বর্তমান বিশ্বে দুশ্চিন্তা এবং ডিপ্রেশন এক ভয়ংকর ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মানুষ বিষণ্নতায় ভুগছে। জীবনের অনিশ্চয়তা, ঋণের বোঝা কিংবা ভবিষ্যৎ আতঙ্ক থেকে সৃষ্ট এই মানসিক চাপ মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইসলামি জীবনদর্শনে দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির জন্য পবিত্র কোরআন ও হাদিসে অত্যন্ত কার্যকর কিছু আমল ও দোয়া বর্ণিত হয়েছে। নিচে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবি আবু উমামাহকে দুশ্চিন্তা ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তির জন্য এই দোয়া সকাল-সন্ধ্যায় পড়তে শিখিয়েছিলেন:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالحَزَنِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ العَجزِ وَالكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الجُبنِ وَالبُخلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ غَلَبَةِ الدَّينِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুজনি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল আজজি ওয়াল কাসালি, ওয়া আউজুবিকা মিনাল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া আউজুবিকা মিন গালাবাতিদ্ দাইনি ওয়া কাহরির রিজাল।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, ভীরুতা ও কার্পণ্য থেকে এবং ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল থেকে। (সুনান আবু দাউদ: ১৫৫৫)
ইমান ও তাকওয়া মজবুত করা-
মানসিক চাপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ঢাল হলো আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস বা ইমান। মুমিনের বিশ্বাস থাকবে—‘আল্লাহ আমার সঙ্গে আছেন এবং তিনি আমার সব সমস্যা সমাধান করবেন।’ ইমান যত শক্তিশালী হয়, দুশ্চিন্তা তাকে তত কম স্পর্শ করে। মনে রাখতে হবে, দুনিয়ার সব সমস্যার চেয়ে আখিরাত বড়। এই বিশ্বাস বিষণ্নতা দূর করতে মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
কোরআনে আল্লাহ বলেছেন—‘নিশ্চয়ই আল্লাহর জিকিরে হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা রাদ: ২৮)। উদ্বেগ ও জড়তা কাটাতে হজরত মুসা (আ.)-এর এই দোয়াটি বিশেষ কার্যকর:
رَبِّ اشْرَحْ لِى صَدْرِى-وَيَسِّرْ لِىٓ أَمْرِى-وَٱحْلُلْ عُقْدَةًۭ مِّن لِّسَانِى-يَفْقَهُوا۟ قَوْلِى
উচ্চারণ: রাব্বিশরাহলি সাদরি, ওয়া ইয়াসসিরলি আমরি, ওয়াহলুল উকদাতাম মিল লিসানি, ইয়াফকাহু কাওলি।
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমার বুক প্রশস্ত করো, আমার কাজ সহজ করো এবং আমার জিবের জড়তা দূর করো, যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। (সুরা তোহা: ২৫-২৮)
সবকিছু যখন প্রতিকূলে থাকে, তখন এই দোয়া পাঠ করলে আল্লাহর গায়েবি সাহায্য লাভ করা যায়:
حَسْبِيَ اللَّهُ لا إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
উচ্চারণ: হাসবিয়াল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু ওয়া হুয়া রাব্বুল আরশিল আজিম।
অর্থ: আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, আমি তাঁর ওপর ভরসা করি, তিনি মহান আরশের রব। (সুনান আবু দাউদ, আয়াত: ১২৯)।
আলেমগণের মতে, যেকোনো ডিপ্রেশন বা পেরেশানি থেকে বাঁচতে নিচের তিনটি আমল হলো ‘মহৌষধ’:
সর্বশেষ ও প্রধান আমল হলো, শেষ রাতে তাহাজ্জুদের সময় আল্লাহর কাছে দুই হাত তুলে কান্না করা। আল্লাহ তাআলা অসাধ্যকে সাধন করে দিতে পারেন। নিয়মিত নামাজ ও মাসনুন দোয়াগুলোর মাধ্যমে আমরা জীবনকে মানসিক চাপমুক্ত এবং বরকতময় করতে পারি।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় এক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ইসলামি শিক্ষার পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ গ্রহণ করছে। তাদের সম্পূর্ণ সিলেবাস প্রণয়ন করেছে ইতমিনান বোর্ড বাংলাদেশ।
৩ ঘণ্টা আগে
ইসলাম ধর্মের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো নামাজ। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতিটি মুসলিম নারী ও পুরুষের ওপর দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ বা অবশ্যপালনীয়। কোনো ব্যক্তির ওপর নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য প্রধানত তিনটি শর্ত একসঙ্গে পূর্ণ হতে হয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৮ ঘণ্টা আগে
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্যাক্ট-চেক এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
১ দিন আগে