
হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম। এই মাসের সম্মান ও ফজিলত অনেক বেশি। এই মাসের ১০ তারিখ আশুরা। এই আশুরার সঙ্গে জড়িত রয়েছে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা। তাই মহররম ও আশুরার দিনের করণীয় ও বর্জনীয় নিয়ে বেশ বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি লক্ষ্য করা যায়। তাই এ সংক্রান্ত করণীয়-বর্জনীয় বিষয়গুলো জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
মহররমের ২ করণীয় আমল—
১. মহররম মাসের ১০ম দিন (আশুরার দিন) রোজা অবস্থায় কাটানো উত্তম। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে আশুরার দিনের রোজার ওপরে অন্য কোনো দিনের (নফল) রোজাকে প্রাধান্য দিতে দেখিনি।’ (সহিহ্ বুখারি: ২০০৬)
২. তওবা করা। হজরত আলী (রা.) বলেন, একবার আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে বসা ছিলাম। ওই সময় এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, রমজান মাসের পর আর কোন মাসের রোজা পালনে আপনি আমাকে আদেশ করেন?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান মাসের পর তুমি যদি আরও রোজা রাখতে ইচ্ছুক হও তবে মহররমের রোজা রাখ। যেহেতু এটা আল্লাহ তাআলার মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে যেদিন আল্লাহ তাআলা এক গোত্রের তওবা কবুল করেছিলেন এবং তিনি আরও অনেক গোত্রের তওবা এই দিনে কবুল করবেন।’ (জামে তিরমিজি: ৭৪১)
কয়েকটি বর্জনীয়—
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যারা শোকে গণ্ডে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলি যুগের মতো চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ্ বুখারি: ১২৯৮, সুনানে ইবনে মাজা: ১৫৮৪)
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর কন্যা জয়নব (রা.) মারা গেলে নারীরা কাঁদতে লাগল। উমার (রা.) হাতের কড়া দিয়ে তাদের আঘাত করলেন। এ অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত উমরকে সরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘উমর, কোমল হও।’ আর মহিলাদের বললেন, ‘তোমরা তোমাদের গলার আওয়াজ শয়তান থেকে দূরে রাখো (অর্থাৎ চিৎকার করে ইনিয়ে-বিনিয়ে কেঁদো না)।’ তারপর বললেন, ‘যা কিছু চোখ (অশ্রু) ও হৃদয় থেকে (দুঃখ বেদনা ও শোক-তাপ) বের হয় তা আল্লাহর তরফ থেকেই বের হয়। এটা হয় রহমতের কারণে। আর যা কিছু হাত ও মুখ হতে বের হয় তা হয় শয়তানের পক্ষ থেকে।’ (জামিউস সগির: ৪২০১)
তাই মহররম মাসে বিশেষ করে আশুরার দিনে ১. তাজিয়া মিছিল করা, ২. মর্ছিয়া পাঠ করা, ৩. মাতম করা/বিলাপ করা অনুচিত। ইসলাম এসব বিষয় সমর্থন করে না।
লেখক: শিক্ষক ও ইসলামবিষয়ক গবেষক

কওমি মাদ্রাসা নিয়ে অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, ফ্যাক্ট-চেক এবং তদারকি কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে একটি কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ সেল’ গঠন এবং অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’।
৫ ঘণ্টা আগে
আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের মধ্যে অন্যতম একটি হলো, তিনি মুসলিম উম্মাহকে তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের মহান আমল দান করেছেন। এ আমল রাসুল (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতাগণ
১৫ ঘণ্টা আগে
মানুষ সৃষ্টির আগে মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতে ছিল ফেরেশতা ও জিন জাতি। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে ইবলিস থাকত ফেরেশতাদের সঙ্গে। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সে আদল-ইনসাফ ও আনুগত্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অভিশপ্ত হয়।
২ দিন আগে
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াক তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি দাঁত পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপায়ের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ।
২ দিন আগে