Ajker Patrika

রুকুতে যেসব দোয়া পড়তে হয়

ইসলাম ডেস্ক 
রুকুতে যেসব দোয়া পড়তে হয়
নামাজ আদায় করছেন এক মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ কাজ।

রুকুতে কেবল শরীর নত করা নয়, বরং মহান রবের মহিমা বর্ণনায় তসবিহ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নত। অনেকে কেবল একটি তসবিহ জানলেও হাদিসে রুকুর আরও বেশ কিছু চমৎকার ও ফজিলতপূর্ণ দোয়ার বর্ণনা রয়েছে। আজ আমরা রুকুর তসবিহ ও রুকু থেকে ওঠার দোয়াগুলো বিস্তারিত জানব।

রুকুতে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ দোয়া ও তসবিহ

১. সাধারণ তসবিহ (সর্বনিম্ন তিনবার) :

سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيْمِ

উচ্চারণ: সুবহানা রব্বিয়াল আজিম।

অর্থ: আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।

২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পঠিত বিশেষ দোয়া:

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি (সা.) রুকুতে এই দোয়া বেশি পড়তেন—

سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي

উচ্চারণ: সুবহানাকাল্লাহুম্মা রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা; আল্লাহুম্মাগফিরলি।

অর্থ: হে আল্লাহ, হে আমাদের প্রতিপালক, আমি আপনার প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করে দিন। (সহিহ্ বুখারি: ৭৬১)

৩. আত্মসমর্পণের দোয়া:

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) রুকুতে এটিও পড়তেন—

اللَّهُمَّ لَكَ رَكَعْتُ وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ، خَشَعَ لَكَ سَمْعِيْ وَ بَصَرِيْ وَ مُخِّي وَ عَظْمِيْ وَ عَصَبِيْ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা রাকাআতু, ওয়াবিকা আমানতু, ওয়ালাকা আসলামতু। খাশাআ লাকা সাময়ি, ওয়াবাসারি, ওয়া মুখখি ওয়া আজমি, ওয়া আসাবি।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার জন্যই রুকু করলাম, আপনার ওপরই ইমান এনেছি, আপনার কাছেই নিজেকে সঁপে দিয়েছি। আপনার নিকট অবনত আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, মজ্জা, অস্থি ও শিরা-উপশিরা। (সহিহ্ মুসলিম)

রুকু থেকে ওঠার ও পরবর্তী দোয়া

রুকু থেকে ওঠার তসবিহ:

سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ

উচ্চারণ: সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ্।

অর্থ: যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তা শোনেন।

দাঁড়িয়ে পড়ার দোয়া (রুকু-পরবর্তী)

হাদিসে এসেছে, ইমাম যখন ‘সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন তোমরা বলবে—

رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ

উচ্চারণ: রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।

অর্থ: হে আমাদের প্রতিপালক, তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।

ফজিলতপূর্ণ অতিরিক্ত দোয়া

এক সাহাবি নামাজে রুকু থেকে উঠে বলেছিলেন—‘রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ, হামদান কাছিরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফিহি।’

নবীজি (সা.) পরে জানালেন, ৩০ জনের বেশি ফেরেশতা এই দোয়ার সওয়াব আগে লেখার জন্য প্রতিযোগিতা করছিলেন। (সহিহ্ বুখারি: ৭৬৩)

পবিত্রতা ও ক্ষমাপ্রার্থনার বিশেষ দোয়া

হজরত আবদুল্লাহ বিন আবি আউফা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) রুকু থেকে উঠে এই দোয়াও পড়তেন:

اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ وَالْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْوَسَخِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা তাহহিরনি বিছ্ছালজি ওয়াল বারাদি, ওয়াল মা-ইল বারিদি; আল্লাহুম্মা তাহহিরনি মিনাজ জুনু-বি ওয়াল খাতায়া, কামা ইউনাক্কিছ ছাওবুল আবইয়াদ্বু মিনাল ওয়াসাখ।

অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে পবিত্র করুন বরফ, শিলা ও ঠান্ডা পানি দিয়ে। হে আল্লাহ! আমাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন, যেভাবে সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে নির্মল করা হয়। (সহিহ্ মুসলিম: ৪৭৬)

নামাজকে প্রাণবন্ত ও কবুলযোগ্য করতে হলে রুকুতে তাড়াহুড়ো না করে খুশু-খুজু বা একাগ্রতার সঙ্গে এই দোয়াগুলো পাঠ করা উচিত। এতে কেবল সওয়াবই বাড়ে না, হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, বান্দার গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত