পবিত্র কোরআনের পাতায় বর্ণিত সেই বরকতময় ফলগুলো কি বাস্তবে এক আঙিনায় দেখা সম্ভব? পাকিস্তানের করাচির একটি মাদ্রাসা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে। উত্তর নাজিমাবাদের জামিয়া সাইফিয়া মাদ্রাসায় গড়ে তোলা হয়েছে এক বিস্ময়কর বাগান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাদিকাতুল কোরআন’ অর্থাৎ কোরআনের বাগান।

কোরআনের বাগানে জান্নাতি আবহ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ‘মাহাদুজ জোহরা’ ভবনের আঙিনায় পা রাখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় সবুজের সমারোহে। ইটের তৈরি নান্দনিক প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে দেখা মেলে ডালিম, বরই, কলা, আঙুর, ডুমুর আর জয়তুনের সারি সারি গাছ। গাছের গোড়ায় শোভা পাচ্ছে একটি করে স্টিলের ফলক। সেখানে গাছটির আরবি ও ইংরেজি নামের পাশাপাশি কোরআনের কোথায় এর নাম উল্লেখ আছে, তা নিখুঁতভাবে লিখে রাখা হয়েছে।
বাগানের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক আলী আসগর খাদেম জানান, করাচির আবহাওয়া সব গাছের জন্য অনুকূল না হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা বিশেষ যত্নে এগুলো রোপণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কেবল বাগান করা নয়; বরং কোরআনি ফলের পসরা এখানে সাজিয়ে তোলা।’ এমনকি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে করাচির মাটিতে জয়তুনের চাষও তাঁরা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা
১৯৮৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই বাগানের পরিচর্যা করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাই। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁরা সমাজকে একটি বার্তা দিতে চান—মাদ্রাসার ছাত্ররা কেবল কিতাবি পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং পরিবেশ রক্ষা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডেও তাঁরা সমান দক্ষ। জলবায়ু পরিবর্তনের এই কঠিন সময়ে গাছ লাগানোকে তাঁরা ‘সদকায়ে জারিয়া’ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ন্যাশনাল হর্টিকালচারাল সোসাইটি অব পাকিস্তান কর্তৃক আয়োজিত প্রতিযোগিতায় এই ‘হাদিকাতুল কোরআন’ দুবার শীর্ষ পুরস্কারও জয় করেছে।
কোরআনে বর্ণিত হয়েছে যেসব ফলের নাম
প্রশংসা কুড়াচ্ছে হাদিকাতুল কোরআন
স্থানীয় পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে ধর্মীয় ভাবধারা ও বিশেষ ভাবনায় বাগান করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের আগ্রহ বহুগুণ বেড়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা করাচির এই মডেলকে সারা বিশ্বের মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন যখন এক বিশাল সংকট, তখন গাছ লাগানো অন্যতম বড় সদকায়ে জারিয়া। করাচির এই ‘হাদিকাতুল কোরআন’ একদিকে যেমন পরিবেশকে পরিচ্ছন্ন রাখছে, অন্যদিকে কোরআনের বর্ণিত ফলগুলো স্বচক্ষে দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে।
তথ্যসূত্র: ইনডিপেনডেন্ট উর্দু

সুরা কাফিরুন কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত। ফজিলতের দিক থেকে এ সুরা পাঠ করলে কোরআনের এক-চতুর্থাংশ তিলাওয়াতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
৭ ঘণ্টা আগে
সুরা নাসর (سورة النصر) পবিত্র কোরআনের ১১০ তম সুরা। এটি পবিত্র মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সুরা। মাত্র ৩টি আয়াতের এই ছোট সুরাটিতে ইসলামি মিশনের পূর্ণতা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইহকাল ত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একে ‘সুরা তাওদি’ বা বিদায়ের সুরা নামেও অভিহিত করা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়তে সহবাসের পর গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা—যেমন: এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম হলো, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া ফরজ। নবী করিম (সা.) এবং সালফে সালেহিনের আমল অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নেওয়াটাই সুন্নাহ...
১১ ঘণ্টা আগে
পাপের প্রতি ঝোঁক মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের অন্তরে পাপকাজের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভুল করে, গোনাহে জড়িয়ে পড়ে, এটিই মানবিক বাস্তবতা। কিন্তু মানুষের এই দুর্বলতার পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় দিয়েছেন অসীম দয়ালু ও পরম ক্ষমাশীল হিসেবে।
১১ ঘণ্টা আগে