Ajker Patrika

স্বপ্নদোষ হলে পবিত্র হওয়ার উপায় কী

ইসলাম ডেস্ক
স্বপ্নদোষ হলে পবিত্র হওয়ার উপায় কী
ছবি: সংগৃহীত

মানবদেহের স্বাভাবিক ও অনৈচ্ছিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হলো স্বপ্নদোষ। ছেলে বা মেয়ে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া একটি চিরন্তন স্বাভাবিক ঘটনা, যাতে মানুষের কোনো হাত থাকে না। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষের পর সঠিক নিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ০৬)

স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল ফরজ হয়

শরিয়তের নিয়ম হলো, স্বপ্নে কোনো যৌন উদ্দীপক দৃশ্য দেখলেই মানুষ অপবিত্র হয়ে যায় না। যতক্ষণ না শরীর বা কাপড়ে বীর্য, যোনিরস বা নাপাকির নিশ্চিত কোনো চিহ্ন দেখা যাবে, ততক্ষণ গোসল ফরজ হবে না।

ছেলেদের ক্ষেত্রে বীর্য নির্গত হলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখার পর যোনিদেশ ভিজে গেলে বা সিক্ততা পাওয়া গেলে গোসল ফরজ হয়। হজরত উম্মে সুলাইম (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার ওপর গোসল ফরজ হয়?’ আল্লাহর রাসুল (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, যদি সে পানি (ভেজা বা সিক্ততা) দেখতে পায়।’ (সহিহ্‌ বুখারি)

অপবিত্র অবস্থায় কী করা যাবে, কী যাবে না?

গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় নামাজ পড়া, কাবা শরিফ তাওয়াফ করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, কোরআন স্পর্শ করা এবং মসজিদে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

তবে গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় জিকির-আজকার করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম করা এবং পানাহার করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে সরে গিয়েছিলেন। পরে গোসল করে এলে নবীজি (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো (স্থায়ীভাবে) নাপাক হয় না।’ (সহিহ্‌ বুখারি)

গোসল ফরজ অবস্থায় যদি কেউ তৎক্ষণাৎ গোসল না করে ঘুমাতে বা পানাহার করতে চায়, তবে তার জন্য উত্তম হলো—প্রথমে গোপনাঙ্গ ধুয়ে নেওয়া এবং নামাজের অজুর মতো পূর্ণাঙ্গ অজু করে নেওয়া। (সহিহ্‌ মুসলিম)

লজ্জা বা অবহেলায় নামাজ কাজা করার পরিণতি

স্বপ্নদোষ হওয়া কোনো পাপ নয়, কিন্তু এরপর বিনা ওজরে অপবিত্র থাকা এবং নামাজ কাজা করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়াও চরম শাস্তির কারণ। এ ক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা পাওয়া কিংবা ‘গোসলের উপযুক্ত পরিবেশ নেই’ মনে করা শরিয়তসম্মত কোনো ওজর বা অজুহাত হতে পারে না। (বাদায়েউস সানায়ে)

স্বপ্নদোষ হলে কি রোজা ভেঙে যায়?

যেহেতু স্বপ্নদোষ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাই স্বপ্নদোষের কারণে রমজান বা নফল রোজা ভঙ্গ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়—বমি করা, শিঙা লাগানো এবং স্বপ্নদোষ।’ (জামে তিরমিজি)

স্বপ্নদোষ হলে ফরজ গোসল করবেন যেভাবে

গোসল ফরজ হলে শরীরের এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনো থাকলে পবিত্রতা অর্জিত হয় না। তাই নিচে বর্ণিত সুন্নাহ অনুযায়ী গোসল করতে হবে:

  1. মনে মনে পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।
  2. দুই হাত কবজি পর্যন্ত ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া।
  3. শরীর বা কাপড়ে লেগে থাকা নাপাকি ও লজ্জাস্থান ধুয়ে পরিষ্কার করা।
  4. নামাজের অজুর মতো করে পূর্ণাঙ্গ অজু করা।
  5. মাথায় পানি ঢেলে ভালোভাবে চুল ও মাথার ত্বক ভিজিয়ে নেওয়া।
  6. প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাঁ অংশে পানি ঢালা।
  7. সবশেষে সারা দেহে পানি ঢেলে এমনভাবে ধোয়া যাতে কোনো অংশ শুকনো না থাকে।
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত