
পর্দার বিধান পালনের ক্ষেত্রে ‘মাহরাম’ ও ‘গায়রে মাহরাম’ (যাদের সঙ্গে পর্দা ফরজ) সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। মাহরামের পরিচয় জানা থাকলে অনেক গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা সহজ হয়।
মাহরাম একটি আরবি শব্দ, যা হারাম শব্দ থেকে এসেছে। ইসলামি পরিভাষায় মাহরাম বলা হয় সেই সব ব্যক্তিদের, যাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ধর্মীয়ভাবে চিরতরে নিষিদ্ধ বা অবৈধ এবং যাদের সামনে দেখা দেওয়া বা দেখা করা জায়েজ। মূলত তিনটি সম্পর্কের ভিত্তিতে একজন মানুষ মাহরাম হতে পারে:
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা নারীদের পর্দার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে নবী, আপনি আপনার স্ত্রীগণকে, কন্যাগণকে ও মুমিনদের নারীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্ত্যক্ত করা হবে না।’ (সুরা আহজাব: ৫৯)
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে মাহরামদের বিস্তারিত পরিচয় দেওয়া হয়েছে। একজন পুরুষের জন্য মাহরাম নারী হলেন মোট ১৪ জন:
মায়ের সমপর্যায়ের ৫ জন: ১. মা (নানি, দাদি এবং তদূর্ধ্ব সবাই এর অন্তর্ভুক্ত)। ২. ফুফু (বাবার বোন)। ৩. খালা (মায়ের বোন)। ৪. শাশুড়ি (স্ত্রীর আপন মা)। ৫. দুধ-মা (যিনি ছোটবেলায় দুধ খাইয়েছেন)।
বোনের সমপর্যায়ের ৫ জন: ৬. নিজের বোন (সহোদরা, বৈপিত্রেয় ও বৈমাত্রেয়)। ৭. নানি (মায়ের মা)। ৮. দাদি (বাবার মা)। ৯. নাতনি (আপন ছেলে ও মেয়ের কন্যা)। ১০. দুধ-বোন।
মেয়ের সমপর্যায়ের ৪ জন: ১১. নিজের মেয়ে। ১২. ভাতিজি (আপন ভাইয়ের মেয়ে)। ১৩. ভাগনি (আপন বোনের মেয়ে)। ১৪. পুত্রবধূ (ছেলের বউ)।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় শ্যালিকাকে (স্ত্রীর বোন) বিয়ে করা হারাম হলেও তিনি মাহরাম নন; অর্থাৎ তাঁর সঙ্গে দেখা করা জায়েজ নেই।
একজন নারীর জন্য যে ১৪ জন পুরুষের সামনে দেখা দেওয়া জায়েজ এবং যাদের বিয়ে করা চিরতরে হারাম, তারা হলেন:
বাবার সমপর্যায়ের ৪ জন: ১. বাবা। ২. চাচা। ৩. মামা। ৪. শ্বশুর।
ভাইয়ের সমপর্যায়ের ৫ জন: ৫. সহোদর ভাই। ৬. নিজের দাদা। ৭. নিজের নানা। ৮. নিজের নাতি। ৯. দুধ-ভাই।
ছেলের সমপর্যায়ের ৫ জন: ১০. নিজের ছেলে। ১১. ভাইয়ের ছেলে (ভাতিজা)। ১২. বোনের ছেলে (ভাগনে)। ১৩. মেয়ের জামাই। ১৪. দুধ-ছেলে।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ ঘণ্টা আগে
ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন হলো মহররমের ১০ তারিখ। যাকে ‘আশুরা’ বলা হয়। মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস ও ঐতিহ্যে এ দিন বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে। হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত ও তাৎপর্যের উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি তাফসির, ইতিহাস ও ফাজায়েলবিষয়ক গ্রন্থে আশুরার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনাও
১০ ঘণ্টা আগে
মহররম ও আশুরা উপলক্ষে আমাদের সমাজে বেশ কিছু কাজ প্রচলিত আছে। বিভিন্ন আলেমের কাছ থেকে শুনেছি—এসব কাজের মধ্যে অনেকগুলোই ইসলাম সমর্থন করে না। মহররম ও আশুরায় কী কী বিষয় থেকে বিরত থাকা উচিত? বিস্তারিত জানতে চাই।
২১ ঘণ্টা আগে
মহররম মাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় দিন আশুরা। ইসলামে এ দিনের ইবাদতের তাৎপর্য অনেক। বছরের বরকতময় এই দিন কোরআন তিলাওয়াত, তওবা-ইস্তিগফার, জিকির-আসকার, নফল নামাজ, তসবিহ-তাহলিল, দরুদ পাঠ ও দান-সদকার মাধ্যমে অতিবাহিত করা উত্তম।
১ দিন আগে