
কোরবানি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ইরশাদ করেছেন—‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর (কোরবানির পশুর) মাংস ও রক্ত; বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ (সুরা হজ: ৩৭)
সুতরাং, কোরবানি কবুল হওয়ার জন্য বাহ্যিক আড়ম্বরের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিশুদ্ধতা বেশি জরুরি। নিচে এমন কিছু কারণ আলোচনা করা হলো, যা আপনার মূল্যবান ইবাদতকে পণ্ড করে দিতে পারে:
কোরবানি কবুল না হওয়ার প্রধান কারণ হলো হারাম অর্থ দিয়ে পশু কেনা। সুদের টাকা, ঘুষ, জালিয়াতি বা অন্য কোনো অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়ে বড় বা সুন্দর পশু কিনলেও তা আল্লাহর কাছে কবুল হবে না। হাদিসে এসেছে—‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি শুধু পবিত্র জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (সহিহ্ মুসলিম: ২৩৯৩)
ইবাদতের প্রাণ হলো নিয়ত। যদি কোরবানি দেওয়ার পেছনে আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা বিফলে যাবে। বিশেষ করে, যৌথ বা ভাগে কোরবানির ক্ষেত্রে যদি একজন শরিকের নিয়তেও গন্ডগোল থাকে (যেমন—অন্য শরিকদের মধ্যে কেউ যদি শুধু মাংস খাওয়ার নিয়তে শরিক হন), তবে সবার কোরবানিই প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
আমাদের সমাজে বর্তমানে একটি প্রবণতা দেখা যায়—দামি পশু কিনে মানুষের কাছে সুনাম অর্জন করা বা পশুর প্রদর্শন করা। কোরআন বলছে—‘আল্লাহ কেবল মুত্তাকিদের (আল্লাহভীরু) আমলই কবুল করেন।’ (সুরা মায়েদা: ২৭)
সুতরাং, বড় পশু কিনে বাহবা পাওয়ার মানসিকতা থাকলে সেই কোরবানি কেবল একটি ‘পশু জবাই’ হিসেবেই গণ্য হবে, ‘ইবাদত’ হিসেবে নয়।
যৌথ বা শরিকানা কোরবানির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো প্রত্যেকের অংশ সমান হতে হবে। গরু, মহিষ বা উটে সর্বোচ্চ সাতজন অংশ নিতে পারেন। কিন্তু যদি কোনো শরিকের অংশ অন্যদের চেয়ে কমবেশি হয় (যেমন—কারও দেড় ভাগ, কারও আধা ভাগ), তবে শরিয়তের বিধানমতে সেই কোরবানি শুদ্ধ হবে না। একইভাবে ওজনের ক্ষেত্রেও সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াজিব।
কোরবানির অন্যতম অংশ হলো গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়স্বজনকে মাংস দান করা। যদি কোনো ব্যক্তির মূল লক্ষ্য থাকে ফ্রিজ ভর্তি করে মাংস জমা রাখা এবং আল্লাহর হুকুম পালনের বিষয়টি গৌণ হয়ে যায়, তবে সেই কোরবানি কবুল হয় না। কোরবানি হতে হবে একমাত্র আল্লাহর নামে।
কোরবানির পশুর বয়স ও সুস্থতার বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। যেমন—উটের বয়স পাঁচ বছর ও গরু-মহিষের বয়স অন্তত দুই বছর হতে হবে। এর কম বয়সের পশু কিংবা অন্ধ, খোঁড়া বা অতিশয় অসুস্থ পশু কোরবানি দিলে তা শরিয়তসম্মত হবে না এবং কবুলও হবে না।

দোয়া মুমিনের জন্য আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার অন্যতম মাধ্যম। তাই দোয়ার পাশাপাশি হালাল উপার্জন, নেক আমল, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা ও আল্লাহর প্রতি অটুট আস্থা রাখা জরুরি। দোয়া করে দ্রুত ফল না পেলেও হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেতে হবে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইসলামে আত্মিক পরিশুদ্ধি ও প্রাত্যহিক জীবনের বরকত লাভের মূল চাবিকাঠি হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা বা ইস্তিগফার প্রার্থনা করা। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা কোরআনে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো আল্লাহর কাছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২১ ঘণ্টা আগে
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি ‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীন ১৪৪৮ হিজরি শিক্ষাবর্ষের দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার অনলাইনে ফি জমা শুরু হচ্ছে ৮ অক্টোবর থেকে। বিলম্ব ফি ছাড়া আগামী ১ নভেম্বর পর্যন্ত ফি জমা দেওয়া যাবে। অন্যদিকে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে পরীক্ষা শুরু হবে।
১ দিন আগে