Ajker Patrika

ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ করা হারাম

মুফতি হাসান আরিফ
ইহরাম অবস্থায় যেসব কাজ করা হারাম
ফাইল ছবি

হজ ও ওমরাহর প্রধান শর্ত হলো ইহরাম। ইহরাম বাঁধার পর একজন হাজি বা ওমরাহ পালনকারীর ওপর নির্দিষ্ট কিছু কাজ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এই নিষিদ্ধ কাজগুলো লঙ্ঘন করলে হজে ত্রুটি হতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে ‘দম’ বা জরিমানা দেওয়া ওয়াজিব হয়ে পড়ে।

নিচে ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকা দেওয়া হলো:

পোশাক ও সাজসজ্জা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা

  • ১. সেলাইযুক্ত পোশাক: পুরুষদের জন্য সেলাই করা যেকোনো কাপড় বা জুতা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। তবে সেলাইবিহীন স্পঞ্জ স্যান্ডেল পরা যাবে। এ ছাড়া ইহরাম অবস্থায় চশমা, ঘড়ি, বেল্ট বা আংটি পরা বৈধ। কারণ, এগুলো পোশাকের অংশ নয়।
  • ২. মাথা ও মুখ ঢাকা: মাথা বা মুখমণ্ডল কাপড় দিয়ে ঢাকা যাবে না (বিশেষ করে পুরুষদের জন্য)।
  • ৩. জুতা নির্বাচন: এমন জুতা পরা নিষিদ্ধ, যা পায়ের ওপরের পিঠ ঢেকে ফেলে।
  • ৪. চুল ও নখ কাটা: শরীরের কোনো অংশের চুল কাটা, ছাঁটা বা ছিঁড়ে ফেলা এবং নখ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সুগন্ধি ও প্রসাধন ব্যবহার

  • ৫. সুগন্ধি ব্যবহার: ঘ্রাণযুক্ত তেল, আতর বা অন্য কোনো সুগন্ধি শরীরে বা কাপড়ে লাগানো নিষিদ্ধ।
  • ৬. সাবান ব্যবহার: সুগন্ধিযুক্ত সাবান শরীরে লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ৭. চুল-দাড়িতে চিরুনি: চুল বা দাড়িতে এমনভাবে চিরুনি বা আঙুল চালানো নিষিদ্ধ, যাতে চুল ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আচরণ ও চারিত্রিক নিষেধাজ্ঞা

  • ৮. স্ত্রী সহবাস: স্ত্রীর সঙ্গে দৈহিক মিলন বা যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
  • ৯. যৌন উদ্দীপক কথা: কামোদ্দীপক কোনো আচরণ করা বা যৌন উত্তেজনা ছড়ায় এমন কথা বলা যাবে না।
  • ১০. ঝগড়া-বিবাদ: কারও সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ, গালিগালাজ বা তর্কে লিপ্ত হওয়া নিষেধ।
  • ১১. পাপ কাজ: যেকোনো ধরনের ছোট-বড় গুনাহ বা পাপাচার থেকে নিজেকে পবিত্র রাখা আবশ্যক।

প্রাণী ও জীবজন্তু-সংক্রান্ত

  • ১২. শিকার করা: ইহরাম অবস্থায় বন্য প্রাণী শিকার করা বা শিকারে সাহায্য করা নিষিদ্ধ।
  • ১৩. জীবজন্তু হত্যা: উকুন, ছারপোকা, মশা, মাছি বা অন্য কোনো ছোট জীবজন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মারা বা হত্যা করা নিষেধ।

যদি কেউ ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে ফেলে, তবে দ্রুত আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে যদি চুল কাটা বা সুগন্ধি ব্যবহারের মতো বড় কোনো লঙ্ঘন হয়, তবে ইসলামি বিধান অনুযায়ী জরিমানা বা ‘দম’ দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত