ঘুম শরীরের জন্য অপরিহার্য বিষয়। এই ঘুমকেও ইবাদতে পরিণত করা যায়। নবীজি (সা.) ঘুমের আগে কিছু আমল করতেন, এগুলোর অনুসরণ করলে রাতটাও ইবাদতে পরিণত হয়। এমন কয়েকটি আমল হলো—
এক. রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমানোর আগে অজু করতেন। তিনি বলেন, ‘তুমি যখন ঘুমাতে যাবে, তখন নামাজের মতো করে অজু করো।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩১১)। অজু অবস্থায় ঘুমালে শরীর যেমন পবিত্র থাকে, আত্মাও থাকে প্রশান্ত।
দুই. ঘুমানোর আগে নবীজি (সা.) বিছানা ঝেড়ে নিতেন। আমাদেরও তিনি এই আদেশ করেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন বিছানায় যাবে, তখন সে যেন কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়, কারণ সে জানে না তার অনুপস্থিতিতে সেখানে কী এসেছে।’ (সহিহ বুখারি: ৬৩২০)। এটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত স্বাস্থ্যবিধি। এতে অদৃশ্য ক্ষতিকর বস্তু বা প্রাণী থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
তিন. ঘুমের আগে কিছু নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকির পড়া নবীজি (সা.)-এর নিত্যদিনের আমল ছিল। তিনি সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস তিনবার পড়ে হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে সারা শরীরে মাসেহ করতেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৫৪৪)। এতে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এরপর ঘুমের দোয়া—‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহইয়া’ পড়তেন। (সহিহ বুখারি: ৬৩২৫)
চার. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য একজন রক্ষক নিযুক্ত করেন। ফলে সকাল পর্যন্ত শয়তান তার নিকটবর্তী হতে পারে না। (সহিহ বুখারি: ৩২৭৫)
পাঁচ. নবীজি (সা.) ঘুমানোর সময় ডান কাতে শুয়ে ডান হাত গালের নিচে রাখতেন। (সহিহুল জামে: ৪৬৪৭)। ডান কাতে শোয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও উপকারী হিসেবে বিবেচিত। এতে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ কম পড়ে এবং ঘুম হয় আরামদায়ক।
একজন সচেতন মুসলমানের উচিত, প্রতিদিন ঘুমানোর আগে এই সুন্নতগুলো পালন করা এবং নিজের জীবনকে নবীজি (সা.)-এর আদর্শে গড়ে তোলা।

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম একটি মৌলিক রুকন। আর নামাজের পুরো প্রক্রিয়ার মধ্যে ‘সিজদা’ হলো মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় ও বান্দার বিনম্র আত্মসমর্পণের চূড়ান্ত রূপ। সিজদা শব্দের অর্থ হলো—নম্রতা, বিনয়, মাথা নত করা বা চেহারা মাটিতে রাখা।
৩ ঘণ্টা আগে
আমরা প্রতিদিন চলার পথে, প্রযুক্তির পর্দায় কিংবা খবরের মাধ্যমে নানা রকম সুন্দর ও আকর্ষণীয় জিনিস দেখতে পাই। ঘরবাড়ি, গাড়ি, চমৎকার কোনো দৃশ্য, কারও মেধা, সুন্দর কোনো শিশু কিংবা মুসলিম ভাইয়ের ভালো কোনো সংবাদ দেখে মুগ্ধ হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক।
৫ ঘণ্টা আগে
আজকের শিশুই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সুন্দর, সুশোভিত ও গৌরবময় সমাজ বিনির্মাণে শিশুদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পবিত্র কোরআনে শিশুদের পার্থিব জীবনের শ্রেষ্ঠ সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, ‘ধন-সম্পদ ও সন্তানসন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা।’ (সুরা কাহাফ: ৪৬)
১২ ঘণ্টা আগে
সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অপ্রত্যাশিত কোনো আনন্দ বা বহুল প্রত্যাশিত কোনো সাফল্যের সংবাদে আমরা উৎফুল্ল হই এবং আনন্দ প্রকাশ করি। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে, যেকোনো আনন্দের মুহূর্তে উৎফুল্লতার আতিশয্যে অহংকারী না হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতায় অবনত হতে।
১২ ঘণ্টা আগে