মানবদেহের স্বাভাবিক ও অনৈচ্ছিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া হলো স্বপ্নদোষ। ছেলে বা মেয়ে বালেগ বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হওয়া একটি চিরন্তন স্বাভাবিক ঘটনা, যাতে মানুষের কোনো হাত থাকে না। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে স্বপ্নদোষের পর সঠিক নিয়মে পবিত্রতা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আর যদি তোমরা অপবিত্র হও, তবে সারা দেহ পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ০৬)
শরিয়তের নিয়ম হলো, স্বপ্নে কোনো যৌন উদ্দীপক দৃশ্য দেখলেই মানুষ অপবিত্র হয়ে যায় না। যতক্ষণ না শরীর বা কাপড়ে বীর্য, যোনিরস বা নাপাকির নিশ্চিত কোনো চিহ্ন দেখা যাবে, ততক্ষণ গোসল ফরজ হবে না।
ছেলেদের ক্ষেত্রে বীর্য নির্গত হলে এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখার পর যোনিদেশ ভিজে গেলে বা সিক্ততা পাওয়া গেলে গোসল ফরজ হয়। হজরত উম্মে সুলাইম (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘কোনো নারীর স্বপ্নদোষ হলে কি তার ওপর গোসল ফরজ হয়?’ আল্লাহর রাসুল (সা.) উত্তর দিয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, যদি সে পানি (ভেজা বা সিক্ততা) দেখতে পায়।’ (সহিহ্ বুখারি)
গোসল ফরজ হওয়া অবস্থায় নামাজ পড়া, কাবা শরিফ তাওয়াফ করা, কোরআন তিলাওয়াত করা, কোরআন স্পর্শ করা এবং মসজিদে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
তবে গোসল ফরজ থাকা অবস্থায় জিকির-আজকার করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, ঘরের স্বাভাবিক কাজকর্ম করা এবং পানাহার করায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। আবু হুরায়রা (রা.) জানাবাত (অপবিত্র) অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছ থেকে সরে গিয়েছিলেন। পরে গোসল করে এলে নবীজি (সা.) বলেন, ‘সুবহানাল্লাহ, মুমিন কখনো (স্থায়ীভাবে) নাপাক হয় না।’ (সহিহ্ বুখারি)
গোসল ফরজ অবস্থায় যদি কেউ তৎক্ষণাৎ গোসল না করে ঘুমাতে বা পানাহার করতে চায়, তবে তার জন্য উত্তম হলো—প্রথমে গোপনাঙ্গ ধুয়ে নেওয়া এবং নামাজের অজুর মতো পূর্ণাঙ্গ অজু করে নেওয়া। (সহিহ্ মুসলিম)
স্বপ্নদোষ হওয়া কোনো পাপ নয়, কিন্তু এরপর বিনা ওজরে অপবিত্র থাকা এবং নামাজ কাজা করা মারাত্মক গুনাহের কাজ। অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়াও চরম শাস্তির কারণ। এ ক্ষেত্রে তীব্র লজ্জা পাওয়া কিংবা ‘গোসলের উপযুক্ত পরিবেশ নেই’ মনে করা শরিয়তসম্মত কোনো ওজর বা অজুহাত হতে পারে না। (বাদায়েউস সানায়ে)
যেহেতু স্বপ্নদোষ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাই স্বপ্নদোষের কারণে রমজান বা নফল রোজা ভঙ্গ হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়—বমি করা, শিঙা লাগানো এবং স্বপ্নদোষ।’ (জামে তিরমিজি)
গোসল ফরজ হলে শরীরের এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনো থাকলে পবিত্রতা অর্জিত হয় না। তাই নিচে বর্ণিত সুন্নাহ অনুযায়ী গোসল করতে হবে:

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৩ ঘণ্টা আগে
যেকোনো কঠিন বিপদে আল্লাহর দিকে ফিরে আন্তরিকভাবে দোয়া করা নবী-রাসুলদের অন্যতম সুন্নত। আর এমনই এক মহিমান্বিত ও বরকতময় আমল হলো ‘দোয়া ইউনুস’। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়ার ফজিলত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন।
১ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে
যারা আগেভাগে মসজিদে আসে এবং খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে—তাদের জন্য রয়েছে অতুলনীয় সওয়াবের প্রতিশ্রুতি। এমনকি কারও নামের পাশে লেখা হতে পারে উট সদকার সওয়াবও! হাদিস ও কোরআনের আলোকে আমরা জেনে নিতে পারি—এই দিনটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তা কীভাবে যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়।
২ দিন আগে