কোনো সাবালক ও মানসিকভাবে সুস্থ মানুষ যদি কোরবানির জন্য নির্ধারিত তিন দিন তথা জিলহজের ১০, ১১ ও ১২ তারিখে জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তা হলে তাঁর জন্য কোরবানি দেওয়া ওয়াজিব। জাকাতের নিসাব হলো, দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রয়োজনের ব্যয় ও ঋণ থেকে অতিরিক্ত সাড়ে ৭ ভরি সোনা বা সাড়ে ৫২ ভরি রুপা বা এর সমমূল্যের টাকা বা অন্য কোনো সম্পদ থাকা। তবে জাকাতের মতো কোরবানির ক্ষেত্রে এক বছর পর্যন্ত এই পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকা জরুরি নয়।
কোরবানি একটি সুনির্দিষ্ট ইবাদত। তাই কোরআন-হাদিসের বিবরণ ও সাহাবিদের আমল অনুযায়ী এই বিধান পালন করতে হবে। এতে পশু জবাইয়ের পরিবর্তে টাকা দান করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ কোরবানির বিধান প্রবর্তিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই মহানবী (সা.) পশুই কোরবানি করেছেন। হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) নিয়মিত কোরবানি করেছেন, কোনো বছরই বাদ দেননি। (আল-ইসতিজকার: ১৫/১৬৩-১৬৪)
সাহাবিদেরও কোরবানি করতে আদেশ দিয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সাহাবির মধ্যে কোরবানির পশুও বণ্টন করেছেন। হজরত আলী (রা.)কে মৃত্যুর আগে বলে যান যে, তিনি যেন প্রতিবছর তাঁর জন্য কোরবানি করেন। আলী (রা.) প্রতিবছরই মহানবী (সা.)-এর জন্য কোরবানি করতেন।
তাই সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি না করলে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। মহানবী (সা.) এমন ব্যক্তিদের ব্যাপারে হাদিসে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করবে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’ (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

কোরবানি মহান আল্লাহর প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও ত্যাগের এক অনন্য পরীক্ষা। ইসলামের ইতিহাসে এই ইবাদতের মূলে রয়েছে পিতা ও পুত্রের এক বিস্ময়কর আত্মসমর্পণের গল্প, যা আজও মুমিন হৃদয়ে খোদাভীতির সঞ্চার করে।
৩৩ মিনিট আগে
মানুষের জীবনের অবিরাম দৌড়ঝাঁপ, শ্রম আর সাধনার অন্তরালে লুকিয়ে আছে একটি গভীর আকাঙ্ক্ষা—একটুখানি শান্তি ও প্রশান্তি। কেউ মনে করে, বিপুল অর্থ-সম্পদের মাঝেই সুখ নিহিত, কেউ আবার ক্ষমতার উচ্চ আসনে শান্তি খুঁজে বেড়ায়।
২ ঘণ্টা আগে
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে ‘হজ’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত একটি ইবাদত। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। হজের এই দীর্ঘ সফরটি নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি ও বিধানের সমষ্টি। হজের প্রতিটি ধাপ এবং কাজকে ইসলামি শরিয়ত তিনটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে।
৯ ঘণ্টা আগে
নিজের শক্তি, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক দাপটের কারণে কোনো মানুষ হিদায়েত লাভ করতে পারে না। হিদায়েত সম্পূর্ণ আল্লাহ তাআলার হাতে। তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা হিদায়েত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা স্বীয় ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পথভ্রষ্ট করেন।
১৩ ঘণ্টা আগে