আল্লাহ তাআলা মাঝেমধ্যে বান্দাদের পরীক্ষা করার জন্য অথবা তাঁর কুদরতের নিদর্শন রূপে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন করেন। ভূমিকম্প সেই নিদর্শনসমূহের অন্যতম, যা মানুষের অসহায়ত্ব এবং সৃষ্টিকর্তার মহাশক্তি গভীরভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে সুরা জিলজাল নামে স্বতন্ত্র একটি সুরা নাজিল করে এর ভয়াবহতার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা ভূমিকম্প হলো মানুষের অপকর্ম এবং পাপাচারের ফল, যা বান্দাকে তওবা করার জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সতর্কবার্তা। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা হচ্ছে তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক (অপরাধ) ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)
করণীয় এবং আমলসমূহ
ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগের সময় একজন মুমিনের প্রধান করণীয় হলো তাৎক্ষণিকভাবে আল্লাহর কাছে বিনীতভাবে আশ্রয় ও ক্ষমা প্রার্থনা করা।
১. ইস্তিগফার ও তওবা: সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা, নিজেদের আচার-আচরণ শুধরে নেওয়া এবং পাপকর্ম থেকে বিরত থাকা।
২. দোয়া ইউনুস পাঠ: যেকোনো সংকট ও অস্থিতিশীল সময়ে দোয়া ইউনুস পাঠ করা সুন্নত। এই দোয়া পাঠ করে নবী ইউনুস (আ.) সংকট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
৩. অন্যান্য জিকির: যদিও ভূমিকম্পের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দোয়া সহিহ্ হাদিসে বর্ণিত হয়নি; তবে এ সময় আল্লাহর কাছে মন থেকে যেকোনো দোয়া করা যায়।
৪. দান-সদকা: সব সময় বেশি বেশি দান-সদকা করা উচিত। তাহলে ভূমিকম্পের মতো বিপদগুলো থেকে আল্লাহ তাআলা রক্ষা করবেন বলে আশা করা যায়। হাদিসে এসেছে, দান-সদকা বিপদ-আপদ দূর করে।
৫. সামাজিক সচেতনতা: ভূমিকম্পের সময় বেশি নড়াচড়া, বাইরে বের হওয়ার জন্য ছুটোছুটি করা, জানালা দিয়ে লাফ দেওয়ার চেষ্টা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকা উচিত। সাধারণ নিয়ম হলো—এ সময় যত বেশি মুভমেন্ট করবেন, তত বেশি আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। তাই ভূকম্পন অনুভূত হলে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলা আবশ্যক।
পরিশেষে বলা যায়, ভূমিকম্পের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে এবং আল্লাহর করুণা লাভ করতে পাপাচার থেকে বিরত থেকে তাঁর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় প্রার্থনা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর ইতিহাসে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে একমাত্র হাকিম ইবনে হিজাম (রা.)-ই সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, যিনি পবিত্র কাবাঘরের ভেতরে ভূমিষ্ঠ হওয়ার অনন্য মর্যাদা লাভ করেছেন। হস্তী বাহিনীর ঘটনার ১৩ বছর আগে এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।
৯ ঘণ্টা আগে
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি পালন করা ওয়াজিব। তবে ঠিক কতটুকু সম্পদ বা টাকা থাকলে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়, তা নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মনে অস্পষ্টতা থাকে।
১১ ঘণ্টা আগে
মুসলমানদের অন্যতম উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার গুরুত্বপূর্ণ আমল কোরবানি। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সেই ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। নিসাবের পরিমাণ হলো সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা...
১৬ ঘণ্টা আগে