Ajker Patrika

জাদু থেকে বাঁচতে নিয়মিত কী কী আমল করা যায়

ইসলাম ডেস্ক 
জাদু থেকে বাঁচতে নিয়মিত কী কী আমল করা যায়
ছবি: সংগৃহীত

কালো জাদু অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর বিদ্যা। এর মাধ্যমে মূলত অপশক্তির আশ্রয় নিয়ে অন্যের ক্ষতি করা কিংবা অসৎ স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করা হয়। শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট ও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব কৌশল অবলম্বন করে, তার মধ্যে অন্যতম জাদুটোনা।

ইসলামের দৃষ্টিতে জাদুটোনা শেখা, করা কিংবা করানো সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কবিরা গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানবজাতিকে যে সাতটি সর্বনাশা ও ধ্বংসাত্মক পাপ থেকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, তার মধ্যে জাদুকে দ্বিতীয় স্থানে রাখা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে—

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বেঁচে থাকো—

  1. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা,
  2. জাদু করা,
  3. শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করা,
  4. সুদ খাওয়া,
  5. এতিমের মাল ভক্ষণ করা,
  6. যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং
  7. কোনো সতী-সাধ্বী ও নির্দোষ মুমিন নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া।’

—(সহিহ বুখারি: ২৮৬৪)

জাদুটোনা ও অপশক্তির সর্বগ্রাসী অনিষ্ট থেকে নিজেকে ও নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে শরিয়া নির্দেশিত নির্দিষ্ট কিছু মাসনুন আমল ও দোয়ার চর্চা করা জরুরি।

জাদু থেকে সুরক্ষায় দৈনন্দিন আমলসমূহ

১. তিন কুলের (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) আমল

জাদুটোনা থেকে আত্মরক্ষায় সুরা ফালাক ও সুরা নাসের গুরুত্ব অপরিসীম। আলেমদের পরামর্শ অনুযায়ী—প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—এই তিনটি সুরা তিনবার করে তিলাওয়াত করা সুন্নাহসম্মত। এ ছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে এই তিন সুরা পড়ে দুই হাতের তালুতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে মুছে নেওয়া রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম আমল ছিল।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ঝাড়ফুঁক করা বিশেষ দোয়া

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে যখন ইহুদিরা জাদু করেছিল, তখন আল্লাহ তাআলার নির্দেশে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) এসে এই দোয়াটি পাঠ করে তাঁকে ফুঁ দিয়েছিলেন। নিয়মিত এই দোয়া তিলাওয়াত বা ফুঁ দিলে আল্লাহ তাআলা যেকোনো অনিষ্ট থেকে রক্ষা করেন:

আরবি: بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللهِ أَرْقِيكَ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি আরকিকা মিন কুল্লি শায়ইন ইউজিকা, ওয়া মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা, বিসমিল্লাহি আরকিক।

অর্থ: আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি—সব কষ্টদায়ক বিষয় থেকে এবং প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চক্ষুর অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য দান করুন; আল্লাহর নামে আমি আপনাকে ঝাড়ফুঁক করছি। (সহিহ মুসলিম: ২১৮৬)

৩. সুরা ফাতিহার তিলাওয়াত

পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা—সুরা ফাতিহার অপর নাম ‘সুরাতুশ শিফা’ বা আরোগ্য লাভের সুরা। জাদুটোনা, শারীরিক অস্বস্তি কিংবা যেকোনো অপশক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে নিয়মিত সুরা ফাতিহা তিলাওয়াত করা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও ইবাদত

যেকোনো ঝাড়ফুঁক ও দোয়ার পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা এবং জিকিরের মাধ্যমে নিজের ইমানি শক্তি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কোনো ভণ্ড তান্ত্রিক বা কুফরি ঝাড়ফুঁকের কাছে না গিয়ে সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত—যেন তিনি সব ধরনের জাদুটোনা ও হিংসুকের চোখ থেকে আমাদের হেফাজতে রাখেন। কেননা আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও কোনো ক্ষতি করার ক্ষমতা কারও নেই।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত