শাশ্বত চেতনাবোধের বিনির্মাণ ও অনুপম মনুষ্যত্ব অর্জনের এক কার্যকর প্রশিক্ষণের বার্তা নিয়ে আগমন করে রমজান। শাবান মাসের শেষে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ উঁকি দিতেই ধরণির বুকে রহমতের ফল্গুধারা নেমে আসে। শুরু হয় মুমিন হৃদয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার স্নিগ্ধ প্রহর—পবিত্র মাহে রমজান। এটি যেমন কোরআন নাজিলের মাস, একই সঙ্গে রহমত, ক্ষমা ও মুক্তির মাস। এই পবিত্র মাসে জান্নাতের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়, জাহান্নামের কপাট রুদ্ধ হয় এবং শয়তানকে করা হয় শৃঙ্খলাবদ্ধ। এ ছাড়া এই মাসে লুকিয়ে আছে এমন এক মহিমান্বিত রাত, যা হাজার মাস থেকে উত্তম।
কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে রমজানের গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা এ মাসে সামর্থ্যবান প্রতিটি মুমিন বান্দার ওপর সিয়াম বা রোজাকে ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল; যাতে তোমরা তাকওয়া বা পরহেজগারি অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘যখন তোমরা (রমজানের) চাঁদ দেখবে, তখন থেকে সিয়াম পালন করবে। আর যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখবে, তখন সিয়াম পালন বন্ধ করবে। আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে ৩০ দিন পূর্ণ করবে।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৯, মুসলিম: ১০৮০)
সিয়াম পালনের অনন্য ফজিলত
প্রতিটি নেক আমলের জন্য মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত সওয়াব ও পুরস্কার রয়েছে। কিন্তু সিয়ামের বিষয়টি একেবারেই স্বতন্ত্র। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা এর প্রতিদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কেবল সিয়াম ব্যতীত। কারণ, তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমিই তার প্রতিদান দেব।’
সিয়াম কেবল অনাহার নয়, বরং তা একটি ঢালস্বরূপ। নবীজি (সা.) বলেন, রোজাদার ব্যক্তি যেন অশ্লীল কথা, অনর্থক কর্ম ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। কেউ তাকে গালি দিলে সে যেন বলে—‘আমি রোজাদার।’ মহান আল্লাহর শপথ! রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মেশকের সুঘ্রাণের চেয়ে প্রিয় ও পবিত্র। রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ আনন্দ রয়েছে—প্রথমটি ইফতারের সময় ক্ষুধা নিবারণের আনন্দ, আর দ্বিতীয়টি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়কার আনন্দ। (সহিহ বুখারি: ১৯০৪, মুসলিম: ১১৫১)
সিয়ামের মর্যাদা
মুসলিম শরিফের বর্ণনায় এসেছে, আদম সন্তানের প্রতিটি নেক আমল ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে ঘোষণা হলো—সিয়াম ব্যতীত। কারণ, বান্দা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তার কুপ্রবৃত্তি ও খাদ্য ত্যাগ করে। (সহিহ মুসলিম: ১১৫১)। এই হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে সিয়ামের সওয়াব সাত শ গুণের অধিক হবে, ইনশা আল্লাহ।
সাহল বিন সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি বিশেষ দরজা আছে, যা দিয়ে কেবল সিয়াম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। কিয়ামতের দিন যখন আহ্বান জানানো হবে—‘কোথায় সিয়াম পালনকারীরা?’ তখন তারা দণ্ডায়মান হবে এবং সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা প্রবেশের পর দরজাটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। (সহিহ বুখারি: ১৮৯৬, মুসলিম: ১১৫২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখবে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ৩৮, মুসলিম: ৭৬০)
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবীজি (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় লড়াইরত কোনো মুজাহিদ যদি এক দিন রোজা রাখে, তবে আল্লাহ তাআলা ওই এক দিনের বিনিময়ে তার চেহারাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি: ২৮৩, মুসলিম: ১১৫৩)
রমজান কেবল একটি মাসের নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধির এক মহা আয়োজন ও তাকওয়া অর্জনের অনন্য বসন্ত। কোরআন ও হাদিসের শিক্ষা অনুযায়ী, সিয়াম মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেয়। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার এই কৃচ্ছ্রসাধন আসলে নফসের লাগাম টেনে ধরার একটি অনুশীলন। এখানে বাহ্যিক অনাহারই শেষ কথা নয়; বরং অন্তরের পবিত্রতা অর্জনই আসল সার্থকতা।
এই মাস আমাদের শেখায় ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ। ক্ষুধার তাড়নায় বিচলিত না হয়ে মানুষের দুঃখ অনুভবের মাধ্যমে হৃদয়ে জাগে সহমর্মিতা। তারাবি, সেহরি, ইফতার, জিকির ও তিলাওয়াতের এই ছন্দময় ইবাদত মানুষকে তার রবের অতি নিকটে পৌঁছে দেয়। সুতরাং আমাদের কর্তব্য—রমজানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রাখা। বরং গুনাহ বর্জন, অধিক তিলাওয়াত, দান-সদকা ও তওবা-ইস্তিগফারের মাধ্যমে এ মাসকে মহাপ্রাপ্তির সোপান বানানো। রমজান শেষে আমাদের স্মৃতিতে যেন শুধু ক্ষুধার ক্লান্তি না থাকে, বরং থাকে একটি ক্ষমাপ্রাপ্ত হৃদয় ও পরিশুদ্ধ আত্মা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে রমজানের প্রকৃত মর্যাদা অনুধাবন করে তা যথাযথভাবে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন।

দিন শেষে রাত নেমে এসেছে মক্কার আকাশে। ধীরে ধীরে রাত গভীর হচ্ছে। বাড়ছে নিস্তব্ধতা। কমছে কোলাহল। এসবের মাঝেই নতুন এক আলোর আগমনের অপেক্ষা। মক্কার এক প্রান্তে বসে অপেক্ষা করছেন এক ইহুদি পণ্ডিত। তাঁর চোখ আকাশের দিকে স্থির। মনোযোগ গভীর। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি তাঁর কাঙ্ক্ষিত বস্তু পেয়েছেন বলেই চেহারায়...
২ ঘণ্টা আগে
মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভাষা। এটি মানুষের চিন্তাচেতনা, নিজস্ব সংস্কৃতি, অনুভূতি প্রকাশ ও আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহক। বিশেষত মাতৃভাষা মানুষের হৃদয় ও আবেগের ভাষা। যে ভাষায় মানুষ প্রথম কথা বলতে শেখে, শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চায় তা অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
২ ঘণ্টা আগে
রমজানের স্নিগ্ধ আমেজ আর আনন্দের জোয়ারে মিসরের পুরোনো কায়রোর সমকক্ষ আর কোনো জনপদ নেই বললেই চলে। এখানকার প্রতিটি রাস্তা, অলিগলি দিয়ে হাঁটার সময় আপনার চোখে পড়বে পবিত্র মাসকে বরণ করে নেওয়ার একেকটি জীবন্ত দৃশ্য। কেউ হয়তো নিজের বাড়ির আঙিনায় বা দোকানের সামনে বসে লোহা কিংবা...
২ ঘণ্টা আগে
রমজান মাসে অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে গোসল ফরজ হয়। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে বা সেহরির শেষ মুহূর্তে ঘুম থেকে ওঠার ফলে অনেক সময় গোসল করা কঠিন হয়ে যায়। এ অবস্থায় গোসল না করে সেহরি খেলে কি রোজা হবে?
৩ ঘণ্টা আগে