
একজন মুসলিম হিসেবে পরিচয় দেওয়ার প্রধান ভিত্তি হলো ইমান। ইমান ছাড়া কেউ নিজেকে মুসলিম দাবি করতে পারে না। তাই একজন মুসলমানের জীবনে ইমান এক অমূল্য সম্পদ। তবে সৎ কাজ ছাড়া ইমানও মূল্যহীন। আসুন, ইমান ও সৎ কাজের পুরস্কার সম্পর্কে সংক্ষেপে জেনে নিই।
‘ইমান’ একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ বিশ্বাস করা, স্বীকৃতি দেওয়া, আনুগত্য করা এবং নির্ভর করা। ইসলামি পরিভাষায় ইমান বলতে বোঝায় অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি এবং শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে সেই বিশ্বাস বাস্তবে রূপ দেওয়া।
একটি হাদিসে ইমানের সংজ্ঞা সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার হজরত জিবরাইল (আ.) মানুষের রূপে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেন, ‘ইমান কী? রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইমান হলো—আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস। তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর আসমানি কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলদের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো ও মন্দ উভয়ের প্রতি বিশ্বাস।’ (সহিহ্ বুখারি)
ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেন, ‘ইমান হলো অন্তরের বিশ্বাস এবং মুখের স্বীকৃতি।’ আর ইমাম শাফেয়ি, মালিক ও আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) বলেন, ‘ইমান হলো অন্তরের বিশ্বাস, মুখের স্বীকৃতি ও আমলের বাস্তবায়ন।’ সুতরাং কথা ও কাজ—দুয়ের সমন্বয়েই ইমান পরিপূর্ণ হয়।
পরকালীন মুক্তি ও সফলতা এই দুই বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল—একটি হলো ইমান, অপরটি সৎ কাজ। ইমান হলো বিশ্বাসের ভিত, আর সৎ কাজ হলো সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা স্তম্ভ। যেমন একটি দালান ভিত্তি ছাড়া দাঁড়াতে পারে না, তেমনি ভিত্তি থাকলেও যদি দেয়াল না থাকে, তবে সেটিও পরিপূর্ণ হয় না। ইমান ও সৎ কাজ—এই দুই একে অপরের পরিপূরক।
মুসলমানমাত্রই জান্নাতে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। কিন্তু যদি ইমান ও সৎ কাজের পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় না হয়, তবে দুনিয়ায় মুসলিম পরিচয়ে বেঁচে গেলেও আখিরাতে মোমিন পরিচয়ে নিজেকে উপস্থাপন করা কঠিন হয়ে পড়বে। একজন মুসলিমের ইমান কতটা মজবুত, তা তার সৎ কাজ থেকেই প্রতিফলিত হয়। তাই যার ইমান যত দৃঢ়, তার সৎ কাজও তত প্রবল।
বীজ ও চারার মধ্যে যেমন সম্পর্ক, ইমান ও সৎ কাজের মধ্যেও তেমন সম্পর্ক। বীজ বপনের পর যদি যথাযথ পরিচর্যা না করা হয়, তবে তা অঙ্কুরিত হয় না। তেমনি ইমান আনার পর যদি তা আমলের মাধ্যমে প্রকাশ না পায়, তবে সেই ইমানও অকেজো হয়ে পড়ে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘কালের শপথ, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত—তবে তারা নয় যারা ইমান এনেছে ও সৎ কাজ করেছে।’ (সুরা আসর)। তিনি আরও বলেন, ‘যারা ইমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।’ (সুরা মায়েদা: ৯)। অন্য আয়াতে এসেছে, ‘নিশ্চয় যারা ইমান এনেছে এবং সৎ কাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদৌস।’ (সুরা কাহাফ: ১০৭)
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে ইমান ও সৎ কাজের মাধ্যমে প্রকৃত মুমিন হওয়ার তৌফিক দান করুন।

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর...
৯ ঘণ্টা আগে
বইটিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির কারণে সফর বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এতে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া সফরের পথে কাতারে ১২ ঘণ্টার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, ২০২৫ সালের...
৯ ঘণ্টা আগে
হিজরি বর্ষপঞ্জি মুসলিম উম্মাহর ইমানি চেতনা, ত্যাগ, ইবাদত এবং সোনালি ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। পবিত্র কোরআনে বছরকে ১২টি মাসে বিভক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি মাসের নাম, অর্থ এবং নেপথ্যের ইতিহাস মুমিনের অন্তরকে এক বিশেষ রুহানি আবেশে উদ্বেলিত করে।
১১ ঘণ্টা আগে
পবিত্রতা অর্জন মুমিনের জীবনের এক অনুপম সৌন্দর্য। আত্মাকে স্নিগ্ধ রাখা এবং প্রভুর দরবারে সিজদানত হওয়ার প্রাথমিক চাবিকাঠি হলো অজু। কেবল নামাজ বা কোরআন তিলাওয়াতই নয়, সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকার আত্মিক ও মানসিক ফজিলত অপরিসীম।
১৮ ঘণ্টা আগে