সুস্থ থাকতে এবং ক্লান্তি দূর করতে ঘুম আল্লাহর এক মহান নেয়ামত। শরীর ও মন সতেজ রাখতে নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এ ছাড়া ঘুম মুমিনের জন্য একটি বড় ইবাদতও বটে। কিন্তু যখন বিছানায় ছটফট করেও ঘুমের দেখা মেলে না, তখন দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে যায়। অনিদ্রার এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে হাদিসে বর্ণিত বিশেষ দোয়াগুলো আমাদের জন্য এক বড় নেয়ামত।

সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাতকে ক্লান্তি দূরকারী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তবে আধুনিক জীবনে দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে অনেকেরই রাতে দুই চোখের পাতা এক হয় না।
বিখ্যাত ওহি লেখক সাহাবি হজরত জায়েদ ইবনে সাবিত (রা.) দীর্ঘদিনের অনিদ্রা রোগে ভুগছিলেন। তিনি রাসুল (সা.)-এর কাছে এর প্রতিকার চাইলে নবীজি তাঁকে একটি দোয়া শিখিয়ে দেন।
| আরবি | উচ্চারণ | অর্থ |
|---|---|---|
| اَللّٰهُمَّ غَارَتِ النُّجُوْمُ، وَهَدَأَتِ الْعُيُوْنُ، وَأَنْتَ حَيٌّ قَيُّوْمٌ، لاَ تَأْخُذُكَ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ أَهْدِئْ لَيْلِيْ، وَأَنِمْ عَيْنِيْ | আল্লা-হুম্মা গা-রাতিন নুজুম, ওয়া হাদাআতিল উ’য়ুন, ওয়া আন্তা ‘হাইয়ুন ক্বাইয়ুম, লা তা’খুযুকা সিনাতুউ ওয়ালা নাওম, ইয়া ‘হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ুম, আহদি লাইলী ওয়া আনিম ‘আইনি। | ‘হে আল্লাহ, তারকারাজি নিভে গেছে; চোখগুলো শান্ত হয়ে গেছে; আর আপনি তো চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী—তন্দ্রা ও নিদ্রা যাকে স্পর্শ করতে পারে না। হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী, আমার রাতকে শান্তিময় করুন এবং আমার চোখে ঘুম দিন।’ |
জায়েদ (রা.) বলেন, আমি এটি পড়ার পর মহান আল্লাহ আমার অনিদ্রার সমস্যা দূর করে দিলেন।
বিখ্যাত সাহাবি বীর সেনানী হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) একবার নবীজি (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করলেন, দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের কারণে তিনি রাতে ঘুমাতে পারেন না। তখন রাসুল (সা.) তাঁকে নিচের দোয়াটি শয্যা গ্রহণের সময় পড়তে বললেন।
আরবি দোয়া:
اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَوَاتِ السَّبْعِ وَمَا أَظَلَّتْ وَرَبَّ الأَرَضِينَ وَمَا أَقَلَّتْ وَرَبَّ الشَّيَاطِينِ وَمَا أَضَلَّتْ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّ خَلْقِكَ كُلِّهِمْ جَمِيعًا أَنْ يَفْرُطَ عَلَىَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ أَنْ يَبْغِيَ عَلَىَّ عَزَّ جَارُكَ وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ وَلاَ إِلَهَ غَيْرُكَ وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ أَنْتَ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া মা আজাল্লাত, ওয়া রাব্বাল আরদিনা ওয়া মা আকাল্লাত; ওয়া রাব্বাশ শায়াত্বিনি ওয়া মা আদাল্লাত; কুন লি জারাং-মিন শাররি খালক্বিকা কুল্লিহিম জামিআ। আইঁ ইয়াফরুত্বা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম, আও আইঁ ইয়াবগিয়া আলাইয়্যা; আজ্জা ওয়া জাল্লা, ছানাউকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুকা, ওয়ালা ইলাহা ইল্লা আংতা।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, সপ্ত আকাশ এবং যা কিছুর ওপর তা ছায়া দেয় সে সবকিছুর রব! জমিনগুলো এবং যা কিছু তা বহন করছে সেসব কিছুর প্রতিপালক! শয়তান ও যাদের সে গুমরাহ করে তাদের প্রতিপালক! তোমার সব সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে তুমি আমার আশ্রয় হও, এদের কেউ যেন আমার ওপর বাড়াবাড়ি করতে বা বিরুদ্ধাচরণ করতে না পারে। হে সম্মানিত, তোমার আশ্রয়প্রার্থী, মহিমান্বিত তোমার প্রশংসা, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তুমি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।’ (জামে তিরমিজি)

ঝড়-তুফানসহ সব ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মহান আল্লাহর পরীক্ষা। এ সময় ধৈর্য ধরে নিজেদের সুরক্ষায় পরিকল্পিতভাবে কাজ করা এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা এবং সাহায্য চাওয়াই মুমিনের কাজ। ঝড়-তুফানসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেসব দোয়া মহানবী (সা.) পাঠ করতেন, তার কয়েকটি উল্লেখ করা হলো—
১২ ঘণ্টা আগে
সুস্থতা মহান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। ছোট-বড় সব মানুষই সুস্থ থাকতে চায়, কিন্তু মানবজীবনে অসুস্থতা আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। অসুস্থ হলে ইসলাম চিকিৎসাসেবা নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে কিছু বিশেষ আমল ও দোয়া পড়ার তাগিদ দিয়েছে।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঘুম শরীরের জন্য অপরিহার্য বিষয়। এই ঘুমকেও ইবাদতে পরিণত করা যায়। নবীজি (সা.) ঘুমের আগে কিছু আমল করতেন, এগুলোর অনুসরণ করলে রাতটাও ইবাদতে পরিণত হয়। এমন কয়েকটি আমল হলো—
১৬ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে