
ইসলামে বাবা-মায়ের মর্যাদা ও অধিকার কোনো বিশেষ দিন বা দিবসের ফ্রেমে বন্দী নয়; বরং তা সন্তানের জন্য আমৃত্যু এক পরম দায়িত্ব। জীবিত অবস্থায় বাবার সেবা করা যেমন সন্তানের কর্তব্য, তেমনি বাবা দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তাঁর প্রতি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং মৃত্যুর পর বাবার জন্য সন্তানের করা দোয়ার গুরুত্ব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত।’ (জামে তিরমিজি: ১৮৯৯)। তাই মৃত বাবার মাগফিরাত ও চিরস্থায়ী শান্তির জন্য সন্তানের করণীয় ও দোয়া করার সুন্নাহসম্মত মাধ্যমগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
মৃত বাবা-মায়ের জন্য মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে নিজেই একটি অনন্য দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। নামাজে, মোনাজাতে কিংবা যেকোনো পবিত্র মুহূর্তে বাবার কথা স্মরণ করে এই দোয়া বেশি বেশি পাঠ করা উচিত:
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণ: রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের (বাবা-মা) প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে দয়া ও স্নেহের সঙ্গে লালন-পালন করেছিলেন। (সুরা ইসরা: ২৪)
বাবা কবরে যাওয়ার পর তাঁর আমলনামা বন্ধ হয়ে গেলেও সন্তানের ইস্তিগফারের কারণে কবরে তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের মৃত্যুর পর তিনটি জিনিস ছাড়া সব আমল বন্ধ হয়ে যায়; তার একটি হলো—‘নেক সন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ্ মুসলিম: ১৬৩১)। তাই আল্লাহর দরবারে এভাবে প্রার্থনা করা চাই—‘হে আল্লাহ! আপনি আমার বাবাকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর জীবনের সব গুনাহ মাফ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।’
মৃত বাবার রুহের মাগফিরাতের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সদকায়ে জারিয়া বা প্রবহমান দান করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। সন্তান যখন বাবার নিয়তে এসব কল্যাণকর কাজ সম্পন্ন করবে, তখন মহান আল্লাহ মৃত বাবার কবরে এর সওয়াব পৌঁছে দেবেন এবং তাঁর আত্মাকে শান্ত করবেন।
মৃত বাবার জন্য সবচেয়ে বড় দোয়া বা উপকারের একটি হলো—দুনিয়াতে তাঁর কোনো ঋণ বা দেনা থাকলে তা অতিদ্রুত পরিশোধ করে দেওয়া। এ ছাড়া জীবিত অবস্থায় তিনি শরিয়তসম্মত কোনো বৈধ অসিয়ত বা কোনো ভালো কাজের ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকলে তা বাস্তবায়ন করা সন্তানের অপরিহার্য দায়িত্ব। এর মাধ্যমে মৃত বাবার আত্মা ঋণের বোঝা ও দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়।
মৃত বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের একটি চমৎকার সুন্নাহ হলো, বাবা জীবিত থাকা অবস্থায় যাঁদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বা আত্মীয়তা রাখতেন, তাঁর মৃত্যুর পরও সেই ধারা বজায় রাখা। বাবার বন্ধুবান্ধব ও তাঁর আত্মীয়দের খোঁজখবর নেওয়া, তাঁদের শ্রদ্ধা করা এবং তাঁদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করাও বাবার প্রতি সন্তানের দোয়া ও সদাচরণের অংশ।
ইসলামে বাবা-মায়ের অবাধ্যতাকে ‘কবিরা গুনাহ’ বা মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে (সহিহ্ বুখারি: ২৬৫৪, সহিহ্ মুসলিম: ৮৭)। জীবিত অবস্থায় কোনো কারণে বাবার মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে বা অসৌজন্যমূলক আচরণ করে থাকলে তাঁর মৃত্যুর পর সন্তানের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে আরও বেশি বেশি কান্নাকাটি করা এবং বাবার জন্য মাগফিরাত কামনা করা উচিত।

ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। জীবন চলার পথে ছোট-বড় ভুল সবারই হয়। কিন্তু সেই ভুলকে কীভাবে সংশোধন করতে হবে, তা মানবজাতির সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিখিয়ে গেছেন। তিনি ভুলকে লজ্জা বা অপমানের কারণ হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৩ ঘণ্টা আগে
জীবনচক্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদ-আপদ, রোগব্যাধি কিংবা নানাবিধ সংকট আসা স্বাভাবিক। ইসলামে এসব অনিষ্ট ও ক্ষয়ক্ষতি থেকে আত্মরক্ষার মূল শিক্ষা হলো—সর্বাবস্থায় মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল) রাখা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো দৈনিক জীবনে চর্চা করা।
১ দিন আগে
আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরিশ্রমনির্ভর করে সৃষ্টি করেছেন। তাই দিনের বেলায় নানা কাজ শেষে রাতে মানুষ বিশ্রাম নেয়। প্রশান্তিময় বিশ্রামের সর্বোত্তম উপায় হলো ঘুম। তবে শোয়ার আগে শরীর ও মনকে পবিত্র করে নেওয়া উচিত।
১ দিন আগে