
ভূমিকম্প মহান আল্লাহর অসীম শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। অবাধ্যতার কারণে অতীতে অনেক জাতিকে ভূমিকম্প দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন তিনি। যেদিন মহাবিশ্বের আয়ু ফুরিয়ে যাবে, সেদিন ভয়ংকর ভূমিকম্পের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পুরো সৃষ্টিজগৎ ধ্বংস করে দেবেন। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ভূমিকম্পগুলো এরই ছোট নমুনামাত্র।
মহান আল্লাহ তাঁর বিভিন্ন নিদর্শনের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক করেন। তাদের অবাধ্যতার পরিণাম স্মরণ করিয়ে দিয়ে সৎ পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমি ভয় দেখানোর জন্যই নিদর্শনগুলো পাঠাই।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৫৯)। ভূমিকম্প তেমনই এক নিদর্শন। আল্লাহ বলেন, ‘বলো, আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাতে সক্ষম।’ (সুরা আনআম: ৬৫)। আয়াতটি নাজিল হলে মহানবী (সা.) বলেন, ‘হে আল্লাহ, আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সহিহ্ বুখারি)। শায়খ ইস্পাহানি (রহ.) আয়াতের তাফসিরে বলেছেন, এখানে ভূমিকম্প ও ভূমিধসের কথা বলা হয়েছে।
মানুষের গুনাহ, অনাচার, পাপাচার, প্রকৃতির প্রতি অবিচার ইত্যাদির কারণে আল্লাহ তাআলা মানুষকে বিভিন্ন দুর্যোগের মুখোমুখি করেন। এ কারণেই এসবকে মানুষের হাতের কামাই আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘যে বিপদ-আপদই তোমাদের ওপর আসুক না কেন, তা তোমাদের নিজেদের হাতের কামাই। আর আল্লাহ তোমাদের অনেক (গুনাহ) ক্ষমা করে দেন।’ (সুরা শুরা: ৩০)
অতীতে আল্লাহ তাআলা অবাধ্যতার সাজা হিসেবে ভূমিকম্প দিয়ে কয়েকটি জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন। সালিহ (আ.)-এর জাতি সামুদ, শোয়াইব (আ.)-এর জাতি মায়ইয়ানবাসী ও লুত (আ.)-এর জাতি কওমে লুতকে ভূমিকম্পের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের কাউকে আমি মাটির নিচে গেড়ে দিয়েছি।’ (সুরা আনকাবুত: ৪০)
তবে মহানবী (সা.)-এর বিশেষ দোয়ার কারণে তাঁর উম্মতকে পুরোপুরি ধ্বংস না করার অঙ্গীকার করেছেন আল্লাহ তাআলা। অবশ্য মাঝেমধ্যে তাদের সতর্ক করার জন্য ভূমিকম্পের মতো ধ্বংসাত্মক দুর্যোগ পাঠিয়ে থাকেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জনপদের মানুষগুলো কি নির্ভয় হয়ে ধরে নিয়েছে যে আমার আজাব তাদের ওপর মধ্য দিনে এসে পড়বে না? তখন তারা খেল-তামাশায় মত্ত থাকবে। কিংবা তারা কি আল্লাহর কলাকৌশল থেকে নির্ভয় হয়ে গেছে? অথচ আল্লাহর কলাকৌশল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত জাতি ছাড়া অন্য কেউই নিশ্চিত হতে পারে না।’ (সুরা আরাফ: ৯৮-৯৯)
ভূমিকম্প কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতার কথা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মানুষ, তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। কিয়ামতের ভূমিকম্প এক ভয়ংকর ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা দেখবে, সেদিন স্তন্যদায়ী মা তার দুগ্ধপোষ্য সন্তানের কথা ভুলে যাবে আর সব গর্ভবতীর গর্ভপাত হয়ে যাবে। দৃশ্যত মানুষকে মাতালের মতো দেখাবে, আসলে তারা নেশাগ্রস্ত হবে না। মূলত আল্লাহর শাস্তি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।’ (সুরা হজ, আয়াত: ১-২)
কিয়ামতের ভয়াবহতা নিয়ে অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ (সেদিন) প্রবল কম্পনে প্রকম্পিত হবে পৃথিবী এবং পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে তা বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে।’ (সুরা ওয়াকিয়া: ৪-৬)

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর ইতিহাসে কোটি কোটি মানুষের মধ্যে একমাত্র হাকিম ইবনে হিজাম (রা.)-ই সেই সৌভাগ্যবান ব্যক্তি, যিনি পবিত্র কাবাঘরের ভেতরে ভূমিষ্ঠ হওয়ার অনন্য মর্যাদা লাভ করেছেন। হস্তী বাহিনীর ঘটনার ১৩ বছর আগে এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।
৯ ঘণ্টা আগে
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর এটি পালন করা ওয়াজিব। তবে ঠিক কতটুকু সম্পদ বা টাকা থাকলে কোরবানি দেওয়া আবশ্যক হয়, তা নিয়ে অনেক সময় সাধারণ মানুষের মনে অস্পষ্টতা থাকে।
১১ ঘণ্টা আগে
মুসলমানদের অন্যতম উৎসব ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহার গুরুত্বপূর্ণ আমল কোরবানি। ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সেই ব্যক্তির ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। নিসাবের পরিমাণ হলো সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা...
১৬ ঘণ্টা আগে