সম্প্রতি ভূমিকম্প জনমানুষের কাছে আতঙ্কের বিষয়। কী নগর, কী গ্রাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে হুলুস্থুল। প্রচণ্ড এক ঝাঁকুনি দিয়ে চোখের পলকে নিঃশেষ করে দিতে পারে স্বপ্নিল জীবন। পূর্বাভাস ছাড়াই মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচাকার করে দিতে পারে পুরো বিশ্ব।
এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা। স্বীয় গোলামকে তিনি ফিরিয়ে আনতে চান আপন ইবাদতে। শিরকের (অংশীদারত্বের) সামান্য ছিটেফোঁটা তিনি সহ্য করতে পারেন না। বান্দার কাজ-কর্মে লোকদেখানো মানসিকতাও তাঁর কাছে অমার্জনীয় অপরাধ। পার্থিব জগতে ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, বালা-মুসিবত দিয়ে তিনি বান্দাকে পরকালীন কঠিন আজাব থেকে বাঁচাতে চান।
সুরা সাজদায় তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি অবশ্যই তাদের (কিয়ামতের) বড় শাস্তির স্বাদ আস্বাদনের আগে লঘু শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব, যেন তারা (আমার আনুগত্যের দিকে) ফিরে আসে।’ (সুরা সাজদাহ: ২১)
ফেরেশতা ইসরাফিল (আ.)-এর ফুৎকারের মাধ্যমে সৃষ্টি হবে ভয়ানক ভূকম্পন। সংঘটিত হবে কিয়ামত। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘শপথ তাদের (সেই ফেরেশতাদের), যারা (কাফেরদের প্রাণ) কঠোরভাবে টেনে বের করে এবং যারা (মুমিনদের প্রাণের) বন্ধন খুলে কোমলভাবে। তারপর (শূন্যে) তীব্রগতিতে সাঁতার কেটে যায়। তারপর দ্রুতগতিতে এগিয়ে যায়। তারপর যে আদেশ পায় তার (বাস্তবায়নের) ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেদিন প্রকম্পিত (শিঙ্গাধ্বনি সবকিছু) কাঁপিয়ে দেবে। তার পেছনে আসবে পরবর্তীটি। সেদিন বহু হৃদয় হবে প্রকম্পিত। তাদের চোখ থাকবে অবনত।’ (সুরা নাজিয়াত: ১-৯)
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তাআলা পাঁচটি শপথ করে মহাপ্রলয়ের ভয়াবহ অবস্থার বিবরণ পেশ করেছেন। ভূকম্পন থেকে বাঁচার জন্য নবীজি (সা.) আমাদের দোয়া শিখিয়েছেন। হজরত জুবাইর ইবনে আবি সুলাইমান থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, ‘আমি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে বলতে শুনেছি, নবীজি (সা.) সকাল-বিকেল এ দোয়া পড়া থেকে কখনো বিরত থাকতেন না।’ দোয়াটি হলো, ‘আল্লাহুম্মাহ্ফাজনি মিন বাইনি ইয়াদাইয়া ওয়া মিন খালফি, ওয়া আন ইয়ামিনি, ওয়া আন শিমালি, ওয়া মিন ফাওকি, ওয়া আউজু বি আজমাতিকা আন আগতালা মিন তাহতি।’
অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ, আপনি আমাকে আমার সামনের দিক থেকে পেছনের দিক থেকে, আমার ডান পাশ থেকে বাম পাশ থেকে, আমার ওপর থেকে আমাকে হেফাজত করেন, আর আমি নিচ থেকে আক্রান্ত হওয়া (ভূগর্ভে বিলীন হওয়া) থেকে আপনার মহিমার কাছে আশ্রয় চাই।’ (মুসনাদে আহমাদ: ৪৭৮৫)
সকাল-বিকেল ও বিশেষ সময়ের দোয়া-দরুদ হতে পারে আমাদের জীবনে বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায়। ভূমিকম্প থেকে বাঁচার জন্য উক্ত দোয়া সব সময় পাঠ করা যেতে পারে।
লেখক: মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ আন নোমান আরীফী, সিনিয়র ওস্তাদ, মারকাযুল উলুম আল ইসলামিয়া বনশ্রী, ঢাকা।

শাশ্বত চেতনাবোধের বিনির্মাণ ও অনুপম মনুষ্যত্ব অর্জনের এক কার্যকর প্রশিক্ষণের বার্তা নিয়ে আগমন করে রমজান। শাবান মাসের শেষে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই ধরণির বুকে রহমতের ফল্গুধারা নেমে আসে। শুরু হয় মুমিন হৃদয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্নিগ্ধ প্রহর—পবিত্র মাহে রমজান।
৭ ঘণ্টা আগে
দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায়...
৭ ঘণ্টা আগে
মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
৭ ঘণ্টা আগে
রমজানের স্নিগ্ধ আমেজ আর আনন্দের জোয়ারে মিসরের পুরোনো কায়রোর সমকক্ষ আর কোনো জনপদ নেই বললেই চলে। এখানকার প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি দিয়ে হাঁটার সময় আপনার চোখে পড়বে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেওয়ার একেকটি জীবন্ত দৃশ্য। কেউ হয়তো নিজের বাড়ির আঙিনায় বা দোকানের সামনে বসে লোহা কিংবা...
৭ ঘণ্টা আগে