Ajker Patrika

দুই সেজদার মাঝে যে দোয়া পড়বেন

সেজদাহ হলো মহান আল্লাহর সামনে বিনয়ের চরম স্তর। এক সেজদাহ থেকে উঠে দ্বিতীয় সেজদায় যাওয়ার আগে সোজা হয়ে স্থির হয়ে বসা ওয়াজিব। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে স্থির হয়ে বসে দোয়া করা সুন্নত। রাসুল (সা.) নিজে এই বৈঠকে নিয়মিত দোয়া পড়তেন এবং সাহাবিদেরও শিক্ষা দিতেন।

ইসলাম ডেস্ক 
দুই সেজদার মাঝে যে দোয়া পড়বেন
ছবি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি

নামাজ হলো মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার কথোপকথন এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন বা অঙ্গভঙ্গি অত্যন্ত অর্থবহ। সাধারণত আমরা সেজদাহ এবং রুকুর তাসবিহ নিয়ে খুব সচেতন থাকি, কিন্তু দুই সেজদার মধ্যবর্তী সময়ের আমলটি অনেক সময় অবহেলায় অতিবাহিত করি।

অথচ দুই সেজদার মাঝখানে বসা এবং দোয়া করা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নত।

দুই সেজদার মধ্যবর্তী বৈঠকের দোয়া

হাদিসে দুই সেজদার মাঝখানে পড়ার জন্য ছোট এবং বড় কয়েক ধরনের দোয়ার বর্ণনা এসেছে।

সবচেয়ে প্রচলিত বড় দোয়াটি হলো:

اَللّهُمَّ اغْفِرْلِيْ وَارْحَمْنِي وَاهْدِنِيْ وَاجْبُرْنِي وَارْزُقْنِيْ وَارْفَعْنِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি, ওয়ারহামনি, ওয়াহদিনি, ওয়াজবুরনি, ওয়ারযুকনি, ওয়ারফানি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমাকে হেদায়েত দান করুন, আমার দুর্বলতা বা ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন। (সুনানে আবু দাউদ: ৮৫০; সুনানে ইবনে মাজাহ)

সংক্ষিপ্ত দোয়া:

যদি কেউ বড় দোয়াটি পড়তে না পারেন, তবে অন্তত এই ছোট দোয়াটি পড়তে পারেন—যা রাসুল (সা.) থেকে বর্ণিত:

رَبِّ اغْفِرْلِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: রাব্বিগফির লি, রাব্বিগফির লি।

অর্থ: হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে ইবনে মাজাহ)

কেন এই দোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

এই ছোট্ট দোয়ার ভেতরে একজন মুমিনের ইহকাল ও পরকালের যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে:

  • ১. সেজদার মতো বিনয়ের স্থানে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের গুনাহ মুক্ত করা।
  • ২. আল্লাহর রহমত ছাড়া মুমিনের কোনো কাজই পূর্ণতা পায় না।
  • ৩. দোয়ায় থাকা ‘ওয়াজবুরনি’ শব্দটি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। এর মাধ্যমে বান্দা তার জীবনের সব মানসিক কষ্ট, দারিদ্র্য বা অসম্পূর্ণতা আল্লাহর কুদরতি হাত দিয়ে পূর্ণ করার আবেদন জানায়।
  • ৪. এই দোয়ার মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতার পাশাপাশি দুনিয়াবি হালাল রিজিক এবং সম্মান বৃদ্ধির দোয়াও করা হয় এই বৈঠকে।
  • ৫. তাড়াহুড়ো না করে স্থির হয়ে দোয়া পড়লে মনে প্রশান্তি আসে।
  • ৬. সুন্নত মেনে প্রতিটি রুকন আদায় করলে নামাজ আরও বরকতময় হয়।
  • ৭. সিজদার মাঝে রিজিক, হেদায়েত ও মর্যাদার জন্য দোয়া করার কারণে দয়ানুগত জীবন সহজ হয়।

এ ছাড়া দুই সেজদার মাঝে স্থির হয়ে দোয়া পড়ার মাধ্যমে নামাজের একাগ্রতা (খুশু-খুজু) বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত