
প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহিনীকে মোকাবিলা করতে ইরান এখন বড় অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে ম্যানপ্যাড বা কাঁধে রেখে নিক্ষেপযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র। গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো মার্কিন বিমানবাহিনীকে যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি ক্ষতির সম্মুখীন করা ইরান এই ছোট কিন্তু বিধ্বংসী অস্ত্রের মাধ্যমেই আমেরিকার উন্নত যুদ্ধবিমানগুলোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
৩ এপ্রিল মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল এবং একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। অথচ এর মাত্র এক দিন আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা বা রাডার নেই এবং মার্কিন বিমানগুলো নিশ্চিন্তে তাদের মাথার ওপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ইরান সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটো ট্যাঙ্কার’ (জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান) ধ্বংস করেছে এবং আরও পাঁচটি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এ ছাড়া প্রায় ১০০ কোটি ডলার মূল্যের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ অ্যাওয়াক্স (উড়ন্ত রাডার) ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে কুয়েতে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে তিনটি এফ-১৫ই হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের স্থলভাগের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার এফ-৩৫ লাইটনিং।
কেন ভয়ংকর এই ম্যানপ্যাড
ম্যানপ্যাড বা ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম মূলত ইনফ্রারেড বা তাপ সংবেদনশীল পদ্ধতিতে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকারী ক্ষেপণাস্ত্র, যা একজন সৈনিক অনায়াসেই বহন করতে পারে। এটি সস্তা এবং সহজে লুকিয়ে রাখা যায় ও পরিবহন করা যায়।
এতে কোনো রাডার সিগনেচার না থাকায় মার্কিন মিসাইল এটিকে ট্র্যাক করতে পারে না। এটি কোনো স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয় না বলে এর অবস্থান শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। শব্দের দ্বিগুণ গতিতে ছুটতে সক্ষম এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত ৫ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত আঘাত হানতে পারে।
বর্তমানে মার্কিন বিমানগুলো অনেক ওপর দিয়ে উড়ে হামলা করায় এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অকার্যকর মনে হলেও, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে ‘গ্রাউন্ড ওয়ার’ বা স্থল অভিযান শুরু করে, তবে এই সমীকরণ বদলে যাবে। স্থল সেনাদের সহায়তার জন্য বিমানগুলোকে যখন নিচ দিয়ে উড়তে হবে, তখন পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকা ইরানি সেনাদের ম্যানপ্যাড হামলা মার্কিন এয়ারক্রাফটগুলোর জন্য যমদূত হয়ে উঠতে পারে।
চীন থেকে আসছে ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো ধারণা করছে, ইরান শিগগিরই চীন থেকে ১০০০-এর বেশি ম্যানপ্যাড পেতে যাচ্ছে। ট্রাম্পের রোষানল এড়াতে এগুলো সরাসরি না এসে মধ্য এশিয়ার কোনো প্রক্সি বা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানে পৌঁছাতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের ‘কিউডব্লিউ-২’ বা ‘কিউডব্লিউ-১৮’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেহরানে পাঠানো হচ্ছে, যা বর্তমানে তুর্কমিনিস্তান ব্যবহার করে।
তবে চীন ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র দেওয়ার খবরকে ‘বানোয়াট’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল (১৫ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে চিঠি লিখে ইরানকে অস্ত্র না দিতে অনুরোধ করেছিলেন এবং চিন পিং জবাবে জানিয়েছেন, তাঁরা ইরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছেন না। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র দিলে তাদের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইরানের শক্তির নেপথ্যে কি চীনের সহযোগিতা
সরাসরি স্বীকার না করলেও যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় চীনের ছাপ স্পষ্ট। এফ-১৫ই ভূপাতিত করার পর তেহরান দাবি করেছিল, তারা চীনের সহায়তায় তৈরি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালে আইআরজিসির হাতে আসা চীনা স্পাই স্যাটেলাইট ‘টিইই-০১বি’ ব্যবহার করে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এমনকি একটি চীনা ভিডিও থেকে তথ্য নিয়ে ইরান এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে আঘাত হেনেছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।
এ ছাড়া যুদ্ধের ঠিক আগে ইরান চীনের কাছ থেকে ‘সিএম-৩০২’ সুপারসনিক অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ মিসাইল কেনারও খুব কাছাকাছি ছিল। ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার এ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিচ দিয়ে দ্রুত উড়ে গিয়ে মার্কিন নৌবহরে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। যদি এ চুক্তি সম্পন্ন হয়ে থাকে, তবে তা মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সি চিনপিংয়ের ওয়াশিংটন বৈঠকের কয়েক দিন আগে আমি এনডিটিভিতে লিখেছিলাম, চীনের সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কতটা গুরুত্ব দেয়, এই শীর্ষ বৈঠক তা স্পষ্ট করে দেবে। আমি তিনটি সম্ভাব্য ফলাফলের কথা বলেছিলাম। ট্রাম্প চীনের কাছ থেকে বড় কোনো ছাড় আদায় করতে পারেন, দুই পক্ষ এমন
২ ঘণ্টা আগে
নাইকি এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্পোর্টস ব্র্যান্ড এবং বিশ্বজুড়ে তরুণদের মাঝে এর বিপুল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে একসময় যেভাবে বিশ্ববাজারে একক আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে যে বড় ধরনের চিড় ধরেছে তা স্পষ্ট।
১ দিন আগে
বাংলাদেশের বিশ্বের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) শিল্পের অন্যতম সাফল্যের গল্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার বদলে দেশটি এখন এই শিল্পের জন্য এক সতর্কবার্তায় পরিণত হচ্ছে।
২ দিন আগে
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া: দ্য সাপ্লাই অব ওয়েপনস অ্যান্ড মিউনিশসন টু ইসরায়েল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় চলমান ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক’ সামরিক অভিযানের পুরো সময়জুড়ে ভারত ইসরায়েলে কয়েক...
৫ দিন আগে