
ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামি জ্ঞানভান্ডার ও আধ্যাত্মিক নবজাগরণের ইতিহাসে মাওলানা মুহাম্মদ ইদরিস কান্ধলভি (রহ.) একটি উজ্জ্বল নাম। তিনি ছিলেন একাধারে বরেণ্য মুহাদ্দিস, মুফাসসির, সিরাত গবেষক এবং শরিয়ত ও মারফতের এক সমন্বয়কারী ব্যক্তিত্ব।
মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৭ হিজরি) ভারতের ভূপাল শহরে এক বিখ্যাত আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কান্ধালাহ। বংশগতভাবে তিনি তাঁর পিতার দিক থেকে প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) এবং মাতার দিক থেকে দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.)-এর বংশধর ছিলেন। তাঁর পিতা মাওলানা ইসমাইল কান্ধলভি ছিলেন হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলি থানভি (রহ.)-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর।
তাঁর মেধা ও স্মৃতিশক্তি ছিল প্রবাদপ্রতিম। মাত্র ৯ বছর বয়সে পবিত্র কোরআন হিফজ করেন। এরপর মাদ্রাসায়ে আশরাফিয়ায় মাওলানা থানভি (রহ.)-এর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি তাফসির, হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের উচ্চতর শিক্ষা সমাপ্ত করেন। পরে দারুল উলুম দেওবন্দে আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি ও আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানির মতো মহান ওস্তাদদের সান্নিধ্যে থেকে ইলমের পূর্ণতা লাভ করেন।
মাওলানা কান্ধলভি (রহ.) তাঁর কর্মজীবনের সিংহভাগ ব্যয় করেছেন দারুল উলুম দেওবন্দে হাদিস ও তাফসির অধ্যাপনায়। পরে তিনি হায়দরাবাদ অবস্থানকালে বিশ্বখ্যাত হাদিসগ্রন্থ মিশকাত শরিফের অমর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আত-তালিকুস সাবিহ’ রচনা করেন। গ্রন্থটি মিসর, সিরিয়া, ইরাকসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের আলেমদের কাছে অন্যতম নির্ভরযোগ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।
তিনি কেবল তাত্ত্বিক আলেম ছিলেন না, বরং আধ্যাত্মিক সাধনায় ছিলেন এক উচ্চমার্গের পীর। তিনি চিশতিয়া ও নকশাবন্দিয়া উভয় তরিকার বায়াত ও খিলাফত লাভ করেছিলেন। মাওলানা আশরাফ আলি থানভি ও আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.)-এর মতো মনীষীরা তাঁকে বায়াত করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে তিনি প্রায় ১০০টি অমূল্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য কাজ হলো:
ইসলামের শাশ্বত আকিদা রক্ষায় মাওলানা ইদরিস কান্ধলভি ছিলেন এক অকুতোভয় সৈনিক। তাঁর ক্ষুরধার লেখা ও অকাট্য যুক্তি তৎকালীন বিভ্রান্ত মতবাদ বিশেষ করে কাদিয়ানি মতবাদের মূলে কুঠারাঘাত করে। পাঞ্জাব ও পিরোজপুরের ঐতিহাসিক বিতর্ক সভাগুলোতে তিনি ইসলামের পক্ষে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখেন।
১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে (১৩৯৪ হিজরি) পাকিস্তানের লাহোরে এই মহান ইলমি নক্ষত্র ইন্তেকাল করেন। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

ইসলামি পরিভাষায় দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সব সদকা সমান নয়। কিছু দান এমন রয়েছে, যার সওয়াব দাতার মৃত্যুর পরও কবরে পৌঁছাতে থাকে। একেই বলা হয় সদকায়ে জারিয়া। আজকে আমরা সদকায়ে জারিয়ার সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং এর সেরা কিছু উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করব।
২ ঘণ্টা আগে
মদিনার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন প্রিয় নবী (সা.)। তাঁর সঙ্গে ছিল ছোট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে জাফর। আবদুল্লাহকে তিনি নিজের খচ্চরের পিঠে বসিয়ে নিলেন। আবদুল্লাহর কাছে মনে হচ্ছিল, তিনি যেন পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ স্থানে আছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে পানাহার, যৌন সম্ভোগ ও অন্যান্য নির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলা হয়। তবে অসাবধানতাবশত বা ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে কিছু কাজ করলে রোজা ভেঙে যায়। নিচে রোজা ভঙ্গের প্রধান ও সূক্ষ্ম কারণগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।
৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৮ ঘণ্টা আগে