Ajker Patrika

আর্জেন্টিনায় যে সংকটে আছে তরুণ মুসলিমরা

কাউসার লাবীব
আপডেট : ২২ জুন ২০২৬, ১৫: ১২
আর্জেন্টিনায় যে সংকটে আছে তরুণ মুসলিমরা
কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার, আর্জেন্টিনা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলামের আগমন যেমন ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ঘটেছে, তেমনি এর চর্চায় ও আচারেও রয়েছে বৈচিত্র্যময় রূপ। আজ আমরা জানব লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার ইসলাম ও সেখানকার মুসলিমদের কথা।

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম আবাসস্থল হলো আর্জেন্টিনা। ‘দ্য অ্যাসোসিয়েশন অব রিলিজিয়াস ডেটা আর্কাইভস’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আর্জেন্টিনার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ মুসলিম।

ইতিহাসের পাতায় আর্জেন্টিনার ইসলাম

আর্জেন্টিনায় ইসলামের উপস্থিতির ইতিহাস খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে স্প্যানিশদের আমেরিকা মহাদেশ বিজয় ও অনুসন্ধানের দিনগুলোতে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে ‘মুরিশ-মরিস্কো’ (Moorish-Moriscos) মুসলিমরা স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের সঙ্গে প্রথম এই অঞ্চলে পাড়ি জমান।

আর্জেন্টিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মূল ফটক। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের মূল ফটক। ছবি: সংগৃহীত

মূলত উত্তর আফ্রিকান ও স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত যেসব মুসলিমকে সে সময় স্পেনে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে জোরপূর্বক খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল, তাঁদেরই ‘মুরিশ-মরিস্কো’ বলা হতো। চরম নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে তাঁদের অনেকেই পালিয়ে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন।

পরে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সিরিয়া ও লেবানন (যা তৎকালীন উসমানীয় বা অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল) থেকে আরব অভিবাসীদের আরও একটি বড় দল আর্জেন্টিনায় এসে স্থায়ী হয়।

স্থাপত্যের ছোঁয়া ও প্রথম মসজিদ নির্মাণ

আর্জেন্টিনায় আশির দশকে প্রথম দুটি মসজিদ নির্মিত হয়। বুয়েনস আইরেসের শিয়া সম্প্রদায়ের জন্য ইরানি দূতাবাসের সহায়তায় ১৯৮৩ সালে প্রথম ‘আত-তাওহিদ’ মসজিদটি উন্মুক্ত করা হয়। এর ঠিক দুই বছর পর, ১৯৮৫ সালে সুন্নি সম্প্রদায়ের জন্য নির্মিত হয় ‘আল-আহমদ’ মসজিদ; যা ছিল আর্জেন্টিনার বুকে ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি প্রথম কোনো ভবন।

আর্জেন্টিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার। ছবি: সংগৃহীত
আর্জেন্টিনায় অবস্থিত কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার। ছবি: সংগৃহীত

এরপর ১৯৯৬ সালে তৎকালীন সৌদি বাদশাহ ফাহাদের অর্থায়নে নির্মিত হয় ‘কিং ফাহাদ ইসলামিক কালচারাল সেন্টার’। এটি কেবল আর্জেন্টিনায় নয়, বরং পুরো দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মসজিদ কমপ্লেক্স। বিশাল এই কমপ্লেক্সে মূল মসজিদ ছাড়াও রয়েছে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং একটি চোখজুড়ানো পার্ক।

বর্তমান প্রেক্ষাপট ও তরুণ প্রজন্মের সংকট

বিগত কয়েক বছরে আর্জেন্টিনায় নিয়মিত ইসলাম চর্চা করা মুসলিমদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। এর পেছনে বেশ কিছু বাস্তব কারণ রয়েছে। প্রবীণ প্রজন্ম একে একে বিদায় নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসলামের ধর্মীয় জ্ঞান ও ঐতিহ্যবাহী চর্চাগুলোও হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেরই বাবা অথবা মায়ের যেকোনো একজন মাত্র মুসলিম বংশোদ্ভূত। ফলে তরুণেরা বড় হচ্ছেন স্প্যানিশ ভাষাকে তাঁদের মাতৃভাষা হিসেবে গ্রহণ করে, যার কারণে তাঁরা আরবি ভাষার সঙ্গে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।

এই ভাষাভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাই জন্ম দিচ্ছে দ্বিতীয় আরেকটি বড় সংকটের। স্প্যানিশ ভাষায় পবিত্র কোরআনসহ পর্যাপ্ত ইসলামিক বইপত্র বা নির্ভরযোগ্য উৎসের তীব্র অভাব রয়েছে। একই সঙ্গে স্প্যানিশ গণমাধ্যমেও ইসলাম সম্পর্কে ইতিবাচক ও নির্ভরযোগ্য কোনো বয়ান বা উপস্থাপনা নেই। ফলে আর্জেন্টিনার বর্তমান তরুণ প্রজন্ম নিজেদের এই সুন্দর ও শাশ্বত ধর্মের সঙ্গে সেভাবে সম্পৃক্ত করতে পারছে না।

-আমালিয়াহ ডকটম অবলম্বনে

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত