এটি মহান আল্লাহর কাছে একে অপরের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করা। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সালামের ব্যাপক প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যতক্ষণ তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি হবে না, ততক্ষণ তোমরা মুমিন হতে পারবে না।
১২ ঘণ্টা আগে
নবী-রাসুল ও সাহাবিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে যুগে যুগে মুসলিম মনীষীরাও শ্রম ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর মাধ্যমে তাঁরা আত্মনির্ভরশীল জীবন গড়তেন এবং দ্বীনদারির সঙ্গে দুনিয়াবি দায়িত্বের সমন্বয় ঘটাতেন। তাঁদের সততা, আমানতদারি ও ন্যায়পরায়ণতা অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
১২ ঘণ্টা আগে